১০১টি ‘দৈনিক কলাম’ প্রকাশের পর সিদ্ধার্থ সিংহ বেঙ্গল ওয়াচে লিখতে শুরু করেন ‘অনিয়মিত কলাম’ # অনিয়মিত কলাম হলেও লিখেছেন প্রত্যেক দিন # আজ প্রকাশিত হল কবি ও কথাসাহিত্যিক সিদ্ধার্থ সিংহের অনিয়মিত কলাম-এর ৫০ তম পর্ব # এটি নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা # আজকের শিরোনাম # পরনের কাপড় বিক্রি করে মেয়ের স্কুলের অ্যাসাইনমেন্টের টাকা দিলেন মা

0
39

১০১টি ‘দৈনিক কলাম’ প্রকাশের পর সিদ্ধার্থ সিংহ বেঙ্গল ওয়াচে লিখতে শুরু করেন ‘অনিয়মিত কলাম’।

অনিয়মিত কলাম হলেও লিখেছেন প্রত্যেক দিন। আজ প্রকাশিত হল কবি ও কথাসাহিত্যিক সিদ্ধার্থ সিংহের অনিয়মিত কলাম-এর ৫০ তম পর্ব।

এটি নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আজকের শিরোনাম—

পরনের কাপড় বিক্রি করে মেয়ের স্কুলের অ্যাসাইনমেন্টের টাকা দিলেন মা

সিদ্ধার্থ সিংহ

মেয়ের স্কুলের অ্যাসাইনমেন্টের টাকা জোগাড় করার জন্য নিজের পরনের শেষ সম্বল পুরনো তিনটি শাড়িই বিক্রি করে দিলেন মা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারোবাড়ি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

করোনা মহামারীর জন্য বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বছর শেষে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই বা গ্রেড নির্ণয় করার লক্ষ্যে প্রত্যেক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হচ্ছে।

সেই নিয়ম অনুযায়ী উপজেলার এম সি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিতু আক্তার গত বৃহস্পতিবার অ্যাসাইনমেন্ট আনতে গেলে তার কাছে টাকা চান শিক্ষকেরা।

রিতু আক্তার জানায়, অ্যাসাইনমেন্ট আনতে গেলে স্কুলের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন তিন পাতার একটি প্রশ্নপত্র, দুটি কলম এবং এক পাতার একটি সাজেশন দিয়ে ৩৪০ টাকা চান।

কিন্তু সেই টাকাটা ছিল তার কাছে বিশাল অঙ্কের টাকা। কারণ সে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তার বাবা এলাকার একজন সামান্য দিনমজুর। তাও রোজ কাজ পান না। দু’বেলা খাওয়াটাই তাঁদের কাছে বিলাসিতা। এত টাকা তারা পাবে কোথায়!

তবু তার বাবা মো. শহিদ মিয়া অ্যাসানমেন্টের জন্য তাঁর মেয়েকে কোনও রকমে ১০০ টাকা জোগাড় করে দেন।

বাবার দেওয়া সেই টাকাটা এগিয়ে দিতেই আনোয়ার স্যার আমাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, তোকে আজই ৩৪০ টাকা দিতে হবে। দিতে না পারলে তোকে অষ্টম শ্রেণিতে তোলা হবে না।

এ ব্যাপারে মেয়ের মা বলেন, মেয়ে বাড়িতে এসে খুব কান্নাকাটি করছিল। অষ্টম শ্রেণিতে উঠতে পারবে না বলে। তাই তার কান্না সহ্য করতে না পেরে আমার ঘরে যে তিনটে পুরনো শাড়ি ছিল, সেই তিনটে শাড়িই আমি বিক্রি করে দিই ৩০০ টাকায়। যাতে সে অ্যাসাইনমেন্টের জন্য স্কুলে টাকা দিতে পারে।

এ বিষয়ে এম সি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের জন্য শুধু আমাদের স্কুলে কেন, কোনও স্কুলেই কোনও টাকা লাগে না। ওই শিক্ষক কেন টাকা চেয়েছেন কারণ জানানোর জন্য তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর উত্তরের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই একই কথা জানিয়েছেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here