নিজস্ব প্রতিনিধি : গত ১৪ ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের পুলওয়ামায় পাক – জঙ্গি হামলায় ৪২ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহীদ হন। তারই মধ্যে বাউড়িয়ার চককাশি গ্রামের রাজবংশী পাড়ার বাসিন্দা বাবলু সাঁতরা ও শহীদ হন।

তিনি মাকে বলেছিলেন আর কিছুক্ষনের মধ্যেই গাড়ি আসবে বেরোতে হবে শ্রীনগরে। তারই মধ্যে দুপুর বেলায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রান কেড়ে নিল বাবলু সাঁতরার। বিকেল পাঁচটা নাগাদ জম্বু সেনা কন্ট্রোল রুম থেকে ফোন আসে স্ত্রী মিতা সাঁতরার কাছে।তারপরই সব পাল্টে যায় বাবলুর পরিবারে, খবর আসে তিনিও ওই জঙ্গি হামলায় শহীদ হয়েছেন।

তখন পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার।বাবলুই দুই বোনের বিয়ে দেন, দোতলা নতুন বাড়িও করেন এবং বছর আটেক আগে নিজে বিয়ে করেন। বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে এগিয়ে চলে সোনার সংসার। ছোট্ট পিয়াল সবেমাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখতেন তিনি।

দেড় মাস আগে বাড়িতে এসে বাড়ির বাইরের অংশের প্লাস্টার করে গিয়েছিলেন। ২-রা মার্চ আবার বাড়িতে ফিরে বাড়ি রং করবে বলে জানিয়ে ছিলেন স্ত্রীকে।তার আগেই বিবর্ণ হয়ে গেল বাউরিয়ার চককাশীর রাজবংশী পাড়ায় বাড়ি ও সিআরপিএফ জওয়ান বাবলু সাঁতরার পরিবার।

স্ত্রী মিতা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা, ভাই কল্যাণ সাঁতরা কাজ করেন স্থানীয় একটি জুটমিলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সিআরপিএফের চাকরি পাওয়ার পর সংসারের হাল ধরেছিলেন বাবলুই।পুলওয়ামার জঙ্গি হামলায় ওই সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকেরা।

বাবলুর ভাই কল্যাণ সাঁতরা জানিয়েছেন, দাদার মৃত্যুর পর থেকে বাড়িতে টিভি পর্যন্ত চলছে না। তাই মুখ্যমন্ত্রী যে শহীদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে বলেছেন তা জানতে পারেননি তাঁরা।

এমনকী, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসনের তরফেও কিছু জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যম থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার খবর পেয়ে প্রথমে কিছুটা বিশ্বাস করতে পারেননি কল্যাণবাবু। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, বিপদের এই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। তবে পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কোনওদিনই পূরণ হবে না।

প্রশাসনের কাছে কল্যাণ বাবুর আবেদন, আগামী দিনে যাতে আর কোনও পরিবারে এমন পরিস্থিতি নেমে না আসে, তা সুনিশ্চিত করা হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here