সুব্রত রায়: শনিবার নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমনে আসেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ।

সেই সময় বিএসএফ এর পক্ষ থেকে ‘হার ঘর তিরঙ্গা’ উপলক্ষে একটি রেলির আয়োজন করা হয়। বিএসএফ জোয়ানরা যখন রেলি করে যাচ্ছিলেন ,সেই সময় তাদের ফুল ছুড়ে সংবর্ধনা দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

তৃণমূলের একটি সংগঠন বিজেপির হেড অফিস ঘেরাও করবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেই নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন.,
ওইটুকুই করতে পারবে। সুদীপ দাকে নিয়ে গেছিল সেইসময় পরেশ পাল আমাদের বাড়িতে ঢিল মেরেছিল ।

ওদের দৌড় এইটুকুই। এর বেশি কিছু করতে পারবে না। যারা আসছে ছেলেপুলেরা তাদেরকে বলছি চোর ডাকাতের পিছনে যাবেন না। নিজের ভবিষ্যৎ এবং বাংলার ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। কালকে লোকেরা আপনাকেও জুতো নিয়ে তারা করবে । সেজন্যই ওরকম করবেন না । যারা চুরি করেছে, তাদেরকে আইনের সামনে নিয়ে আসুন এবং বলুন আপনারা সত্যিটা ও দুর্নীতির সঙ্গে নেই প্রমাণ করুন। সমস্ত পার্টিটা দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। দুর্নীতির দল হয়ে গেছে। তাদের কথা কে শুনবে!

কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারী হার -ঘর তিরাঙ্গা মিছিলে পুলিশের বাধা। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন,
আমি জানি না কেন বাধা দিচ্ছে।এরা খালি দুর্নীতিগ্রস্ত নয়, দেশ বিরোধীও বটে। সারা ভারতবর্ষ জুড়ে তিরঙ্গা যাত্রা হচ্ছে , বাংলাতেও হবে। ওরা যদি মনে করে, এইভাবে বাধা দিয়ে এই কর্মসূচিকে আটকাবে, তাহলে ভুল ভাবছে। কাশ্মীর যদি ঠান্ডা হয়ে থাকে ,বাংলাকেও ঠান্ডা করতে খুব বেশিদিন লাগবে না। পার্টিটাই উঠে যাবে। সরকার পড়ে যাবে। কাদের বলে এসব করছে।

অনুব্রত মন্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর বীরভূমের তৃণমূল নেতারা বিরোধীদের মাজা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এপ্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন,
কে কার মাজা ভাঙ্গে, দেখা যাবে। । পার্টির মাজা ভেঙে যাচ্ছে, মানুষের করবে কি। মানুষকে অত্যাচার করেছিল বলে, মানুষ আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে গরু চোর গরু চোর বলছে।

অনুব্রত মন্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর তৃণমূল রাস্তায় নামছে। এই নিয়ে তিনি বলেন,
না না ওরা ভেবেছিল পার্থদা দিয়ে শেষ হয়ে যাবে। হলো না। আর প্রতি সপ্তাহে যদি একটা করে তোলে তাহলে তো হয়ে যাবে। পার্টিটাই উঠে যাবে । কামাই হবে কি করে সিন্ডিকেট চলবে কিভাবে? সেজন্য একটুখানি প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ অন্য মুডে আছে । ওরা যদি রাস্তায় বের হয়, পাবলিকও রাস্তায় বেরোবে।
শ্রীলংকার মতো অবস্থা হয়ে যাবে । তাড়া করে করে মারবে টিএমসি নেতা ও মন্ত্রীদের।

অনুব্রত গ্রেফতার নিয়ে মদন মিত্রের মন্তব্য। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
দেখুন আমাদের রামায়ণে আছে রত্না কর যখন দস্যু ছিল ,মানুষকে হত্যা করে পরিবার চালাতো । তখন ব্রহ্মা বিষ্ণু রা এসে বলেছিল, তুমি পাপ করেছ তোমার পাপের ভাগী কে হবে তুমি কি তোমার পাপের ভাগী হবে। পরিবার কি পাপের ভাগি হবে। পরিবার বলেছিলো, আমাদের পোষার দায়িত্ব তোমার। তার পরিবারই তার পাপের ভাগ নেয়নি। আর এ তো কোথাকার কে অনুব্রত মন্ডল। চুরি করেছেন, বাড়ি ঘর করেছেন, মিল করেছেন কলেজ করেছেন । তার পাপের ভাগ কে নেবে ? তার পরিবারই নেবে না। পার্টি তো নেবেই না।

অনুব্রত মন্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মৌন আছেন। এই নিয়ে তিনি বলেন,
দিদি এখন মৌন হয়েছেন।ভাইপোও এখন মৌন হয়েছেন।একুশে জুলাই যে বড় বড় কথাগুলো বলেছিল সেগুলো মানুষ ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তিনি যাদের ওপর ভরসা করে কথাগুলো বলেছিলেন তারা ডুবিয়ে দিয়েছে। সেজন্য এখন বলার কিছু নেই।

এসএসসি দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন কারীরা চাকরি কবে পাবেন? এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন,
সেটা তো ভগবানই জানে ৫০০ দিন হয়ে গেল রাস্তায় বসে আছে। চার বছরের বেশি হয়ে গেলে রাস্তায় বসে আছে। ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রৌদ্র মাথায় নিয়ে রাস্তায় বসে আছে। তাদের হক আছে। যে সরকারের কাছে তারা দাবি করছে সেই সরকারে আজকে পায়ে জোর নেই কোমরে জোর নেই। ত্রিশ হাজার চাকরির স্বপ্ন দেখিয়েছে দিদিমনি অনেক বছর ধরে। আবার যদি সরকারে আসেন তিনি ৩০ বছরের স্বপ্ন দেখাবেন। ত্রিশ হাজার চাকরি হবে না দিদিমণি থাকতে। সরকার যদি পাল্টায় তাহলে সম্ভাবনা আছে। শনিবার নিউ টাউনের প্রাতভ্রমণে আগাগোড়া এভাবেই রাজ্যের শাসক দলকে বিধলেন দিলীপ ঘোষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here