বঙ্গরাজনীতিতে তৃণমূল-বিজেপির লড়াইয়ের মধ্যে ঢুকে পড়ল তৃতীয় জোট # নূন্যতম ৫০ আসন নিয়ে বাম-কংগ্রেস জোটে থাকছে আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
53

# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

।।।।।।।।। শ্যামলেন্দু মিত্র ।।।।।।।।।

নূন্যতম ৫০ আসন নিয়ে বাম-কংগ্রেস জোটে থাকছে আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট।

জমজমাট বঙ্গরাজনীতি।

বঙ্গরাজনীতিতে তৃণমূল-বিজেপির লড়াইয়ের মধ্যে ঢুকে পড়ল তৃতীয় জোট।

এই জোটে বাম-কংগ্রেসকে মদত দিতে এগিয়ে এসেছে আব্বাস সিদ্দিকির সেকুলার ফ্রন্ট।

এই সেকুলার ফ্রন্ট প্রধানত সংখ্যালঘু মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন।

তবে এই ফ্রন্টে আছে হিন্দু দলিত-আদিবাসীরাও।

এটাই আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের মাহাত্ম্য।

বঙ্গের সংখ্যালঘু মুসলমানদের একচেটিয়া তৃণমূলি আধিপত্য এর ফলে ক্ষুন্ন , এটা হলফ করে বলা যায়।

৩০% সংখ্যালঘু ভোট পকেটে পুরে ভোটে নামার পিকে-ফর্মুলা মলিন।

স্বাধীনতার পরে এই প্রথম বঙ্গীয় সংখ্যালঘুরা নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে নিজেরাই অভিনব দল গড়ল।

এর পাশাপাশি আছে বঙ্গের ভোটে মিমের অংশগ্রহণ।

মিমকে বিজেপির বি-টিম বলে  আগেই সাম্প্রদায়িক ছাপ মেরে দিয়েছে তৃণমূল।

বাম-কংগ্রেসও মিমকে অচ্ছুৎ বলায় আব্বাস সিদ্দিকি বলেন, মহারাষ্ট্রে শিবসেনার মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলের সঙ্গে কংগ্রেস কি করে সরকারে গেল??

কেরলেও তো মুসলিম লিগের সঙ্গে জোট!!

সেই হিসেবে আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট মুসলমানদের পাশাপাশি গরিব হিন্দুদের পক্ষে দাড়িয়ে তাদের দলে নিয়েছে।

আব্বাস সিদ্দিকির দলের মাথায় রয়েছেন দলিত হিন্দু।

আব্বাস সিদ্দিকির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশের ইসলামিক সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, আব্বাস সিদ্দিকির সেকুলার ফ্রন্টের মডেল বাংলাদেশের সব ইসলামিক সংগঠন মেনে নিক।

আগে মনে করা হচ্ছিল, ২০২১ সালে বাংলার বিধানসভা ভোটের লড়াই হতে চলেছে মূলত দ্বিমুখী।

শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি।

কিন্তু এবার সেই লড়াই ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

কারণ বাম-কংগ্রেস জোটে  আব্বাস সিদ্দিকির নতুন দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ।

যার ফলে এই জোট বাংলার ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার জোট  নিশ্চিৎ করতে বৈঠকে বসেন বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ নেতারা।

৭০টি আসন দাবি করলেও, পরে আলোচনার মাধ্যমে তা কমে ৫০ আসনে রাজি হয় আব্বাস সিদ্দিকির দল।

জোট যে পাকা তা এদিন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন বিমান বসু, অধীর চৌধুরী, নওসাদ সিদ্দিকিরা।

আব্বাস সিদ্দিকির দলকে ২:১ ফর্মুলায় আসন ছাড়তে চাইছে বামেরা। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের নমনীয়।

বিজেপি ও তৃণমূলকে রুখতে যেকোনও প্রকারে এই জোট সফল বদ্ধপরিকর বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ।

মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে দেন, বাম-কংগ্রেস জোটে আসছে আইএসএফ সহ আরও  কয়েকটি দল।

অধীর চৌধুরী বলেন, বাম-কংগ্রেস বৈঠকে আসনরফা চূড়ান্ত। ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে বাম-কংগ্রেস জোট। বাংলায় দ্বিমুখী নয়, ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে। আইএসএফ জোটে আস্থা প্রকাশ করেছে। রয়েছে এনসিপি, আরেজডিও। আসন রফা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে। আগামী দিনে এই বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি নয়, বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট সরকার গড়বে।

বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, তৃণমূল ও বিজেপিকে রুখতে  বাম-কংগ্রেস ধর্ম নিরপক্ষ জোটই ভরসা। আইএসএফের সঙ্গেও কথা চূড়ান্ত হয়েছে। ৫০ আসনের রফা মেনেই জোট হচ্ছে বলে জানিয়ে দেন বিমান বসু।

আইএসএফ নেতা নওসাজ সিদ্দিকি জানিয়েছেন, জোটের কথা চূড়ান্ত। ৫০টি আসন আমরা চেয়েছি। আগামি দিনে আলোচনার মাধ্যমে তা নিশ্চিৎ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here