হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও সস্ত্রীক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ৭ দিন পর্যবেক্ষণে থাকবেন বাড়ির কাছাকাছি এক নার্সিং হোমে

0
25

নিজস্ব সংবাদদাতা # বুধবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন সস্ত্রীক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

তবে এখনই পাম এভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফিরতে পারছেন না।

ডাক্তারদের পরামর্শে পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের আপাতত দক্ষিণ কলকাতার এক সেফ হোমে থাকতে হবে।

স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যও তাঁর সঙ্গে সেফ হোমে থাকবেন।

এদিন উডল্যান্ডস থেকে মেরিল্যান্ড নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। জানা যাচ্ছে বুদ্ধবাবুর মত তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য এবং সহকারী তপনবাবু পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে এখন  ফিরছেন না।

সিআইটি রোডের মেরিল্যান্ড নার্সিংহোমে আপাতত তাঁদের তিনজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বুদ্ধবাবুর সহকারী তপনবাবু সুস্থ হলে তাঁদের পাম অ্যাভিনিউয়ের  বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।

জানা যাচ্ছে আপাতত সাত দিন সেফ হোমেই থাকবেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

উডল্যান্ডস হাসপাতাল সূত্রে যে মেডিক্যাল বুলেটিন বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে তাতে জানা যাচ্ছে, এখন সুস্থ রয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।তাঁর রক্কচাপ ও হার্টরেটও স্বাভাবিক রয়েছে।

৭৭ বছরের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের এক্স-রে রিপোর্টে তেমন কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে এখনও সামান্য আচ্ছন্ন ভাব রয়েছে।

বুধবার সকালের মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী, নিজেই খাবার খাচ্ছেন বুদ্ধবাবু।  তাঁর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা আপাতত নিয়ন্ত্রণে। সচেতন রয়েছেন, কথাবার্তাও বলছেন। বর্তমানে তাঁর রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ ৯৬ শতাংশ। ফলে কমেছে কৃত্রিম অক্সিজেনের চাহিদা। তবে এখনও কিছুটা শ্বাসকষ্ট রেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬৫। রক্তচাপও অনেকটাই স্বাভাবিক। প্রস্রাবেও কোনও সমস্যা নেই। ইতিমধ্যে তাঁর রেমডেসিভিরের কোর্স শেষ হয়েছে।

গত কয়েকদিন  বুদ্ধবাবুর শুকনো কাশি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন চিকিৎসকরা। তবে এখন তা অনেকটাই কমে গিয়েছে। হাসপাতাল জানাচ্ছে, তাঁর বুকের সংক্রমণ আগের তুলনায় খারাপ দিকে গড়ায়নি। পরিস্থিতি যা তাতে এবার তাঁর স্টেরয়েডের মাত্রা কমিয়ে আনা হতে পারে। এমনকী, ইনজেকশনের বদলে ওষুধ আকারে দেওয়া হতে পারে স্টেরয়েড।

রাতে ভাল ঘুমও হচ্ছে বুদ্ধবাবুর। এই অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে এবং তাঁর সম্মতিতে আপাতত সিআইটি রোডের একটি সেফ হোমে কয়েকদিন থাকবেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

গত ১৮ মে করোনা  আক্রান্ত হন সস্ত্রীক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।  এরপর ২৫মে শারীরিক অবস্থার সামান্য অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

তাঁর চিকিৎসার গঠিত মেডিক্যাল   বোর্ডে ছিলেন কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান কৌশিক চক্রবর্তী, কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান ধ্রুব ভট্টাচার্য, কনসালট্যান্ট ক্রিটিক্যাল কেয়ার  সৌতিক পান্ডা, চেস্ট স্পেশ্যালিস্ট অঙ্কন বন্দ্যোপাধ্যায়, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরোজ মন্ডল, অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট আশিস পাত্র এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হোম ফিজিশিয়ান সোমনাথ মাইতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here