সিনেমা ও সিরিয়ালে সুযোগ দেবার নাম করে চলছে টাকা নেবার জালিয়াতি চক্র

0
81

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : সিনেমায় অভিনয় করার ইচ্ছে কিংবা স্বপ্ন আমাদের সকলেরই রয়েছে। তবে হ্যাঁ হয় কেউ টাকা দিয়ে সুযোগ পায় আবার কেউ না দিয়ে। কিন্তু সিনেমায় সুযোগ দেওয়ার নামে যে জালিয়াতি চক্র জোরকদমে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে সেটা কিন্তু ইতিমধ্যে সকলকেই ভাবিয়ে তুলেছে।

অভিযোগ উঠছে সিনেমা জগতে মিটু মুভমেন্ট এই মুহূর্তে যেভাবে আলোড়ন ফেলেছে তার মধ্যেও কিছু জালি সংস্থা এখনও আছে যারা নতুনদের স্বপ্ন দেখাবার নাম করে তাদের কে নিয়ে নোংরা খেলা চালিয়েই যাচ্ছে। অভিযোগ খবরের পাতায় যে ছবি গুলো রয়েছে এবং যাদের কে দেখতে পাচ্ছেন আপনারা, সেই ব্যক্তিগণ দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি চক্র চালাচ্ছে কলকাতার বেহালার মুচিপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া নিয়ে ‘ক্যারিয়ার ফোকাস প্রোডাকশন হাউস‘ নামে একটি ফ্লিম সংস্থার নাম করে। যারা বহু দিন ধরেই নতুন ছেলে মেয়েদের জীবন নিয়ে খেলার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ টাকা নিচ্ছে নাম করা চ্যানাল এ সিরিয়াল ও সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ দেবে বলে। কিন্তু এই ঘটনায় কলকাতা শহরের বেহালা মুচিপাড়া এলাকার সংস্থা ‘ক্যারিয়ার ফোকাস প্রোডাকশন হাউস’ এমনটাও করছে যদি কোনো মহিলা টাকা না দিতে পারেন তাকে কম্প্রোমাইজ করার প্রস্তাব ও জানাচ্ছেন ওই সংস্থার কর্ণধার স্বপন চৌধুরী। জানা যায় এই সংস্থার কর্ণধার স্বপন চৌধুরী এবং তার সহকর্মী শোভা বারিক তাকে এই কাজে সহযোগিতা করতেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে তারা বহু ছেলে-মেয়েকে ঠকিয়ে তাদের থেকে প্রচুর পরিমানে টাকা নেয়। আর টাকা না থাকলে তাদের নোংরা কুপ্রস্তাব দিয়ে তাদের হেনস্তা করে চলেছে’। এই সংস্থায় ছেলে-মেয়েরা স্বপ্ন তৈরি করতে এসে একাধিক টাকা এই প্রতারকদের কে দিয়ে, প্রতারিত হয়ে চোখে জল নিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয় বলেই অভিযোগ। এমনকি কেউ সোনাদানা বন্দক দিয়েও তাদের কাছে কাজ পাবার আশায় আসে ছিল এমন কি অনেকে টাকা না থাকায় ছেলে কে স্কুলে ভর্তি করতে পারেনি। তবে যারা এই ভাবে প্রতারিত হয়েছে তারা সংবাদমাধ্যম কে সরাসরি ফোনে সব জানায় সংস্থার ভেতরে জালিয়াতির কথা। তারা বলেন,’আমাদের কে বিভিন্ন নামী শিল্পীর সঙ্গে সিনেমাতে সুযোগ দেবে বলে বহু টাকা নিয়েছেন ওই স্বপন বাবু। কিন্তু তারপর আমরা লক্ষ্য করলাম প্রত্যেককে বিভিন্ন নোংরা উপায়ে ঠকাচ্ছে এবং সব মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে’। এখানেই শেষ নয় তাদের আরও অভিযোগ , যে কোর্ট পেপার এ চুক্তিপত্র তাদের দেওয়া হয়েছিল তাতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল বিভিন্ন নাম করা চ্যানেলের বহু কাজ করার সুযোগ। তার সহিত এটাও উল্লেখ ছিল যদি কোনো ছেলে মেয়েরা সিনেমা কিংবা সিরিয়াল ছেড়ে মাঝপথে চলে যায় তাকে ২লক্ষ টাকা জরিমানা হিসেবে দিতে হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এইটা যে,ওই জালিয়াতি সংস্থা কত টাকা নিজের নিচ্ছে সেসব কিছুই উল্লেখ ছিল না ওই কোর্টের চুক্তিপত্রে, অভিযোগ সংস্থায় কাজ করতে আশা ছেলে মেয়েদের। অবশ্য এই বিষয়ে ওই সব প্রতারিত ছেলেমেয়েরা কেউ কেউ ইতিমধ্যেই হারিদেবপুর ও বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। জানা যায় স্বপন চৌধুরী এই ভাবে জালিয়াতি করছে বহুদিন থেকে। শুধু তাই নয় অনেকের বাড়িতে ফোন করে হুমকিও দিয়েছে বলেও অভিযোগ। এব্যাপারে এই সংস্থার কর্ণধার স্বপন চৌধুরীর সাথে আমরা সংবাদমাধ্যম ফোনে যোগাযোগ করে। তিনি জানান এই সব কিছুই মিথ্যা বলে আমাদের কাছে দাবি করেন এবং সেটা আমরা রেকর্ড করি ফোনে। তিনি বলেন আমি এসব কিছু করিনি বলেই বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি ।এর সাথে তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন,’ খবরটা করবেন না।

তার বিনিময়ে যা বলবেন আমি রাজি আছি দিতে। সৎ ভাবে সত্য সংবাদ সম্প্রচার করা আমাদের কর্তব্য। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করছি এবং আগামীদিনেও করে যাবো। শুধু এই সংস্থা নয় কলকাতা শহরে ছেয়ে গেছে এই ধরণের জালিয়াতি চক্র। অবশ্য এই বিষয়ে প্রতারিত ছেলে-মেয়েদের কে পুলিশ সহযোগীতা করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। এবং পুলিশ বহুবার ওই স্বপন চৌধুরী কে থানায় ডেকে পাঠান কিন্তু তিনি প্রতিবার না করে দেন বিভিন্ন কৌশলে। এর পাশাপাশি আমার আশারাখি পুলিশ প্রশাসন সততার প্রচেষ্টায় সাহায্য করবেন দ্রুত যাতে প্রতারিত ছেলে মেয়েরা তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পায়। তাই সময় থাকতে এই ধরণের ঘটনার থেকে ও এই ধরণের জালিয়াত থেকে সচেতন হন এবং অপরকে সচেতন করুন।এরকম ঘটনা যদি দেখতে পান তৎক্ষণাৎ স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানান। আমরা চাই এই ধরনের প্রতারকে যথেষ্ট শাস্তি প্রশাসন দিক। এবং এই স্বপন চৌধুরী ও শোভা বারিকের ও যাতে কঠোর শাস্তি হয়। তবে যেভাবে বেহালা থানা সহযোগিতা করছে তাতে মনে হয়, আগামী দিনে পুলিশ মানুষের পাশে থাকবে ও বিশ্বাস ও ভরসা যোগাবে সকলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here