তৃণমূলের মূল রক্ষা করতে মমতালয়ে চলেছে ফলহীন আগাছা তৃণ বাছাই পর্ব

0
34

মদনমোহন সামন্ত, কলকাতা : এবারের লোকসভা নির্বাচনে ফলাফলের জেরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । দল তাঁকে সেই অনুমতি দেয়নি।

আজ শনিবার বিকালে সেই তৃণমূল কংগ্রেস সর্বাধিনায়কার কালীঘাটের বাড়িতে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক হল। বৈঠকে হাজির ছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা। ডাকা হয়েছিল সব জেলার পর্যবেক্ষকদের ।

উপস্থিত ছিলেন জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরাও। এবারে মাত্র ২২টি আসন পেয়েছে তৃণমূল। কেন এই ফল? কোথায় গাফিলতি? এসব নিয়ে চুলচেরা বিচার হয়েছে পর্যালোচনা বৈঠকে।

তাছাড়া, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনের লড়াইতে না থেকেও প্রার্থীদের জেতানোর দায় যাদের উপরে ছিল তাদের প্রত্যেককে জনে জনে তাদের দায় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন নেত্রী।

এক ঝলকে আজকের বৈঠকের সারাংশ এইরকম — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন, যারা যারা ভোট দেননি নিশ্চয় অপছন্দ করেছেন। তৃণমূলের আসন কমলেও মোট ভোট বেড়েছে। মুসলিমরা ভোট দিয়েছেন, ইফতারে যাব। কেউ বলতেই পারেন মুসলিম তোষণ করছি। সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে বিজেপি জিতেছে। মোদী বলেছিলেন তিন শত পার করাবে বাংলা। ভোটে টোটাল সেটিং করেছে বিজেপি। ইভিএমে আগে থেকে প্রোগ্রামিং করা ছিল। বিজেপির হয়ে কাজ করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার ভোটে যে পরিমাণ টাকা খরচ করেছে বিজেপি তা যে কোনো কেলেঙ্কারির থেকেও বড়। অফিসার বদলি করে টাকা ঢুকিয়েছে বিজেপি। বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদ-এ আমি বিশ্বাস করি না। ভেদাভেদের রাজনীতিও পছন্দ করি না। নির্বাচন কমিশনের জন্য ছয় মাস রাজ্যে কোন কাজ করতে পারিনি। ভাবা যায়, ছয় মাস ধরে রাজ্যে ক্ষমতাহীন মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। একের পর এক জেলা সভাপতি বদল হয়েছে। সরানো হয়েছে ঝাড়গ্রাম-এর জেলা সভাপতিকে।

বাঁকুড়া জেলাতে তৃণমূলের দু’জন সভাপতি স্থির করা হয়েছে। মালদা জেলার সভাপতি ঠিক করা হয়েছে মৌসম বেনজির নূরকে। এসজেডিএর চেয়ারম্যান হ‌য়েছেন বিজয় বর্মন। পদ থেকে সরানো হয়েছে সৌরভ চক্রবর্তীকে। উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস । সরকারি কর্মী সংগঠনের দায়িত্ব ছাড়াও দুই দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদের দায়িত্বে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। হাওড়া, হুগলি ও দুই বর্ধমানের দায়িত্বে থাকছেন ফিরহাদ হাকিম। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এতদিন সরকার বেশি করে দেখেছি । মানুষের কাজ অনেক করেছি। প্রায় সব কাজ শেষ করে ফেলেছি। হয়তো একটু বেশিই কাজ করে ফেলেছি। এবার দলকে বেশি করে দেখব।এক মাস ধরে চলা আইনজীবীদের কর্মবিরতি উঠে গেল। শুক্রবার কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য বার কাউন্সিল। প্রায় একমাস ধরে চলা আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে যতি পড়ল। কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য বার কাউন্সিল। কিন্তু বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ আইনজীবীদের একাংশ কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখান। ২৪ এপ্রিল হাওড়া আদালত চত্বরে গাড়ি পার্ক করা নিয়ে আইনজীবী-পুরকর্মীদের খণ্ডযুদ্ধ বাধে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে পুলিশ৷ পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তুলে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি শুরু করেন আইনজীবীরা৷ গোটা রাজ্যে সেই থেকে থমকে আদালতের কাজ৷ শুক্রবার আইনজীবীদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য বার কাউন্সিল৷ ২৬ মে থেকে আইনজীবীদের কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়৷ এরপরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি৷ বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ আইনজীবীদের একাংশ। বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অশোক দেবের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান হাওড়া আদালতের কিছু আইনজীবী।

ফের সঙ্কটে টলিপাড়া। সঠিক পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না শিল্পী এবং টেকনিসিয়ানরা। বহুদিন ধরে বকেয়া রয়েছে পারিশ্রমিক। শিল্পীদের অভিযোগ, পারিশ্রমিক অনুযায়ী টিডিএস বাবদ কেটে নেওয়া হচ্ছে 20-25 লক্ষ টাকা কিন্তু সেই টাকা জমা পড়ছে না সরকারি কোষাগারে। এইসমস্ত অভিযোগ নিয়ে এবার একত্রিত হলেন টলিপাড়ার শিল্পী এবং টেকনিয়িসানরা। বিভিন্ন সমস্যাগুলি তুলে ধরে শনিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন আর্টিস্ট ফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। বকেয়া টাকার পাশাপাশি এই সাংবাদিক বৈঠকে উঠে আসে টেকনসিয়ান এবং শিল্পীদের ওভার টাইমের প্রসঙ্গও। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য বয়কটের ডাক দেওয়া হচ্ছে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে। সমস্যা না মিটলে আমরা সবরকম আন্দোলনে যেতে রাজি। সরকারের কাছেও বিষয়টি তোলা হবে। প্রসঙ্গত, কয়েকমাস আগে সঠিক পারিশ্রমিক না মেলার কারণে বন্ধ হয় যায় সিরিয়ালের শুটিং। বকেয়া টাকা এবং ওভার টাইম কাজ না করার দাবি জানিয়ে একজোট হয়ে আন্দোলনে নামেন শিল্পী এবং টেকনিসিয়ানরা। সাময়িক ভাবে এই পরিস্থিতির সমাধান হলেও আবার একই অবস্থা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বয়কটের ডাক দিয়েছেন শিল্পীরা।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রতিবছরই নিজের পছন্দসই কুর্তা পাঠান তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ভালো ফল করে মমতাকে পাল্টা উপহার দিলেন বিজেপি নেতা তেজিন্দর সিং বাগ্গা। উপহার স্বরূপ মমতাকে জয় শ্রীরাম লেখা একটি কুর্তি পাঠিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, দিল্লি বিজেপির মুখপাত্র তেজিন্দর সিং বাগ্গা একটি ট্যুইটও করেছেন। ট্যুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, “শুনলাম দিদি প্রতিবছর মোদিজিকে কুর্তা পাঠান। তাই ওনাকেও উপহার পাঠানোটা আমাদের দায়িত্ব। ওনাকে জয় শ্রীরাম লেখা একটি কুর্তি পাঠালাম। অনুগ্রহ করে কুর্তাটি পড়ে ট্যুইট করবেন। ” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকাল শাড়িতেই স্বচ্ছন্দ্য। তাই এবার বিতর্কিত ‘জয় স্রীরাম’ কুর্তিতে দিদিকে সাজানোর পরিকল্পনা করেছেন এই বিজেপি নেতা। যদিও তিনি তা পড়বেন কিনা তা ওনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here