প্রেমে আপত্তি পরিবারের, বিয়ে দিতে নারাজ বাবা-মা। তাই শেষ পর্যন্ত চরম পথ বেছে নিল যুগল। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যা করলেন ২১ বছরের যুবক এবং বছর পনেরোর তরুণী। কোচবিহারের ঘোকসাডাঙার এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া।

২১ বছরের গোপাল বর্মন কোচবিহারের ঘোকসাডাঙার কুশিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। বছর দুই আগেই ডিএলএড পড়তে জলপাইগুড়িতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান তিনি। সেখান থেকেই গোপাল পড়াশোনা করছিলেন গত দু’বছর। ওই আত্মীয়রই পরিবারের সদস্যা বছর পনেরোর অর্পিতা বর্মন। বয়সে ছোট হলেও সম্পর্কে গোপালের মাসি হত সে।

ঘটনাচক্রে সেই মাসির সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় ওই যুবক। সূত্রের খবর, পড়াশোনার জন্য অর্পিতাদের বাড়িতে যাওয়ার আগেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল গোপালের। সোশ্যাল মিডিয়াতেও কথাবার্তা হত। গোপাল জলপাইগুড়ি যাওয়ার পর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একে অপরকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন গোপাল ও অর্পিতা।

তবে, সরাসরি নিজের বাড়িতে কিছু জানানোর সাহস হয়নি কিশোরীর। সে রবিবার জলপাইগুড়ি থেকে সোজা কোচবিহার চলে আসে। গোপালদের বাড়িতে এসে তাঁকে বিয়ে করার দাবি জানায়। কিন্তু গোপালের পরিবার এই বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। আপত্তি জানিয়েছে অর্পিতার নিজের পরিবারও। এরপর শুক্রবার সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ছবি পোস্ট করেন গোপাল। অর্পিতার সঙ্গে একটি ছবি আপলোড করে তার ক্যাপশনে লেখেন ‘আজ আমরা স্বর্গে যাচ্ছি’।

তখনও অবশ্য আন্দাজ করা যায়নি চরম পদক্ষেপ করতে চলেছে এই প্রেমিক যুগল। ঘণ্টাতিনেক পর রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ঘোকসাডাঙা রেল স্টেশনের অদূরেই একটি মালগাড়ির সামনে ঝাঁপ দেয় দু’জনে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের। দেহ দুটি উদ্ধার করে কোচবিহার গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here