বেঙ্গল ওয়াচ # সাহিত্যের পাতা # তৃতীয় সংখ্যা # প্রকাশিত # ২০ সেপ্টেম্বর # কবিতা # উদয়ন ভট্টাচার্য # সোনালী দাস বক্সী # সঞ্জয় সরকার # প্রিয়া দে # সুধাংশুরঞ্জন সাহা # সুদীপ্ত বিশ্বাস # অনিন্দ্য পাল # পরমার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়

0
68
কবিতা
প্রতিবেদন
উদয়ন ভট্টাচার্য
সমুদ্র কল্লোল থেমেছে, এবার নিঃশব্দে কথা বলো
যুদ্ধের ভঙ্গিতে সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আছে
নদী ও পাহাড়
তাদের একসঙ্গে বসিয়ে শুভকামনা জানাও
শাসককে বলো রাজধর্ম আগে
সম্রাটকে বলো, কোনও সম্পদই তোমার অর্জিত নয়
যে কোনও কৃষকের, শিল্পীর শরীরে মিশে থাকা
পরিশ্রমের ঘাম
কখনও  বাষ্প হয় না।
———-
আকাশ আয়না
সোনালী দাস বক্সী
বর্ণালীর সাত রং
      ফিরে ফিরে আসে
আমার মনে ও আকাশে
সব রং মিলে মিশে
     হয় একাকার
সাদা কালো ছায়া বৃত্ত
মানসিক আলো ও আঁধার।
নীল নীল রং মাখি
  প্রেমে অপ্রেমে
কালো রঙে তারা ফোটে
শীত রাত হিম-এ।
আকাশ ধূসর হয়
মন ভার হলে
  আমিও সবুজ হই
বৃষ্টি নামলে।
আজ তাই মন দেখি
আকাশ আয়নায়
কে আছো তুমি তবে
আমার ভাবনায়?
———-
আশা নিরাশায়
সঞ্জয় সরকার
বেঁচে থাকতে আর কে না চায়
অথচ কেউ কি বলতে পারে
কালকের সকাল সে দেখবে কিনা!
এ জীবন মানেই
অনিশ্চয়তার পথ ধরে
এগিয়ে চলা সামনের দিকে…
একরাশ স্বপ্ন চোখে
একটা একটা করে
গুনতে থাকা দিন…
সব শেষ হবে জেনেও
সুদিনের অপেক্ষায় থাকা
চেয়ে আশা পথ পানে…
———-
তুমি
প্রিয়া দে
টেবিলের ওপর ছেড়ে যাওয়া কাপের দাগটা-
আজও মনে করায় তোমায়।
তোমার দেওয়া লাল বেনারসিটা আজ বর্ণহীন,
জীবনের জেদগুলো আজ বড্ড অসহায়।
ঘরে রজনীগন্ধার গন্ধ আজও ম ম করছে,
সাথে দোসর হয়েছে ওই অসহ্যকর ধূপের গন্ধ।
মৃত্যুর রং কি কালো?
রজনীগন্ধার সাদা কি পারে না কালোটাকে সাদা করে দিতে?
না আজকের সাদা শাড়িটা উৎসবে মেতেছে?
কালোকে সাদা করার উৎসবে।
———-
অভিমানের বাগান
সুধাংশুরঞ্জন সাহা
সেই বেহিসেবী রাত আর বয়স্ক রেললাইন
ঘুমিয়েছে খুব, কত যুগ কত কত দিন বাদে।
হস্তরেখা ভেদ করে ফুটে ওঠা কুয়াশাকথারা
সরব হয়েছে বুঝি সব রসায়ন, অংক ভুলে!
ঋণে জর্জরিত ছায়া কবে আর একজোট হবে?
কবিতারা হারিয়েছে পথ অণুগল্পের শরীরে।
অদ্ভুৎ আড়াল রেললাইন ধরে ছুটছে একা…
গল্প আর উপন্যাস গানিতিক সিঁড়িতে জবুথবু।
সংক্ষিপ্ত সকাল বুক চিড়ে পড়ে কোঁচকানো রাত।
অভিমানের বাগানে গোলাপের কষ্ট কে বুঝবে,
যাদের দৃষ্টিতে নেই ভালোবাসার মিহি আদর!
মানুষ বোঝেনি জল বায়ু, বোঝেনি সঠিক আয়ু।
সভ্যতার মায়ামেঘ ছিঁড়ে সাঁতার শেখে শূন্যতা।
নির্বাচন শেষে ফের ঘিরে ধরে সমূহ বিষাদ।
———-
কালচিত্র
সুদীপ্ত বিশ্বাস
জীবনটা তো গেল প্রতীক্ষায়
অঢেল সময় নেই কারও, ঘণ্টা বাজে
কারা যেন ডাকে, আয় আয়…
পথের পাশে দাঁড়িয়ে আছি গাছ
সহস্র স্রোতের টানে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে
তুমি কি নদী হবে না আজ?
নদী হও, হও নদী, বয়ে যাও
অজস্র ধারায়। দুকূল ভাসিয়ে নদী
আমাকে পাগল করে দাও।
ভেসে যাওয়া? সেটাও সার্থক।
শ্মশান যাত্রীরা চলে গেলে, পাখি ডাকে-
গৃহস্থের খোকা হোক…
———-
অপৌরাণিক
অনিন্দ্য পাল
পাহাড় নেই, নদী নেই, নেই মাটির গন্ধ
তবু এ রাজত্বে রাম স্বয়ং সিংহাসনে
কৌশল্যাপতি বনবাসে যান আজীবন
অসংখ্য সীতা মিছিলে নামে
পিছু ধাওয়া করে রামের মুখোশে
                                        দশানন রাবণ
সমস্ত গোপন উঠে এসে থিতু হয়েছে
রামের পাদুকায়
মাটির ফাটল বেয়ে আকাল ছুঁয়েছে
নাটক, অভিনয়
তবু পৃথিবীর জঠরে স্থান অকুলান
এবং রাবণের নেই কোনও লুকানো মৃত্যুবাণ
ইন্দ্রজিৎও অবধ্য চিরকাল
মেঘের আড়ালে সব জবাব সওয়াল
কালরাত্রির জমানো দুই বরে
কৈকেয়ীরা চায় নিত্য নিয়ম করে
বিভীষণ জন্মাক প্রতি সংসারে
এ রাজপাটে বিষ-রক্তে রজস্বলা
আমাদের ভাবিকাল …
———-
মর্মর মূর্তি
পরমার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়
যদি এসে ফিরে যাও নীহারিকা,
পৃথিবীর প্রান্তিকতম স্টেশনে,
তাই ঘরে ফেরা হয় নাই আর।
সারাদিন চলে যাওয়া সমস্ত
মৃত ট্রেনের আত্মা মগজে নিয়ে
জনশূন্য প্ল্যাটফর্মে বসে থাকি,
ভোরের প্রথম ট্রেনের আশায়।
নীহারিকা বলোনি তো আসার খবর।
কোন ট্রেনে, কবে!
তাই ঘরে ফেরা হয় নাই আর,
স্টেশন চত্বরে মর্মর মূর্তি আমি।
———-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here