শাশ্বতী চ্যাটার্জি : বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজ ও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণ ঘোষ।আসলে সৃষ্টির তো মৃত্যু হয়না ।এই কথাটা সবাই জানেন।২১বছরের ফিল্ম ক্যারিয়ারে একাধিক মন ভালো করা ছবি তিনি উপহার দিয়ে গেছেন দর্শকদের।ভারতীয় চলচিত্রে এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ।তিনি একমাত্র পরিচালক যিনি বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন যে ভালো ছবি তৈরি বড় বাজেটের প্রয়োজন হয় না।তিনি প্রায় ২৬টা সিনেমার পরিচালনা করেছিলেন।যার মধ্যে ১১টার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন।আজ ঋতুপর্ণ ঘোষ আমাদের মধ্যে নেই।এটি তার ৫৮ তম জন্মদিন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তিনি একমাত্র পরিচালক যিনি জেন্ডার বাইনারীর বাইরে বেরিয়ে নারী পুরুষের সম্পর্কের আলাদা একটি মাত্রা দিয়েছেন।১৯৯২ সালে “হীরের আংটি” ছবির মাধ্যমে তার পথ চলা শুরু।১৯৯৫ সালের “১৯এ এপ্রিল” এই ছবিটির জন্য প্রথম তিনি জাতীয় পুরস্কার পান।১৯৯৮ সালে “দহন” সিনেমার জন্য দুটি বিভাগে দ্বিতীয় বারের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন।এছাড়া আরো কিছু ছবির নাম “অসুখ”,”উৎসব”,”শুভ মহরত”,”চোখের বালি” এবং “রেন কোট”।২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ৫ বার জাতীয় পুরস্কার পান তিনি।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোভেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি “চোখের বালি” ছবিটি বেশ চর্চিত হয়েছিল।সকলের স্মৃতিতে আজও মলিন তার উপস্থাপনা।অন্যদিকে “রেন কোট” সিনেমাটি আজও সকালের স্মৃতিতে রয়েছে এবং এই ছবিটি ফিচার ফিল্ম হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পায়ে।এরপর ২০০৮ থেকে ২০১০ এর মধ্যে ঋতুপর্ণ ৩টি সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পান।এই ৩ টি সিনেমা হল ” দ লাস্ট লেটার”,”সব চরিত্র কাল্পনিক” এবং “আবহমান”।”চিত্রাঙ্গদা” সিনেমাটির জন্য তিনি ২০১২ সালে জাতীয় পুরস্কার পান।এটাই তার শেষ জাতীয় পুরস্কার।তার কাজ করার ধরণ,তার জীবনযাপন,তার সৃষ্টি সবকিছুই যেন আজও আমাদের মধ্যে রয়েগেছে।ঋতুপর্ণ সেনগুপ্ত আরো কিছুদিন যদি আমাদের মধ্যে থাকতেন তাহলে বাংলা তথা গোটা ভারত আরো ভালো ছবি উপহার পেত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here