বেঙ্গল ওয়াচ ডেক্স :বিজেপি ও তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই চালাবে সিপিআইএম। এমনটাই মন্তব্য করেছেন রাজ্য সিপিএম সম্পাদক মহঃ সেলিম। তিনি বলেছেন সিপিআইএম কোনও মেকি বিরোধী নয়। পাশাপাশি তিনি আরএসএসকে প্রধান শত্রু হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন।

তৃণমূলের কাছে শাসন ক্ষমতা হারানোর আগে রাজ্যে টানা ৩৪ বছর শাসন করেছে সিপিআইএম-এর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। সেই সময় শিক্ষিত এবং বাম-আদর্শগত ধারায় যাঁরা উঠে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মহঃ সেলিম। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সাংসদও।
সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে দেশের সামনে সব থেকে বড় বিপদ হল আরএসএস। এই সংগঠন দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ানো নীতিগুলির পক্ষে বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, এরা ছদ্ম বিজ্ঞান এবং পৌরানিক কাহিনী নির্ভর। দেশে এরা ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করেছে। এসবের বিরুদ্ধে সিপিআইএম লড়াই করছে বলে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনী লড়াইয়ে ক্ষেত্রে সিপিআইএম বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন মহঃ সেলিম। তিনি বলেছেন, সিপিআইএম এদের মেকি বিরোধী নয়। তারা উভয়ের বিরোধিতায় সামিল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এব্যাপারে বলে রাখা ভাল রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই, তাদের প্রধান শত্রু কে তা ঠিক করে উঠতে পারেনি সিপিআইএম। যার জেরে ২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পরে ভোটার ও কর্মীদের থেকে দূরে সরেছে সিপিআইএম। এছাড়াও বামদলগুলির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই সরেছেন তৃণমূল কিংবা বিজেপির দিকে।

১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯-এ রাজীব গান্ধীর শাসনের সময়েই উঠে আসে রামমন্দির নিয়ে আন্দোলন, অন্যদিকে মণ্ডল কমিশন লাগুর দাবি। এর জেরে বিহার-উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্য থেকে কংগ্রেস কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। পূর্ব ইউরোপ থেকেই কমিউনিজম প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। কিন্তু সেই সময় তো বটেই পরবর্তী অনেকগুলি বছর পশ্চিমবঙ্গে বামেদের দুর্গ হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের আন্দোলন এবং বিজেপির উত্থানে সিপিআইএম-এর ভোটে ভাগ বসায়।

মহঃ সেলিম কটাক্ষ করে বলেছেন, তৃণমূল কোনওভাবেই আদর্শগত দল নয়। যে কারণে তারা অন্য দল থেকে লোক নিয়ে গিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, তৃণমূলে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁরা আরএসএস, মুসলিম লিগ কিংবা ব্যর্থ নকশালরা। এঁরা মূলত সিপিআইএম এবং পূর্বতন বাম সরকারকে অপছন্দ করতেন। সেলিম তথ্য দিয়ে বলেছেন মুসলিম লিগ এবং বিজেপির সংখ্যালঘু সেল তৃণমূলের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গিয়েছিল। যদিও সারা দেশে সিপিআইএম-এর শক্তি সারা দেশে হ্রাস পেয়েছে। ২০০৪ সালে সারা দেশ থেকে সংসদে যেখানে ৫৯ জন বাম সাংসদ ছিলেন (এর মধ্যে ৩৫ জন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে), সেখানে বর্তমানে এই রাজ্য থেকে লোকসভা কিংবা বিধানসভায় কোনও বাম সদস্য নেই। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর বছরেও যেখানে বামেদের ভোট ছিল ৩০.১ শতাংশ, সেখানে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তা নেমে এসেছে ৫ শতাংশের নিচে। তবে তারপরে বাংলায় তরুণ নেতা-কর্মীদের ওপরে ভরসা করে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে সিপিআইএম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here