বিজেপির চাপে ঘুরে দাড়াতে কাটমানি-ফেরত প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির,কাজ হবে কি না ভবিষ্যত বলবে,তবে পুরনো তৃণমূলিদের বাহবা # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

0
116

শ্যামলেন্দু মিত্র # ২০০০ সালে জ্যোতি বসুকে সরিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিল তাদের দল সিপিএম।

এমনিতো জ্যোতিবাবুকে সরায়নি সিপিএম।

মমতা ব্যানার্জির প্রবল বিরোধিতায় ও চাপে বাংলায় সিপিএম তথা বাম বিরোধী হাওয়া ওঠে।

এবং ইস্যু ছিল জ্যোতি বসু ও তার সরকারের অপশাসন।

এটা সিপিএমও বুঝতে পারে।

জ্যোতিবাবুর পরে বুদ্ধদেববাবু মুখ্যমন্ত্রী হবেন এটা ১৯৯৬ সালে ঠিক হয়ে যখন জ্যোতিবাবুর নাম প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য ওঠে।

কিন্তু ২০০১ সালের আগে ২০০০ সালে দুম করে সরানোর প্রয়োজন হয় প্রবল মমতার চাপে।

সিপিএমের ধারণা হয়েছিল,জ্যোতিবাবুকে মুখ্যমন্ত্রী রেখে ২০০১ সালে বিধানসভা ভোটে গেলে ভরাডুবি হতে পারে। কারণ ওই সময় জ্যোতিবাবুর জনপ্রিয়তায় ভাটা আসে।

তাই বুদ্ধবাবুকে মুখ্যমন্ত্রী করে পরিস্থিতি সামাল দেয় সিপিএম।

বুদ্ধবাবু ২০০০ সালে অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে জ্যোতিবাবুর ছেড়ে দেওয়া জুতোয় পা গলাননি। তিনি নিজের মতো চলেন। সিপিএম খারাপ, বুদ্ধবাবু ভাল। এইরকম একটা ইমেজ নিয়ে তিনি চলেন।

ফলে, প্রবল সিপিএম বিরোধী হাওয়া তোলা সত্বেও ২০০১ সালের ভোটে মমতা পর্যুদস্ত  হন।

সকলের মনে থাকা উচিত,ভোটের পরে মমতা নিশ্চিত  জয় ধরে নিয়ে ভিক্ট্রি চিহ্ণ দেখিয়েছিলেন। এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামও চাউর হয়ে যায়।

এবারে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল অনেকটাই কোনঠাসা। বিজেপি ১৮ টি সিট পেলেও অনেক সিটে দ্বিতীয় স্থানে এবং তৃণমূলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি।

এর মধ্যে তৃণমূল ছেড়ে সাংসদ,বিধায়ক সহ নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক চলছে। সংখ্যালঘু তোষণের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ উঠেছে ওই সম্প্রদায়ের সমাজসচেতন নাগরিকদের মধ্যে থেকেই। বাংলার আইনশৃঙখলাও প্রশ্নের মুখে এসে দাড়িয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার তাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে শুরু করেছে।।।।।

# এই অবস্থায় ঘুরে দাড়াতে রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্তকিশোরের সাহায্য চেয়ে তার সঙ্গে নবান্নে বৈঠকও করেছেন  মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।।।।।।।

# এর পরেই তিনি মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছেন কাটমানি ফেরত নিয়ে।

এটা কঠিন ঝুকির  কাজ জেনেও তিনি এই কাজে হাত দিয়েছেন।

মমতা দেখাতে চাইছেন,আমি সৎ।কিন্তু আমার দলের অসতদের সঙ্গে আর কম্প্রোমাইজ নয়।

# সরাসরি মানুষের দরবারে এই অসৎ তৃণমূলিদের নিয়ে গিয়ে ফেলেছেন। তাদের মুখোশ খুলে দিতে চান।এইসব অসতদের বিরুদ্ধে দলের ভালো লোকেরা প্রথম থেকেই সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু তারা কিছু করতে পারেননি, নব্য তৃণমূলিদের চাপে।

কিন্তু মমতার কাটমানি ফেরতের ঘোষণায় দলের মধ্যে এখব গৃহযুদ্ধ বেধে গেছে। সত-অসতের যুদ্ধ। দিকে দিকে জেলায় জেলায় কাটমানি ফেরত চেয়ে আন্দোলন হচ্ছে, ঘেরাও চলছে। কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। মমতা লোকজনকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছেন।

