সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নিয়ে যখন বাম আমলে মমতা ব্যানার্জির আন্দোলন  শিখরে তখন একদিন মহাকরণে তার চেম্বারে বসে মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দ বলেছিলেন # হুগলিতে সিঙ্গুর আন্দোলন কী হবে বলতে পারবো না # তবে মেদিনীপুরের মানুষ নন্দীগ্রাম করতে দেবে না # গুলি খেয়ে মারা যাবে # কিন্তু মাতঙ্গিনী হাজরার মতো পতাকা ছাড়বে না # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
82
# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #
।।।।।।।।।।শ্যামলেন্দু মিত্র।।।।।।।।।।।।।
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নিয়ে যখন বাম আমলে মমতা ব্যানার্জির আন্দোলন  শিখরে তখন একদিন মহাকরণে তার চেম্বারে বসে মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দ বলেছিলেন, হুগলিতে সিঙ্গুর আন্দোলন কী হবে বলতে পারবো না, তবে মেদিনীপুরের মানুষ নন্দীগ্রাম করতে দেবে না। গুলি খেয়ে মারা যাবে। কিন্তু মাতঙ্গিনী  হাজরার মতো পতাকা ছাড়বে না।
কয়েকদিন আগে কিরণময়দাকে ফোন করেছিলাম বিজয়ার প্রণাম জানাতে।
শুভেন্দু অধিকারির প্রসঙ্গে  উনি মেদিনীপুরের মানুষের সম্পর্কে একই অভিমত পোষণ  করলেন।
মেদিনীপুর জেলার মানুষের মধ্যে শিক্ষিতের হার  বাংলার অন্য জেলার তুলনায় অনেক বেশি।
নন্দীগ্রামে শিক্ষিতের হার গোটা দেশের মধ্যে শীর্ষে।
 অভিবক্ত মেদিনীপুর জেলা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী  ভূমিকা নিয়েছিল।
মেদিনীপুরের তমলুকে সতীশ সামন্তের নেতৃত্বে প্রথম  স্বাধীন জাতীয় সরকার স্থাপিত হয়। তমলুক পুরসভায় গিয়েছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু।
মাতঙ্গিনী  হাজরার নেতৃত্বে কীভাবে থানা ঘেরাও হয়েছিল তা সকলেরই জানা। তিনি ইংরেজের গুলি খেয়ে মৃত্যুবরণ  করেছিলেন,কিন্তু পতাকা ছাড়েননি।
অজয় মুখার্জি কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন জ্যোতি বসুর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন তাও সকলের জানা।
সেই হিসেবে শুভেন্দু অধিকারির যা করছেন তা তিনি মেদিনীপুরের ঐতিহ্য বহন করেই করছেন।
অকৃতদার শুভেন্দু অধিকারি অন্যদের থাকে পৃথক। এমনকি তার অধিকারি পরিবারের থেকেও।
তাই দলে ও সরকারে থেকে শুভেন্দু অধিকারি যা করছেন, তাতে আমি অবাক হচ্ছি না।
মেদিনীপুরের লোকেরা এমনিতেই সাহসী।
তাই এই অবস্থায় শুভেন্দু অধিকারির মধ্যে আর বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই।
বাংলার জেলায় জেলায় শুভেন্দু অধিকারি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই মানুষের ঢল।
কী করতে চান শুভেন্দু অধিকারি তা তিনিই জানেন।
তবে শুভেন্দু অধিকারি যে তার দলে একটা ফ্যাক্টর সেটা পরিস্কার।
কারা শুভেন্দু অধিকারির অনুগামী,কারা তাকে সমর্থন করছেন, এটা বুঝতে চাইছেন তার দলেন সুপ্রিম নেতৃত্ব।
বাংলায় কজন বিধায়ক তার অনুগামী,কজন জেলা-ব্লক-পঞ্চায়েত স্তরের নেতা ও সমর্থক তার সঙ্গে রয়েছেন তা বুঝতে চাইছেন  তার দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব।
এই সমীক্ষায় নিয়োজিত আইপ্যাকও।
কিন্তু সঠিক তথ্য মিলছে না।
মানুষের মন বোঝা ভার।
কোন মানুষ কাকে পছন্দ করেন আর কাকে অপছন্দ করেন তা মুখ দেখে বোঝা যায় না।
 মানুষের মন বুঝতে পারা শক্ত।
মানুষের মনে কী আছে তা বোঝার মতো যন্ত্র নেই।
ফলে হিসাবনিকাশ করেও ভুল হয়।
সেই হিসাবনিকাশটা শুভেন্দু অধিকারিও করছেন।
১০ নভেম্বর নন্দীগ্রামে যে বিশাল জমায়েতের ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারি তা থেকে খানিকটা বোঝা যাবে,জল কোনদিকে গড়াচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here