নিজস্ব প্রতিনিধি, মহম্মদবাজার, বীরভূম পুলিশ বেইমানের জাত। ওদেরকে মারুন কিছু হবে না”। বীরভূমে মহম্মদবাজারের শ্রীকান্তপুরে প্রকাশ্য জনসভা থেকে পুলিশেকে উদ্দেশ্যে করে এমনই এক মন্তব্য করলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কালোসোনা মণ্ডল।

গতকাল ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়, লকেট চ্যাটার্জি, কালোসোনা মণ্ডল সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব।

গতকাল প্রকাশ্য জনসভায় কালোসোনা মণ্ডল বলেন, “খেজুর গাছ থেকে সহজে কিছুই পাবেন না। কিন্তু আপনি যখন পাশি ডাঙ, হেসো নিয়ে চাঁচেন তখন গলগল করে রস দেয়।

পুলিশও তাই। পুলিশকে যদি হেসো দেখাতে পারেন তাহলে কাজ করবে। নাহলে কিছু করবে না।আমাদের জেলায় যে পুলিশগুলো আছে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাবেন না। ওদের জন্য ডাঙ চাই, হেসো চাই, তাহলে ওরা সব কাজ করবে। ওরা অনেকটা খেজুর গাছের মতো। আমি জোর গলায় বলছি, পুলিশকে মারলে কিছুই হবে না। দেখলেন না বীরভূমে দুবরাজপুরে এসআইকে কীভাবে খুন করলেন তৃণমূল কর্মীরা।

কারোর সাজা হল? হয়নি। আর আপনাদের বলছি, আপনারা টিএমসি কর্মীদেরকে মারবেন না। ওদের মারলে আপনার নামে কেস হবে। ওরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী তো নয়। পুলিশ হচ্ছে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী। পুলিশকে মারুন। কিছুই হবে না”।

কালোসোনাবাবু পুলিশদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “বাম আমলে দেখেছিলাম মেটিয়াব্রুজ়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা কে ছুটিয়ে ছুটিয়ে খুন করা হয়েছিল।এই অপরাধে কারোর সাজা হয়নি। আসলে পুলিশ হচ্ছে একটা বেইমানের জাত। একটা কাকও অন্য কাককে বাঁচায়। কিন্তু পুলিশ তার নিজের সহকর্মীদেরও বাঁচায় না।”

এরপরেই সভামঞ্চে বক্তব্য রাখেন বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জি তিনি বলেন, “ভেঙে দিন, গুঁড়িয়ে দিন। কোনও প্রশাসন কিচ্ছু করতে পারবে না। কারণ আমরা দেখেছি প্রশাসন ঠুঁটো জগন্নাথ।”

তৃনমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে কটাক্ষ করে লকেট চ্যাটার্জি বলেন, “যেসব নোংরা ভাষায় মহিলাদের অপমান করে, যে সারা বাংলার মানুষকে অপমান করে, সে হচ্ছে বীরভূমে তৃণমূলের দাদা। তাকে নাকি সব মানতে হবে, আমাদের সম্মান করতে হবে।”
এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে লকেট চ্যাটার্জি বলেন, “স্টেজে উঠে চারটে কথা বলে বাড়ি চলে গেলাম তারপর যা কিছু হোক আমরা তা দেখব না। যখন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মহিলাদের পাশে দাঁড়ান না। তখন বাংলার মহিলাদের পরস্পরের বিপদে আপদে এক হতে হবে। এরকম সরকার আমরা চাই না। যারা মহিলাদের সুরক্ষা দেবে, শিক্ষিত করবে সেরকম সরকার চাই। বিজেপি সরকার আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের সুরক্ষা দিয়ে দেখিয়ে দেবে আসলে মহিলার সুরক্ষা কাকে বলে।”
লকেট চ্যাটার্জি আরও বলেন, “পরিবাারকে বাঁচাতে গেলে মহিলাদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। কারণ আমরা জানি নারীর জাত বড় জাত। তারা পরিবার ও নিজেদের রক্ষা করতে পারে। দরকার হলে সমাজকেও রক্ষা করতে পারে।”
বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা অনামিকা ঘোষ বলেন, “আমি তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলছি, যদি কেউ বিজেপি কর্মীদের গায়ে হাত দেন, তাহলে হাত ভেঙে দেব।আর কেউ যদি বিজেপি কর্মীদের দিকে চোখ রাঙান তাহলে সেই চোখ আমি উপড়ে নেব”।
জানা গেছে যে, বীরভূমে মহম্মদবাজার ব্লকের রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জয়ী বিজেপি ও বাকি তিনটিতে জয়ী তৃনমূল। তাই কে বোর্ড গঠন করবে সেই নিয়ে দুই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গভীর জল্পনা। প্রশাসনের তরফ থেকে এই বিষয়ে তিনবার বোর্ড গঠনের দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও দুই দলের মধ্যে কোন দলের প্রার্থীই নির্দিষ্ট জায়গায় উপস্থিত হয়নি। ফলে ভোটের পর থেকেই থমে গেছে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ার কাজকর্ম। নতুন বিজেপির দুই জয়ী প্রার্থী তৃণমূলে যোগ দেন। বাহাত্তর ঘণ্টা যেতে না যেতেই ওই দুই প্রার্থী ফের বিজেপিতে ফিরে আসেন। তাই প্রশাসক বসিয়েই চলছে রামপুর পঞ্চায়েতের যাবতীয় কাজকর্ম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here