মমতা যে কাটমানি ফেরতের কথা বলেছেন তার সঙ্গে জড়িত সকলেই গরিব ও নিম্নবিত্ত।

# তাই মমতা তার ইমেজে যাতে কালি না লাগে তার জন্য কাটমানি ফেরতকে গরিব মানুষের মধ্যে দুর্নীতি রোধ সামাজিক আন্দোলনে নিয়ে গিয়ে দেখাতে চাইছেন,দেখুন আমি নিজের দলের লোককেও রেয়াত করি না।

# এইভাবেই বুদ্ধবাবুও নিজের ইমেজ বাড়াতে সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তোলাবাজ দুলাল ব্যানার্জিকে গ্রেফতার করিয়েছিলেন। দলের  এক মহিলা সাংসদের স্বামীর হোটেলে পুলিশ দিয়ে রেড করিয়ে মধুচক্র ভেঙেছিলেন। সুভাষ চক্রবর্তীর পোষা গুণ্ডাদের সল্টলেক স্টেডিয়ামের গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার করিয়েছিলেন।

# সেই সময় মানুষ বলেছিলেন,বুদ্ধবাবুর বুকের পাটা আছে। নিজের দলের কুকীর্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছেন।

# মমতা কি  সেই বুদ্ধবাবুর পথেই নিজের ইমেজ বাড়াতে কাটমানি ফেরতের মতো ঝুকি নিয়েছেন?

না এটা শুধুই স্টান্ট?

আমার মনে হয়, মমতা অনেক ভেবেচিন্তে এই কাটিমানি ফেরতের কথা বলেছেন।

কারণ,তার দলের লোকজনের কুকীর্তির কথা এখন গোপনে নেই। প্যাণ্ডোরা বক্স খুলে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছ। সেই দুর্গন্ধ কি তিনি পাচ্ছেন না?

আসলে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে গেছে। সৃষ্টি এখন সৃষ্টিকর্তার ঘাড় মটকাচ্ছে।

দলের দুর্নীতি নিয়ে  তিনি অনেক আগেই এই প্রশ্ন তোলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, কাটমানির ২৫ % রেখে ৭৫ % দলকে দাও। সেই মতো  তার ঘনিষ্ঠ ও একদা অতি বাম নীতির পক্ষে থাকা দোলা সেন  এও কাটমানির দর্শন সহজ করে বুঝিয়েছিলেন।

# ৪ আনা রেখে ১২ আনা দলকে দাও।

এখন দলনেত্রী যা বলেছেন তা হল,দল এক আনাও চাইছে না।

কাটমানি যে যা নিয়েছ,যার কাছ থেকে নিয়েছ,তাকেই সরাসরি ফেরত দিতে হবে।

মমতার হিসেবে ঘর তৈরির টাকা পেতে গরিব লোককে ২৫% কাটমানি দিতে হয়েছে।

এমনকি মৃতদেহ সতকারের ২০০০ টাকা পেতেও ২০০ টাকা দিতে হয়েছে।

# তাই, কাটিমানি ফেরত প্রকল্প বা কর্মসূচি  মমতার মাস্টার স্ট্রোক।

# সাংসদ শতাব্দী রায় বলেছেন,এখন টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন।  আগে দিদির এটা বলা উচিত ছিল।

# তার এই কথার সুরে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন,আমরা কি কাটমানির সব টাকা খেয়েছি।

দলের উপরতলাতে দিতে হয়েছে।

# এ মারাত্মক কথা।

দলের উপরতলা মানে কী?

কোন দিকে ইঙ্গিত?

# মমতা  ছাড়নেওয়ালা নন।

এর  হেস্তনেস্ত  করতে চান।

আমার মনে হয়,মমতা ব্যানার্জি দলের কিছু লোককে চোর বা দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দেগে দিতে চান।

দলের এইসব দুর্নীতিগ্রস্ত লোককজনের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে যেমন পঞ্চায়েতের লোকজনকে তিনি টার্গেট করেছেন, তেমনি শহুরাঞ্চলে কাউন্সিলর-কমিশনারদের অনেকের কোমড়ে তিনি দড়ি পরাতে চান।

যাইহোক, মমতার কাটমানি-ফেরত নিয়ে গরিব মানুষরা উদ্ভুদ্ধ হয়ে উঠেছেন।

তারাও একহাত নিতে চাইছেন তাদের বিরুদ্ধে যারা তাদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে চোর্যবৃত্তি করেছেন দল ভাঙিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here