২ পয়সার সাংবাদিক # সাংসদ মহুয়া মৈত্র ভাঙলেন তবু মচকালেন না # আমার  কথাগুলি যে মানুষকে আহত করবে সেটি স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও আমি যা বলেছি, সেটা সঠিক # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
67
# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #
।।।।।।।।। শ্যামলেন্দু মিত্র।।।।।।।।।।
ভারতীয় সংবিধানে সংবাদ মাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
এই চতুর্থ স্তম্ভ বরাবরই শাসকের কাছে অপমানিত।
তাই  সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ২ পয়সার সাংবাদিক বলায় আমি একেবারেই আশ্চর্য হচ্ছি না।
মানুষে রেগে গেলে তার আসল স্বরুপ বের করে ফেলে। মুখোশ খসে যায়।
সাংবাদিক মহল থেকে প্রতিবাদ ওঠায় মহুয়া ক্ষমা চাইলেও তার বক্তব্য থেকে সরেননি।
ভাঙলেন তবু মচকালেন না!
মহুয়াকে বয়কটের দাবি উঠেছে সাংবাদিক মহল থেকে।
মানুষের ভোটে জিতে মানুষকে প্রকৃত তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করাই শাসকের মূল ধর্ম হয়ে পড়েছে।
আর সেই সত্যটা প্রকাশ করাই সাংবাদিকদের ধর্ম।
মহুয়ার ডাকা বৈঠকে তার দলের সদস্যরাই তাকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে সরব হন।
এই কথা কেন সাংবাদিকরা শুনলেন। সাংবাদিকরা শুনেও কেন ভুলে গেলেন না!
মহুয়া তার দলের সদস্যদের চোটপাট করেন……..
১) সংবাদমাধ্যমে মুখ দেখানোর জন্য ২ পয়সার সাংবাদিকদের কেন ডাকা হয়েছেন!
২) ২ পয়সার সাংবাদিকদের বের করে দাও।
 শুধু প্রিন্ট মিডিয়া থাকলে মহুয়ার বলার সুযোগ থাকতো, আমি ২ পয়সার সাংবাদিক বলিনি।
কিন্তু আজ জেলায় জেলায় ডিজিট্যাল মিডিয়ার মোবাইল ক্যামেরা থেকে পার পাওয়া কঠিন।
সোস্যাল মিডিয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বড় মিডিয়ায়।
প্রয়াত অভিনেতা সাংসদ তাপস পালের, রেপ করিয়ে দেওয়ার কথাও সোস্যাল মিডিয়া থেকে ছড়িয়েছিল বড় মিডিয়ায়।
গ্রাম গ্রামান্তরে মহল্লায় মহল্লায় সোস্যাল মিডিয়াই সমাজের দর্পণ।
সেই দর্পণে মহুয়ারা ভাল কথা বললেও প্রতিফলিত হয়। আবার ২ পয়সার সাংবাদিকও প্রতিফলিত হয়।
মহুয়া মৈত্র ‘২ পয়সার প্রেস’  মন্তব্য টুইট করে  জিইয়ে রাখলেন।
তিনি ক্ষমা চাইলেন।
কিন্তু অবস্থান বদল করলেন না কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
রবিবার গয়েশপুরে একটি কর্মীসভায় যান মহুয়া।
সেখানে সবাইকে বলেন মোবাইল রেকর্ডিং না করতে।
আচমকা এক সাংবাদিক তাঁর নজরে আসে।
আর যায় কোথায়!
 ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন  শাসক-সাংসদ…..
১) কে এই ২ পয়সার প্রেসকে ভেতরে ডেকেছে ?
২) কর্মী বৈঠক হচ্ছে।
৩)  আর সবাই টিভিতে মুখ দেখাতে ব্যস্ত।
৪) আমি নির্দেশ দিচ্ছি, প্রেসকে সরান।
ওই ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রতিবাদমুখর হন সাংবাদিকরা।
কলকাতা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে স্নেহাশিস সুর (সভাপতি) কিংশুক প্রামাণিক (সম্পাদক) ৭ ডিসেম্বর বিবৃতি দিয়ে বলেন……………………………

১) কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সাংবাদিকদের সম্বন্ধে যে মন্তব্য করেছেন তাতে প্রেস ক্লাব, কলকাতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং তীব্র প্রতিবাদ করছে।

২) তাঁর এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে অনভিপ্রেত, অপমানজনক।

৩) গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবাদিকতার গুরুত্ব এবং এই পেশার সম্মান সর্বজনবিদিত।

৪) প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে একজন সাংবাদিকের পেশাগত সংগ্রাম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি রয়েছে।

৫) সেই মহান কাজের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের আঘাত করার কোন অধিকার কারও নেই।

৬) ধিক্কার জানাই সাংসদের মন্তব্যে।
আশাকরি সাংসদ তাঁর এই মন্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করবেন।।।।।

কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি মহুয়া।
মহুয়া টুইট করেছেন………….
১) আই অ্যাপোলোজাইজ ফর দ্য মিন হার্টফুল অ্যাকিউরেট থিংস আই সেড ।
২) আমার  কথাগুলি যে মানুষকে আহত করবে সেটি স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও আমি যা বলেছি, সেটা সঠিক ।
অনেক সাংবাদিক যেভাবে দুই পয়সার ছবি শেয়ার করছিল, সেই ট্রেন্ডটি ফলো করেই নিজের টুইটটি করেন মহুয়া।
মহুয়া  বলেন,  আমি মিম এডিট করতে পারদর্শী হয়ে গিয়েছি।
তৃণমূল সাংসদের সাফাই……..
১) আমি দলীয় কর্মীদের ওপর রেগে গিয়েছিলাম কর্মীসভায় সাংবাদিকদের ডাকায়।
২) আমার উদ্দেশ্যে ওই বক্রোক্তি ছিল, কিন্তু আমি সাংবাদিকদের  নিশানা করিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here