বাংলায় দাঙ্গা হতে দেব নাঃ বড়দিনের অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির বার্তা মমতার

0
30

নিজস্ব প্রতিনিধি : ব্যক্তিগত কম্পিউটার থেকে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশিকা অবিলম্বে প্রত্যাহার করুক কেন্দ্র। পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে কলকাতা ক্রিসমাস উৎসবের উদ্বোধনে এই দাবি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দেশে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত আসছে বলে বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা। ধর্মের নামে ভাগাভাগি হচ্ছে বলে কাঠগড়ায় তুলেছেন গেরুয়া শিবিরকে। এদিন খ্রিস্টধর্মের অনুষ্ঠানে এসেও সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্যে একতার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘আমি মনে করি ভারতবর্ষের মধ্যে বাংলা অন্যতম প্রধান রাজ্য যেখানে কোনও ভেদাভেদ নেই। যেখানে কোনও দাঙ্গা আমরা করতে দিই না। আমরা এখানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করি না। হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ-পারসিক আমরা সবাই এখানে একসঙ্গে থাকি। সবাই আমরা উৎসব করি’।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেনশন দেওয়া চালু হল।’ ২ হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়া হবে। এদিন অনুষ্ঠানের মঞ্চে কয়েকজন সাংবাদিকের হাতে পেনশনের কাগজপত্র তুলে দেন মমতা।

তারপর বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বলেন, ‘ছোট দিন কবে, আমি জানি না। ছোটবেলা থেকে এই বড়দিনের কথাই শুনে এসেছি। এই দিনটার জন্য আমি অপেক্ষা করে থাকি।

আর শুধু ভাবি, কবে এই দিনটি আসবে। আমি বড়দিন পছন্দ করি’।
মিডিয়াকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়া যেন এখন কারও কাছে আত্মসমর্পণ না করে। আমি সত্যিই শঙ্কিত। চমকে-ধমকে মিডিয়াকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে গণতন্ত্র থাকে না। আদালতের রায় সবসময়ই আমরা মেনে নিই। গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার’। এই প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহের বক্তব্যকে সমর্থন করেন মমতা। স্বাধীনতা হারিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও মনে হচ্ছে পরাধীন’।

মমতার অভিযোগ, ‘গোরক্ষকের নাম করে অনেককে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। গোরক্ষক কেন, এরা এখন মানুষরক্ষকও নয়। এই আমলে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন। নোটবন্দীর ফলে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা আমাদের রাজ্যে ৪০ শতাংশ বেকারের সংখ্যা কমিয়েছি। কেন্দ্র বলছে, ২০২২–এ এসব করবে। আমরা আগেই করে দিয়েছি’।
সংবিধান নিয়ে টানাপোড়েনের জন্যও কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছেন মমতা। বলেন, সংবিধানকে অন্তত মানতে হবে। মমতার কথায়, ‘সংবিধানের মধ্যে বিভেদ করবেন না। সংবিধান বদলে দেবেন না।

তাকে ছিঁড়ে ফেলবেন না’। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বিভেদের রাজনীতির অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘শুধু ভাগাভাগির চেষ্টা করছে। আর একে মারছে ওকে মারছে। যাদের মধ্যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব থাকে তারা রাজনীতি করার যোগ্য নয়। বিজেপি আসার ঢের আগেই আবির্ভূত হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ। যারা যত মত তত পথের পথিক ছিলেন’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here