স্ত্রীর সন্দেহ স্বামী যৌন-অক্ষম, আসলে… সিদ্ধার্থ সিংহ

0
59

স্ত্রীর সন্দেহ স্বামী যৌন-অক্ষম, আসলে…

সিদ্ধার্থ সিংহ

স্ত্রীর কাছে যাওয়া তো দূরের কথা, স্বামী তাঁর বউয়ের থেকে দূরে দূরেই থাকতেন। কাছেই ঘেঁষতেন না।

এটাই সন্দেহের সূত্রপাত।

বিয়ের পরে মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও স্বামী তাঁর স্ত্রীর কাছে একদিনের জন্যও যাননি।

তাই তরুনী বউ ভেবেছিলেন তাঁর স্বামী নিশ্চয়ই যৌন-অক্ষম।

এই কারণে তিনি তাঁর স্বামীকে ছেড়ে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে যান।

এমনকী সুবিচার পাওয়ার জন্য তিনি আইনেরও দ্বারস্থ হন।

ভারতের মধ্য প্রদেশের ভোপালে সম্প্রতি এই ঘটনাটি ঘটেছে।

এটি শুধু নিছকই একটি ঘটনা নয়, অত্যন্ত মজার ঘটনাও বটে।

আসলে লক ডাউনের বেশ কিছু দিন আগেই তাঁদের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়েছিল।

কিন্তু বাধ সাধল করোনা। করোনার জন্যই ক্রমশ পিছতে থাকে সেই পরিকল্পনা।

তবে না, বিয়ে বাতিল করার কথা ভাবেননি দুই পরিবারের কোনও পক্ষই।

অবশেষে ছোট্ট একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চার হাত এক হয়।

গত ২৯ জুন মধ্যপ্রদেশের ভোপালে বসে বিয়ের আসর। গাঁটছড়া বাঁধেন তরুণ-তরুণী।

কিন্তু বিয়ে হলেও দু’জনের দাম্পত্য জীবনে ছিল না কোনও উষ্ণতার ছোঁয়া।

নববধূর দাবি, বিয়ের পর থেকে এক ঘরে থাকলেও স্বামী নাকি কোনও দিনও ছুঁয়ে দেখেননি তাঁকে।

তিনি নিজে থেকেই অনেক বার স্বামীর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে না, স্বামীর দিক থেকে কোনও সাড়া পাননি।‌ ফলে যত দিন গেছে শুধু দূরত্বই বেড়েছে।

স্বামীর এই অনিহা দেখে নববধূর মনে এক সময় স্বামীর যৌনক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন জাগে।

তাই বাধ্য হয়েই তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন এবং শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়িতে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন।

বাপের বাড়িতে যাওয়ার কয়েক দিন পরেই ভারতের লিগাল সার্ভিস অথরিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেন সেই তরুণী।

এর পরই তাঁর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন কাউন্সেলর। তাঁর স্বামী কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তাঁর যৌন মিলনের ক্ষেত্রে কোনও শারীরিক সমস্যা নেই।

স্বামীর দাবি আদৌ সত্যি কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। টেস্টের রিপোর্টে দেখা যায়, তরুণের দাবিই ঠিক। তাঁর কোনও শারীরিক সমস্যা নেই। তিনি একদয় ফিট।

তা হলে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসে তাঁর এত আপত্তি কেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ‘ভয়ে। কারণ, বিয়ের সময়ে স্ত্রীর পরিবারের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমার স্ত্রীর শরীরেও করোনার বেশ কয়েকটি উপসর্গ লক্ষ্য করেছিলাম। তাই বউকে সরাসরি কিছু বলতে না পারলেও, আমি আমার স্ত্রীর থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই চলছিলাম।’

স্বামীর ভয় দূর করার জন্য সেই কাউন্সেলরের উদ্যোগেই তাঁর স্ত্রীর কোভিড টেস্ট করা হয়। পর পর দু’বারই নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।

এখন তাঁর স্বামী আশা করছেন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি আজই মিটে যাবে এবং তাঁদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে খুব তাড়াতাড়িই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here