কুচবিহারে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ দাবি বিজেপির

0
34

কুচবিহার:দিনহাটা সহ কোচবিহারের বেশীর ভাগ এলাকাকে উপদ্রুত ঘোষণা করে শান্তি ফেরাতে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করুক। বৃহস্পতিবার কোচবিহারে দলের একটি পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে এমনটাই বললেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই দিনহাটায় রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী সংঘর্ষ চলছে। একের পর এক সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই তিন জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে পরপর দুবার কোচবিহারে এসে দিনহাটার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবার দিনহাটায় টানা চলতে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনাকে ইস্যু করল বিজেপিও।
বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “দিনহাটা সহ কোচবিহারের বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূল তৃণমূলকে মারছে। বোমা মেরে তাঁদের এক গোষ্ঠী আরেক গোষ্ঠীর মঞ্চ জালিয়ে দিচ্ছে। মন্ত্রীর পিঠের চামড়া তুলে নিতে চাচ্ছে। বিরোধীদের তো কথাই নেই। এই অবস্থায় কোচবিহারকে উপদ্রুত এলাকা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হোক।”
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের নাম না করে তাঁকে বিঁধেছেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। তিনি বলেন, “তৃণমূলের এখানকার মন্ত্রীর পিঠের চামড়া তুলে নিতে চাইছেন তৃণমূলেরই লোক। এরপরেও তিনি মন্ত্রী পদ আকরে ধরে আছেন। লাজলজ্জা আছে কি নেই? এক কান কাটা থাকলে মানুষ দেওয়াল ঘেঁসে যায়। আর তাঁর তো দুই কানই কাটা। তবু রাস্তার মাঝখান দিয়ে যাচ্ছেন।” তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য বিজেপির ওই বক্তব্য গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের দাবি, এই জেলায় সংগঠন নেই বিজেপির। দুই চার জন লোক নিয়ে মিছিল করে কিছু ভুলভাল কথা বলে খবর হতে চাইছে। এদের গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। এদিন ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, পশ্চিমবঙ্গ বাঁচাও’য়ের ডাক দিয়ে কোচবিহারে পদযাত্রা করে বিজেপি। কোচবিহারের রাজারহাট থেকে ব্যাপক জমায়েত করে ওই পদযাত্রা শুরু হয়। কোচবিহার জেলা শাসকের দফতরের সামনে এসে ওই পদযাত্রা শেষ হয়। ওই পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, জেলা সভাপতি মালতি রাভা, প্রাক্তন তিন জেলা সভাপতি হেম চন্দ্র বর্মণ, নিত্যানন্দ মুন্সি ও নিখিল রঞ্জন দে সহ বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব। কোচবিহার রথযাত্রা করতে চেয়েও শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় পক্ষে না যাওয়ায় বিজেপি তা আজও করতে পারে নি। ওই রথযাত্রার বদলে এদিন পদযাত্রা করে কর্মীদের মন চাঙ্গা করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন ওই মিছিলের জেরে কোচবিহার শহরের বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। মিছিল শেষ হওয়ার পর যানজট মুক্ত হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here