সাবাস তৃণমূল মহাসচিব ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়, আপনার সত্য কথনে কেউ কেউ চটলেও আপনি বিবেক  তাড়িত , টালিগঞ্জ থানার ঘটনা মনে করিয়ে দেয় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার বিনোদ মেহতা ও তাপস চৌধুরির পরিকল্পিত খুনের কথা# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র # 

0
54

শ্যামলেন্দু মিত্র # বাংলার শিক্ষামন্ত্রী তথা তার দল তৃণমূলের মহাসচিব ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায় সত্যকথা বলে কারও কারও বিরাগভাজন হয়েছেন। সত্য সব সময় অপ্রিয়। কিন্তু সত্যেরই জয় হয়।

তিনি কী বলেছেন?

# পার্থবাবু বলেছেন,  কেউ প্রশাসনে থেকে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকলে তারও তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা হওয়া দরকার।

অনেক বড় কথা তিনি বলেছেন। এবং তিনি যা বলেছেন তা ভেবে চিন্তেই বলেছেন। আলটপকা মন্তব্য তিনি করেননি। কারণ তিনি দলের মহাসচিব। ফলে,তার এই ধরনের কড়া মন্তব্য করার অধিকার আছে।

# এনাফ ইজ এনাফ।

কাউকে না কাউকে তো বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধতে হবে। না হলে বিড়ালের আচড়ে ধনুষ্টঙ্কার হয়ে যাবে।

# মহাসচিব কিন্তু কারও নাম করেননি। কারও দিকে অঙ্গুলিহেলন করে এই কথা বলেননি।

মহাসচিব এই কথা বলেছেন টালিগঞ্জ থানায় দুস্কৃতিদের তাণ্ডব প্রসঙ্গে। যেভাবে এক দল দুস্কৃতি থানায় ঢুকে পুলিশের উর্দিতে হাত দিয়েছে, গায়ে হাত তুলেছে,তাতে তিনি যারপরনাই বিচলিত।

# পার্থবাবু এও বলেছেন, ভোট আর প্রশাসন এক নয়। ভোট রাজনীতিকে সামনে রেখে এ কাজ করা যায় না। আইন মেনে পদক্ষেপ না করলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে৷ এমন চলতে থাকলে একদিন প্রশাসনকে কেউ মানবে না।

# কলকাতা পুরসভার চেতলার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শয়ে শয়ে মহিলা-পুরুষ এসে থানায় ঢুকে পুলিশকে বেধড়ক পেটায়। পুলিশের অপরাধ, প্রকাশ্য রাস্তায় রাতে ৪ যুবক মদ্যপ অবস্থায় পথচারি ও চলন্ত গাড়ি থামিয়ে অভব্য আচরণ করছিল। একজন পালিয়ে যায়। তিন জনকে পুলিশ ধরে নিয়ে আসে টালিগঞ্জ থানায়। আর যায় কোথায়?  সারা বছর দলকে সেবা করবো,আর রাতে ছেলেপুলেরা একটু মদ খেয়ে মাতলামি করবে না! তাতে পুলিশের কী এসে গেল।

# খবর গেল দাদা-মন্ত্রীর কাছে।  তিনি রেগে কাই। সবেতেই পুলিশের বাড়াবাড়ি!

পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে ওঠে যে দলের মহাসচিবকে মুখ খুলতে হয়।

………………………………………….

#  এ যেন, ঠাকুর ঘরে কে রে?

# আমি তো কলা খাইনি।

…………………………………………..

মহাসচিবের কথায় চটে গেলেন মহানাগরিক-মন্ত্রী ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিম।

# ববি মুখ খুললেন। তার বক্তব্য, বিচ্ছিন্নভাবে সমাজবিরোধীরা থাকেই। এই ঘটনাটিও বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পুলিশ ব্যবস্থা নিতে সক্ষম।

# টালিগঞ্জের ঘটনার প্রেক্ষিতে মনে পড়ে গেল দুটি ঘটনার কথা। যেখানে দুই পুলিশ অফিসার খুন হন দুস্কৃতিদের হাতে। সেখানেও দুস্কৃতিদের পিছনে রাজনৈতিক মদতের অভিযোগ উঠেছিল।

# বাম আমলে ১৯৮৪ সালের দোল পূর্ণিমার পরের দিন, ১৮ মার্চ সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে কুপিয়ে খুন করা হয় কলকাতা পুলিশের তৎকালীন ডিসি বন্দর বিনোদ মেহতাকে ৷ তাঁর মাথা থেকে বুক পর্যন্ত ২৭টি কোপের দাগ পাওয়া গিয়েছিল৷ ময়নাতদন্ত করে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ২৭টি চপারের দাগ থাকলেও মাথার প্রথম কোপেই মৃত্যু হয়েছিল ৩৫ বছর বয়সি ওই আইপিএসের৷ ঘটনার চার ঘণ্টা পর গার্ডেনরিচ ফতেপুরের একটি সরু গলির নর্দমার ভিতর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে কলকাতা পুলিশ৷

তাঁর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষী মোক্তারের অবস্থা হয়েছিল আরও করুণ৷ তাঁর হাত-পা কেটে, চোখ উপড়ে জীবন্ত পুড়িয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা৷ ঘটনার ভয়াবহতা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা পুলিশ মহলকে৷
বিনোদ মেহতা খুনে ইঙ্গিত ছিল সেই
আমলের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
# হরিমোহনঘোষ কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যখন আসফাক আনসারি, সেই সময়েই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে হন নিহত হন কলকাতা পুলিশের অফিসার তাপস চৌধুরি৷
অভিযোগের আঙুল ওঠে রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের প্রশ্রয়প্রাপ্ত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here