স্কুল সার্ভিস কমিশনের আগাপাশতলা বিচারবিভাগীয় তদন্ত হোক, শিক্ষক নিয়োগের অনিয়ম যারা করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার সাহস দেখান আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ড.পার্থ চট্টোপাধ্যায়# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

0
1919

শ্যামলেন্দু মিত্র # শেষ পর্যন্ত ক্যাগ রিপোর্টকে মান্যতা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. পার্থ চ্যাটার্জি।

ক্যাগের সুপারিশ অনুযায়ী আগাপাশতলা তদন্ত করবে সরকার। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা সরকার বরদাস্ত করবে না। কাউকে ছাড়বে না।

স্কুল সার্ভিস নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। মেধা তালিকা প্রকাশ না করা মূল অভিযোগ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর একটি মারাত্মক অভিযোগ। তা হলো, ইন্টারভিউ সিটে নম্বর লেখা হচ্ছে পেন্সিলে। অভিযোগ, পরে পেনসিলের নম্বর মুছে দিয়ে নম্বর কম বেশি করার সুযোগ থাকছে।

এই অভিযোগ তুলেছেন ইন্টারভিউ নিচ্ছেন যারা তারাই।

এই অভিযোগ মানতে চায়নি কমিশনের কর্তারা। তাদের মতে,এটা বাজে কথা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন,বাম আমলের তদন্ত করতে বলেছে। এই আমল নিয়ে কিছু বলেনি। ক্যাগ কি বলেছে আর কি বলেনি,এই সাফাই দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার দিন শেষ। এই আমলের অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম নিয়েও তদন্ত করতেই হবে।

২০১১ সালে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আজ পর্যন্ত একাধিক স্কুল সার্ভিস কমিশন চেয়ারম্যান বদল হয়েছে। থামেনি  শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ। মামলার পর মামলা। নিয়ম হল, স্কুল শিক্ষক নিয়োগ হবে প্রশিক্ষনপ্রাপ্তদের থেকে। টেট পরীক্ষায় যারা পাশ করবে ও প্রশিক্ষনপ্রাপ্তরাই শিক্ষকের চাকরি পাবে।  তার জন্য ইন্টারভিউ হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে,প্রশিক্ষন ছাড়াই নিয়োগ হচ্ছে। টেটের পরীক্ষার মেরিট লিস্ট প্রকাশ করা হচ্ছে না।

যে কোনও প্রতিযোগিতার পরীক্ষার মেরিট লিস্ট অর্থাৎ মেধা তালিকা প্রকাশ বাধ্যতামূলক।

ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেলের রাজ্যভিত্তিক বা দেশভিত্তিক  জয়েন্টে লাখ লাখ ছেলে মেয়ে পরীক্ষা দেয়।

সেখানে প্রত্যেকের নাম ও প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে মেধা তালিকা প্রকাশ হয়।

যারা শূন্য পায় তাদেরও  নাম ও প্রাপ্ত নম্বর মেধা তালিকায় স্থান পায়।

ব্যতিক্রম বাংলায় শিক্ষক নিয়োগের মেধা তালিকা প্রকাশ না হওয়া।

তার ফলে, কেলেঙ্কারি হচ্ছে নিয়োগ নিয়ে। গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে গোপনে।

প্রাইমারিতে কিছু নিয়োগ হলেও,আপার প্রাইমারি,সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারিতে নিয়োগ হয়নি।রাজ্য সরকারের মতে,মামলার ফলে নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না।

কেন  বারবার মামলা হচ্ছে?

রাজ্য সরকারের কাজে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে চাকরি প্রার্থিরা মামলা করছেন। মূল অস্বচ্ছতা হলো,মেধা তালিকা প্রকাশ না করা। এসএমএস করে ডেকে পাঠিয়ে নিয়োগ পত্র দেওয়ার অভিযোগ। কলকাতা হাইকোর্ট  আপার প্রাইমারির কয়েক জন প্রার্থীকে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে ডাকার জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে।  বেশ কয়েকজন প্রার্থী হাইকোর্টকে জানিয়েছিল, তারা প্রত্যেকে টেট পাশ ও প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত। তাদের না ডেকে প্রশিক্ষনহীন ও অযোগ্যদের ডাকা হয়েছে।

কেন মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে না? মুখ্যমন্ত্রী কাটমানি নিয়ে সরব হয়েছেন। স্কুল শিক্ষক  নিয়োগ নিয়ে যে কেলেঙ্কারি হয়েছে তা কাটমানির থেকে কিছু অংশে কম নয়।

এই কেলেঙ্কারির গুরুত্ব অনেক।

কারণ এর ফলে গোটা স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা কলঙ্কিত হয়েছে।

উচ্চ পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্ত হলে দেখতে পাবেন,কত সব রাঘব বোয়াল  এই কেলেঙ্কারিতে কারা কারা জড়িত।

লাখ লাখ গরিব ও নিম্নবিত্ত ছেলেমেয়েরা টেটে ভাল ফল করে প্রশিক্ষন নিয়ে চাকরি পাচ্ছে না,অথচ এক শ্রেণির ছেলে মেয়ে অসত উপায়ে চাকরি পাচ্ছে।

তাই দরকার স্কুল সার্ভিস কমিশনের আগাপাশতলা তদন্ত। বিচারবিভাগীয়  তদন্ত হলে তবেই সব তথ্য প্রকাশ হবে।

কারণ,সরকার তাদের গোলমাল যাতে না বেরোয় তার জন্য আগের আমল, এই আমল বলে এড়িয়ে যেতে চাইছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here