নিজস্ব প্রতিনিধি :  দক্ষিন দিনাজপুরঃ দীর্ঘ লড়াই ও নানান বঞ্চনার পর ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানচিত্রে প্রথম রেল স্থান পায়। চালু হয় একলাখি ও বালুরঘাটের মধ্যে রেল পরিষেবা।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের কাটিহার ডিভিশনের অধীনে প্রথমে একটি ট্রেন দিয়ে শুরু হলেও যাত্রী পরিষেবায় ধীরে ধীরে পাঁচটি ট্রেন চলাচল করে জেলার শেষ প্রান্ত অর্থাৎ বালুরঘাট থেকে।

এই ট্রেনগুলি হল মালদার গৌড়লিঙ্ক বা প্রতিদিন বিকেলের প্যাসেঞ্জার, বালুরঘাট কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস, শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি, সপ্তাহে দু’দিনের বালুরঘাট হাওড়া এবং দুপুরের বালুরঘাট মালদা ডেমু। এগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুপুরের শিলিগুড়ি বালুরঘাট ও বালুরঘাট শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি ট্রেনটিকে এক টানা দু’মাসের জন্য বাতিল রাখার সিদ্ধান্ত নির্দেশিকা আকারে জারি করেছে রেল।

এই বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকরী হয়েছে চলতি মাসের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ঘন কুয়াশাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট, হিলি গঙ্গারামপুর, তপন সহ সব প্রান্তে। জেলার রেল উন্নয়নে গঠন হওয়া কমিটিগুলির পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সরব হয়েছে সোস্যাল মিডিয়াতে।

তৃণমূল, বামদের মত দলগুলি প্রতিবাদ শুরু করেছে রেলের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে। রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেই মনে করছেন সকলে।
বালুরঘাট ও একলাখি রেল উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক পীযূষ দেব এবং একলাখি বালুরঘাট রেলযাত্রী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিস্মর রায় বলেন, ট্রেনগুলিকে বাতিল করার গভীর চক্রান্ত চলছে। তারা এর তীব্র প্রতিবাদ করে তারা রেলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন।

কাটিহার ডিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু এই জেলার ট্রেন নয়, অন্যান্য জায়গাতেও বেশ কিছু ট্রেন কিছু দিনের জন্য বাতিল রাখা হয়েছে।
রেল দপ্তরের হঠকারী সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন জেলাবাসীরা শুধুমাত্র কুয়াশার কারণ দেখিয়েই বালুরঘাট স্টেশন থেকে যাতায়াতকারী ২টি ট্রেন বাতিল করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রেলের কাটিহার ডিভিশন চলতি মাসের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ ফ্রেব্রুয়ারী পর্যন্ত টানা দু’মাস পর্যন্ত তিনটি রেল পরিষেবা বন্ধ থাকছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। রেলের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে ব্যাপক ক্ষোভ যাত্রীসহ অন্যান্য মহলে।
চক্রান্ত করে শিলিগুড়ি জংশন বালুরঘাট ও বালুরঘাট শিলিগুড়ি জংশন ইন্টারসিটি ট্রেন বন্ধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূল, বাম সহ স্থানীয় রেল উন্নয়ন কমিটিগুলির। রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়ায় সরব সবমহল। এদিকে বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিপ্লব মিত্র ক্ষোভের সুরে বলেন, রেলের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জঘন্যতম। জেলার মানুষের প্রতি চরম অবিচার। চালু ট্রেনকে দীর্ঘ সময় ধরে বাতিল করে রাখাটা অদ্ভুত ঘটনা। কেননা এবার এখনও তেমন কুয়াশা পড়েনি এই এলাকাগুলিতে। কুয়াশাকে কারণ হিসেবে দেখানো হলে পাহাড়ি এলাকার ট্রেন সবার আগে বাতিল করা হত। মানুষের প্রতি চরম অবিচার করাটা এক ধরনের সমাজের প্রতি অপরাধ। বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্র সরকার এই জেলার মানুষের প্রতি ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ করছে। জেলার মানুষরা প্রতিবাদে নেমেছেন চক্রান্তকারীদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here