সুব্রত রায়: মুদির দোকানি, সামান্য মাছ বিক্রেতা থেকে কয়েক বছরের মধ্যে রাতারাতি হাজার কোটি টাকার মালিক৷

সঙ্গে বিপুল প্রভাব প্রতিপত্তি৷ কিভাবে এই অসাধ্য সাধন করলেন? কোন সিঁড়ি ভেঙে এভাবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন তিনি? তা জানতেই এবার অনুব্রত মণ্ডলকে টানা জেরা শুরু করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের কর্তারা৷

বস্তুত, গরু পাচার মামলায় বৃহস্পতিবারই বাড়ি থেকে অনুব্রতকে নিয়ে আসেন তদন্তকারীরা৷ আদালতের নির্দেশে আপাতত ২০ আগস্ট পর্যন্ত তাঁকে থাকতে হবে সিবিআই হেফাজতে৷ হাতে থাকা এই ক’দিনের সময়সীমা নষ্ট করতে নারাজ তদন্তকারীরা৷

সূত্রের খবর, প্রশ্ন মালাও তৈরি৷ আয়ের উৎস জানতে শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে জেরা৷ দিনভর দফায় দফায় অনুব্রতকে জেরা করার মানসিকতা নিয়ে কাজ শুরু করেছে তদন্তকারীরা বলে গোয়েন্দা সূত্রের খবর৷ বস্তুত, গরু পাচার মামলায় অনুব্রতের সরাসরি যোগ থাকার তথ্য প্রমাণ হাতে রয়েছে বলেই দাবি গোয়েন্দাদের৷সেই সূত্রে গোয়েন্দাদের অনুমান, শুধু নির্দিষ্ট কোনও একটি সেক্টর নয়, একাধিক সেক্টরের মাধ্যমেই এই টাকা আয় করে থাকতে পারেন অনুব্রত ৷ যেখানে তিনি কোনও বেনামী কোম্পানিও খুলে থাকতে পারেন বলে গোয়েন্দাদের আশঙ্কা৷ সেই সংক্রান্ত বিষয়েই জানতে এবার অনুব্রতকে টানা জেরা করা হচ্ছে বলে সিবিআই সূত্রের খবর ৷ তবে গোড়া থেকেই ‘কিছু জানি না’, ‘চক্রান্ত’ সহ বিভিন্ন উপমা ব্যবহার করে চলেছেন তিনি৷ কিছুতেই মুখ খোলেননি শাসকের দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা৷ তবে হাল ছাড়তে নারাজ তদন্তকারীরা৷ এক গোয়েন্দা কর্তার কথায়, ‘‘অনুব্রত যেমন অসুস্থতার অজুহাতে মিসগাইড করছিলেন ঠিক তেমনই আদালতের কথা বলে ওকে তোলা সম্ভব হয়েছে৷ এক্ষেত্রেও নতুন কোনও চাল চালতে হবে! তা না হলে শুধু শুধু প্রশ্নবানের জেরে পেটের কথা বেরুবে বলে মনে হচ্ছে না৷’’ অনুব্রত মণ্ডলের মুখ খোলাতে এখন নিজাম প্যালেসের ১৪ জন দক্ষ সিবিআই অফিসার। আপ্রাণ মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here