এসিডে আক্রান্ত যুবক

0
40

নিজস্ব সংবাদদাতা নদিয়া : দূর্ঘটনাবশত: ৫ লিটারের এসিডের বোতল উল্টে পড়েছিল মাথায়। তা গড়িয়ে পড়ে গলিয়ে দিয়েছিল চোখ, নাক ও দেহের বিভিন্ন অংশ ঘটনা ২০১৪ সালের মে মাসের নদীয়ার শান্তিপুরে।

আর্থিক কারণে সময়মতো চোখের চিকিৎসা করাতে না পেরে ২০১৭ তে সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারায় চোখ দুটি। ঘটনা পরম্পরায় ২০১৮ সালের জুলাইতে ভেল্লোরে সি এম সি তে নাকের অপারেশন হয়। থাই থেকে মাংস নিয়ে নাকের উপর বসানো হয়।

ডাক্তাররা জানান নাকের দ্বিতীয় অপারেশন করতে হবে তিন মাসের মধ্যে। অর্থ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল অপারেশনে। অন্যদিকে তিন মাসের বেশি সময় চলে যাওয়ায় নাকের মাংসের চাপে নাকের ফুটো বন্ধ হয়ে গেছে।

শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে মুখ দিয়ে। দ্রুত অপারেশন জরুরী। অনেক জায়গায় ছোটাছুটির পর যোগাযোগ হয় সমাজসেবী নদীয়ার কল্যাণী পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বলরাম মাঝির সঙ্গে। সব শুনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। পুরসভার পক্ষে অর্থ সংগ্রহের নেমে পড়েন বলরাম বাবু।

সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা প্রয়াস চলে। দু’মাসে সংগ্রহে আসে এক লক্ষ টাকা। কৃতিত্বের সিংহভাগই মাঝির। শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই চেক তুলে দেওয়া হয় ক্ষতিগ্রস্ত গয়েশ পুরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দাসের (৩৪) হাতে। সাথে সাথে পরবর্তী চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস‌‌ও দিয়েছেন বলরাম বাবু।

অন্যদিকে তার সাথে ভেলোরে যাবার লোক সহ অন্যান্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য এখনো বেশ কয়েকবার অপারেশন করতে হবে বিশ্বজিতের নাক ও চোখের।

বিশ্বজিৎ দাস শান্তিপুরের এক সোনার দোকানে কাজ করতেন। একদিন দোকানের তাকের উপর থেকে নামাবার সময় এসিডের যার উল্টে তার মাথায় পড়ে। পুড়ে যায় চোখ, নাক সহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ।

এমনকি চোখ দুটি গলে গিয়ে দৃষ্টি হারায়। দোকানদারের তরফ থেকে প্রথম দিকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয় তার চিকিৎসায়। উল্লেখ্য এই দোকানে মাত্র ৩ মাস কাজ করেছিলেন বিশ্বজিৎ।

যাইহোক দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রানাঘাট আনুলিয়া হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে রেফার করা হয় কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে। বিশ্বজিৎ সেখানে ভর্তি থাকেন দেড় মাস। কিন্তু ভালো চিকিৎসা না হয় বিশ্বজিৎকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এরপর বাঙ্গুর নিউরোলজি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে এক সপ্তাহ। কিন্তু এই হাসপাতাল এবং পিজি হাসপাতাল তার অপারেশনে অপারোগ জানিয়ে দেয়। একই ঘটনা ঘটে আর জি কর হাসপাতাও।

এরপর ভেলোর যাওয়ার সিদ্ধান্তনেয় বিশ্বজিতের অভিভাবক। মাত্র কুড়ি হাজার টাকা নিয়ে ২০১৭ সালের ১০ ই জুলাই ভেলোর যান তিনি। আড়াই মাস চিকিৎসা চলার পর টাকার আভাবে তাকে ফিরে আসতে হয়। এরপর তিনি পুনরায় ভেলোর যান ২০১৮ সালের মে মাসে। হাসপাতাল জানায় অপারেশনের দেয় ২ লক্ষ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here