কৃষ্ণনগর ও চন্দননগর, জগদ্ধাত্রী পুজোয় মিল-অমিল ও দ্বন্দ্ব

0
20

স্মৃতি সামন্ত # কৃষ্ণনগর এবং চন্দননগর জগদ্ধাত্রী পুজোয় রাজ্যের সেরা দুই নাম। মিল ও অমিলও আছে অনেক।

জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে দুই শহরের দ্বন্দ্বও কম নয়।

দুই শহরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যাচ্ছে, দুই শহরের লোকদের গর্ব দুটো জায়গায়।

কৃষ্ণনগরের লোকেরা বলেন, কৃষ্ণনগরের নদিয়া মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু অর্থাৎ বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্মদাতা কৃষ্ণনগর। চন্দননগরের গর্ব, পরে শুরু করেও তাঁরা ছাপিয়ে গিয়েছেন অন্য কৃষ্ণনগরকে।

সরকারি হিসেব বলছে চন্দননগরে ১২৯টি বারোয়ারি পুজো এ বার। অবিশ্বাস্য লাগলেও, কৃষ্ণনগর সেখানে চন্দনগরের থেকে এগিয়ে। এ বারের হিসেব, বারোয়ারি পুজোর সংখ্যা সেখানে ১৩০ এর বেশি। বাড়ির পুজো ৪২। চন্দননগরের লোকেরা বলছেন, তাঁদের পুজোর সঙ্গে ধরতে হবে লাগোয়া ভদ্রেশ্বরের হিসেব। সেখানে বারোয়ারি ৪২।

কৃষ্ণনগরে সবচেয়ে পুরোনো পুজো কোথায়? অবশ্যই রাজবাড়ির। ১৭৫৬ থেকে ১৭৬৩ সালের মধ্যে কোনও সময়। বারোয়ারির নাম উঠলে নাম শোনা যায়, চকের পাড়ার ‘আদিমা’র। তবে চাষা পাড়ার বুড়িমা দেবী মিথে পরিণত বলে সেখানে ভক্তের সংখ্যা বেশি। বয়সে সামান্য হেরফের। এ নগরে যেমন দুই ‘মা’ নিয়ে হিসেব কষাকষি, চন্দননগরে আবার বয়স নিয়ে চর্চায় দুই পট্টি। চাউল পট্টি এবং কাপড়ে পট্টি।

চন্দননগরে আলোর সাজ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রসিদ্ধ হলে কৃষ্ণনগরের গর্ব আবার তাদের বিখ্যাত মৃৎশিল্পীদের প্রতিমা। দেবীর অঙ্গ সজ্জায় আছে এখানকার নিজস্ব ঘরানার ভুবন ভোলানো ডাকের সাজ। যা কিন্তু সোলার সাজের তুলনায় আলাদা। চন্দনগরে আবার দেখা যায়, দু’ধরনের প্রতিমা। কুমোরপাড়ায় এক রকম, কুণ্ডু ঘাটে এক রকম।

চন্দননগরের গর্ব, দশমীর বিসর্জন নিয়ে। কৃষ্ণনগরে দেখার মতো ব্যাপার, সেদিন সকালের ঘট বিসর্জন। শুধু দেবীর মঙ্গল ঘট বিসর্জন এতই বর্ণাঢ্য যে মনে হবে এটাই বড় কার্নিভাল।

চন্দননগর থেকে যেমন ভদ্রেশ্বর ও সংলগ্ন এলাকায় পুজো ছড়িয়ে গেছে, তেমনই কৃষ্ণনগর থেকেও পুজো ছড়িয়েছে তেহট্ট সংলগ্ন।

কৃষ্ণনগরে একটা মত, কৃষ্ণচন্দ্রের সুহৃদ চন্দননগরের অর্থাৎ তৎকালীন ফরাসডাঙার জমিদার ইন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী এ পুজোকে চন্দননগরে নিয়ে গিয়েছিলেন। অন্য একটি মতে দাতারাম সুর চন্দননগরে এ পুজো নিয়ে গিয়েছিলেন।

কিন্তু অনেক আগে শুরু করেও কৃষ্ণনগর প্রচারে পিছিয়ে গেল কেন এখন? সেখানকার লোকদের সঙ্গে কথা বলে দুটো যুক্তি দেখা যাচ্ছে। এক, চন্দননগর কলকাতার বেশি কাছে। দুই, নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত কৃষ্ণনগরে এ পুজো ঘিরে পাড়ায় পাড়ায় এত বেশি মারামারি হতো যে বাইরের লোকজন আসতে ভয় পেতেন।

এই দুটো দিন নবমী, দশমী ঘিরে অদৃশ্য একটা লড়াই চলে দুই নগরের। নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই, এখানে এক।

পিছিয়ে থাকার ব্যাপারটা কৃষ্ণনগর দিনে দিনে কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here