জ্বলন্ত বুলন্দশহর দেখল যোগীর ‘নিরো’ অবতার

0
35

গোটা রোম যখন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিল, সম্রাট নিরো তখন মগ্ন হয়ে বেহালা বাজাচ্ছিলেন। ঠিক তেমনই সোমবার বুলন্দশহর যখন জ্বলছিল, তখন বুঁদ হয়ে লেজার-শো দেখছিলেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ!
দু’দিন আগেই খবরের শিরোনামে এসেছিল উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর। জানা গিয়েছিল,

নিজস্ব প্রতিনিধি : সংখ্যালঘুদের তিন দিনের ধার্মিক অনুষ্ঠান ‘ইজতেমা’র জন্য লক্ষ লোকের ভিড় হয়েছে ওই শহরে। আর সেই সকল মানুষকে নমাজ পড়ার জন্য শনি মন্দির খুলে দিয়েছেন হিন্দুরা।

কিন্তু গতকালের শিরোনামে একদম উলট পুরাণ। গো-তাণ্ডবে হত পুলিশ-সহ দু’জন। পুড়েছে পুলিশ ফাঁড়ি। আগুন লাগানো হয়েছে পুলিশের ভ্যানে। আর রাজ্যে যখন এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি, মুখ্যমন্ত্রী যোগী তখন গোরক্ষপুরে ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহের সঙ্গে প্রফুল্ল চিত্তে লেজার শো দেখছেন! কবাডি খেলায় মাতছেন!

বেগতিক দেখে অবশ্য আজ রাতে তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকেছেন যোগী। যদিও ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামার আগেই তাঁর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে একপ্রস্থ সমালোচনার ঝড়। তাঁকে বিঁধে আসর গরম করে ফেলেছে বিরোধীরা।

গতকালের তাণ্ডবের জন্য অভিযোগের আঙুল উঠছে বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং সরকারে আসীন বিজেপির দিকেই। গ্রামবাসীদের কথায়, ক’দিন আগে সম্প্রীতির নজির গড়া বুলন্দশহরে আচমকাই গবাদি পশুর মৃতদেহ ঘিরে হাঙ্গামা শুরু হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেও কোনও লাভ হয়নি।

এর কয়েক ঘণ্টা পরেই হঠাৎ গ্রামের বাইরে থেকে বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা এসে তাণ্ডব শুরু করে। যার মূল পাণ্ডা ছিলেম বজরং দলের যোগেশ রাজ। এতেই প্রাণ হারান পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিংহ। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এফআইআর-এ নাম নেই কোনও সংগঠনের!
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী টুইটারে লেখেন, ‘মোদী-যোগী রাজ্যে পুলিশেরই যখন এই হাল, তখন সাধারণ মানুষের কী অবস্থা!’ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলের কথায়, ‘যোগী ভোটে বিষ ছড়াচ্ছেন, আর ভিড়ের হাতে আইনের ভার তুলে দিয়েছেন। ভি়ড় আখলাকের তদন্তকারী অফিসারকে মেরে দিল!’ মায়াবতীও বলেন, ‘বিজেপির মদতেই উত্তরপ্রদেশে এখন জঙ্গলরাজ চলছে।’

তবে এরই মাঝে যোগীর মন্ত্রী তথা শরিক দলের নেতা ওম প্রকাশ রাজভর বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। বিরোধীদের অভিযোগকেই একপ্রকার স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ সব বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আরএসএসের কাণ্ড। এখন তো পুলিশ বিজেপি নেতাদেরও নাম নিচ্ছে।’
বজরং দলের নেতা শৈলেন্দ্র জৈন আবার সাফাই গেয়ে বলেন, ‘গোটাটাই প্রশাসনের ব্যর্থতা। গত তিনদিনে হিন্দুদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।’ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতাদের মধ্যে একমাত্র সংখ্যালঘু মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভিই মুখ খুলেছেন। ‘এটা মানবতার পরাজয়’ বলেই দায় ঝেড়ে ফেলতে চেষ্টা করেন তিনি।

তবে মুখে কুলুপ এঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী-সহ দলের অন্যান্য হেভিওয়েট নেতারা। বিরোধীদের ক্ষোভ, পুলিশ খুন নিয়ে মুখ খুললেন না মোদী, অথচ প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার বিয়েতে চলে গেলেন তিনি! অন্যদিকে জ্বলন্ত বুলন্দশহরের দিক থেকে চোখ সরিয়ে ‘নিরো অবতার’-এ লেজার-শো দেখতে মশগুল যোগী! সকলেরই এক প্রশ্ন, বুলন্দশহরের মতো এমন ‘আচ্ছে দিন’ কি এবার গোটা দেশকেই দেখতে হবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here