বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক:তৃণমূলের একডজন নেতাকে হাতে করে ঘুষ নিতে দেখে গিয়েছিল। কয়লা দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি,সারদা বা নারদ কাণ্ডে বহু নেতাকে অনেকদিন জেল খাটতেও হয়েছে। কিন্তু পার্থর বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। সারা ভারত টিভিতে দেখেছে বস্তা বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়েছে পার্থর বান্ধবী অর্পিতার বাড়ি থেকে। তাই স্বাভাবিক কারণেই প্রথম থেকেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছিলো দল। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তিন বছরের বেশি জেলে কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বরে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন পার্থ। কিন্তু, শাসকদল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছে। গ্রেফতারির পরই পার্থকে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরলেও তাঁকে নিয়ে দলের তরফে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি।

এবার যে তিনি তৃণমূলের টিকিট পাবেন না, তা বোধহয় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীও বুঝতে পারছেন। শাসকদলও ওই কেন্দ্রে নতুন প্রার্থী খোঁজা শুরু করেছে। কিন্তু, গত ২৫ বছর ধরে যে কেন্দ্রে পার্থর মতো হেভিওয়েট নেতা প্রার্থী ছিলেন, সেখানে নতুন কাউকে দাঁড় করানো যে কতটা কঠিন কাজ, তা বুঝতে পারছেন শাসকদলের নেতারাও। তার উপর আবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো অভিযোগে সেখানকার বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের এক জনপ্রিয় মহিলাকে মুখকেই ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। ওই নেত্রী তৃণমূলের রাজ্যস্তরের দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহভাজন। বেহালা পশ্চিমে ভোট বৈতরণী পেরতে তৃণমূলের ওই দাপুটে নেত্রীই তুরুপের তাস হতে পারেন বলে মনে করছেন শাসকদলের নেতৃত্ব। এই আলোচনার মধ্যে আরও একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে বেহালা পশ্চিমে ২৫ বছর পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বদলে অন্য কেউ তৃণমূলের প্রতীকে প্রার্থী হতে চলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *