বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় প্রথম অযোধ্যা পাহাড়কে কেন্দ্র করে একটা ট্যুরিস্ট স্পট করার পরিকল্পনা নিলেও তখন তা বাস্তবায়িত হয় নি।পরে অযোধ্যা পাহাড় হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ট্যুরিস্ট স্পট।

 

 

 

সবুজে ঘেরা এই পাহাড় আসলে ছোটনাগপুর মালভুমির অংশ।প্রকৃতি অকৃপণভাবে সাজিয়েছে এই পাহাড়কে।একদিকে বাঘমুন্ডি অপরদিকে সিরকাবাদ।দু’দিক দিয়েই ওঠা যায় পাহাড়ে।সমস্ত পাহাড় জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে শাল,মহুয়া,শিরীষ,সেগুন, পলাশ ও অন্যান্য অজস্র গাছ।পাহাড়ে উঠতে গিয়ে পাবেন একাধিক পাহাড়ি ঝর্ণা – যা আপনার পা ধুইয়ে নীচে নেমে গেছে।আপনার ঘুম ভাঙাবে পাখির ডাকে।শুধু অযোধ্যা পাহাড় বেড়ানোর জন্য দিন দুই সময় হাতে থাকলেই হয়।
এই পাহাড়ের উচ্চতম শৃঙ্গ গোর্গাবুরু(২৮৫০ ফুট)।মোটামুটি ৩৪৫১৭ একর এই পাহাড়ের অরণ্যে রাতের দিকে ভালুক,বুনো শুয়োর,হরিণ, নেকড়ে,হয়না বাঁদর ও মাঝে মাঝে দলমা থেকে নেমে আসে হাতির দল।ভাগ্য ভালো থাকলে চোখে পড়ে যেতে পারে এখন কোনো প্রাণী।
তুর্গা ও বামনি ফলস আপনাকে মুগ্ধ করবে।এছাড়া নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আপার ড্যাম ও লোয়ার ড্যাম আপনাকে দেখতেই হবে।আর দেখতে হবে ময়ূর পাহাড়।অচিরেই আছে ‘কুমির হা’ গুহা।এই সব দেখে বাঘমুন্ডির অদূরে চেড়দা গ্রামে একবার অবশ্যই ঘুরে আসবেন।এখানেই তৈরি হয় পুরুলিয়া খ্যাত ছৌ নাচের মুখোশ।অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণের স্মৃতি হিসাবে ঘরের দেওয়ালে সেই মুখোশ টাঙিয়ে রাখতে পারেন।এছাড়া সামান্য দূরে আছে সীতাকুন্ড।শোনা যায় রামচন্দ্র অজ্ঞাতবাসে থাকাকালীন পথশ্রান্ত হয়ে এখানে কিছু সময় বিশ্রাম নেয়।তখন সীতা তৃষ্ণার্ত হলে রামচন্দ্র পাতালভেদী বাণ মারলে বেরিয়ে আসে জলের ফোয়ারা।তাই এই জলকুন্ড আদিবাসীদের কাছে খুবই পবিত্র।

যাওয়া আসা – কোলকাতা বা শহরতলি থেকে পুরুলিয়া যাওয়া যায় নানাভাবে।হাওড়া থেকে হাওড়া – পুরুলিয়া এক্সপ্রেস,রূপসী বাংলা,হাওড়া-চক্রধরপুর ইত্যাদি ট্রেন থাকলেও হাওড়া- চক্রধরপুর ফার্স্ট প্যাসেঞ্জারে আপনি চেপে বসুন রাত ১০.৫৫ মিনিটে হাওড়ায়।স্লিপার রিজার্ভেশন করিয়ে দিব্যি এক ঘুম দিয়ে সকাল ৫ টায় পৌঁছে যান পুরুলিয়া।ব্যাস নেমেই গাড়ি ভাড়া পাবেন(ভাড়া ছোট গাড়ি ১০০০-১২০০ টাকা/বড়ো গাড়ি কমবেশি ২০০০ টাকা)।নিয়ে যাবে অযোধ্যা পাহাড়ের উপরে।অথবা অদূরেই বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে আপনি বাসও পাবেন অযোধ্যা পাহাড়ে যাওয়ার জন্য।আবার ফেরার সময় এই গাড়ি ধরতে পারেন।

থাকা – খাওয়া – অযোধ্যা পাহাড়ের উপরে আছে মালবিকা ও নীহারিকা লজ, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের আশ্রম।আর বাঘমুন্ডিতে আছে অজস্র প্রাইভেট হোটেল, বনদপ্তর ও সেচ দপ্তরের নিবাস।এখন সবাই on line booking হচ্ছে।

তাহলে আর চিন্তা না করে চলুন ঘুরে আসি অযোধ্যা পাহাড়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here