বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::২০২৪ লোকসভা নির্বাচন যত কাছে আসছে, বিরোধী জোটের সম্ভাবনা থেকে ততই যেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুরত্ব বাড়ছে।

 

 

 

 

 

সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য বিরোধীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুরত্ব কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর অপব্যবহারের অভিযোগ বার বার কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে উঠছে। সেই অভিযোগ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিষ্কৃতি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে রিপোর্ট করে। তাই রাজ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থার ক্ষমতার অপব্যবহার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক করে। প্রধানমন্ত্রী করে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে বার বার আরএসএস ও নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা শুনতে পাওয়া গিয়েছ। আরএসএস নিয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সবাই খারাপ নয়। তার মধ্যে কিছু ভালো লোক রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও আরএসএসের প্রশংসা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধ্য হচ্ছেন। যার জেরে দেশের বিরোধীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুরত্ব হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে বিরোধী জোটের সম্ভাবনা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

এই বছরের ১৩ জুলাই দার্জিলিংয়ের রাজভবনে তৎকালীন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে বৈঠক হয়। তারপর থেকেই মমতার রাজনৈতিক অবস্থান ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে। এরপরেই তৃণমূল উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ঠিক ছয়দিন পর সিবিআই ইস্টার্ন কোলফিল্ড কয়লা চুরি কেলেঙ্কারিতে ৪১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে, তখন তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা নরুলা ব্যানার্জির নাম ছিল না।

এরপর ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করেন। বৈঠকের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নীতি আয়োগের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগদান যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদীর সমস্ত সভা বর্জন করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সমঝোতা তৈরি হয়েছে, তা প্রায় সকলের কাছে স্পষ্ট। কিন্তু নয়া সমীকরণে বঙ্গ বিজেপি নেতাদের মনে দ্বিধার সৃষ্টি করেছে। ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল মোদী ও মমতার সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে একটি টুইট করেন। তারপর জল্পনা আরও জোড়াল হয়। গুজরাতের একটি সংস্থা সম্প্রতি বাংলার সঙ্গে চুক্তি করেছে। মনে করা হচ্ছে, এর বিনিময়ে প্রধামন্ত্রীর প্রতি আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কমাতে হবে।

অন্যদিকে, সম্প্রতি মহাবিকাশ আঘাদি জোটের সরকারের পতন হয়েছে মহারাষ্ট্রে। শিবসেনার বিদ্রোহীদের সঙ্গে বিজেপি জোট বেঁধে সরকার গঠন করেছে। শিবসেনার মধ্যে উদ্ধব ঠাকরে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, সূত্রের খবর, তৃণমূলের অভ্যন্তরে পিসি ভাইপোর সম্পর্ক বিশেষ ভালো নয়। তবে দলীয় সূত্রের খবর, বিরোধ থাকলেও এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কখনই পিসির বিরুদ্ধে যেতে চাইবেন না। তবে বিজেপি নেতারা বার বার দাবি করছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সরকার টিকবে না। এই পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সদ্ভাব রাখার পরিকল্পনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উচ্চাকাঙ্খাকে দমিয়ে রাখতে রাখতে। জনপ্রিয়তা এই দুই নেতা বেশ ভালোই লাভ করেছে। সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিজেপি। তাঁর আগে থেকেই তাঁদের চাপে রাখতে চাইছে বলে বিষেষজ্ঞরা মনে করছেন। আপ সরকার ও একাধিক নেতা মন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই ইডির মতো সংস্থাগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here