সাইঞা মান যা # ভাই তুহি সিএম বা # পরাজিত নীতিশের মানভঞ্জনে গাইছেন সুশীল মোদি # হাসছে বিহার, বিজেপিও # ফেসবুকে লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রসূন আচার্য

0
23

সাইঞা মান যা। ভাই তুহি সিএম বা। পরাজিত নীতিশের মানভঞ্জনে গাইছেন সুশীল মোদি। হাসছে বিহার, বিজেপিও

——–প্রসূন আচার্য

সোজা বা বাঁকা পথ, যাই হোক শেষ অব্দি বিহারে এন ডি এ কেঁদে কঁকিয়ে জিতেছে।

কিন্তু মানুষের রায় স্পষ্ট নীতিশ কুমারের বিরুদ্ধে। আজ পর্যন্ত এই রকম দুরবস্থা নীতিশের হয়নি। 243 জনের বিহার বিধানসভায় মাত্র 43 জন বিধায়ক। ভোট 15%। তাই তিনি নাকি মুখ্যমন্ত্রী হতে চাইছেন না!

বুধবার পটনার যা খবর, নীতিশ গোঁসা ঘরে খিল দিয়েছেন। গত 24 ঘণ্টায় এক বারের জন্যও টিভির সামনে বা সমর্থকদের সামনে আসেননি। আর বন্ধুর মানভঞ্জনে বার বার এক নম্বর অন্নে মার্গের বাড়িতে ছুটতে হচ্ছে বিজেপির ছোট মোদি, সুশীল মোদিকে। মঙ্গলবার রাতে প্রেসের সামনে তাঁকে বলতে হয়েছে, “এটা শুধু এন ডি এ শিবিরের জয় না। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের সুশাসনের জয়।” আবার বুধবারও সেই একই কথা। দিল্লি থেকে বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাও বলেছেন, নীতিশই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কোন মুখে হবেন? নীতিবাগীশ নীতিশ পড়েছেন মহা ফাঁপড়ে। যদিও ইচ্ছে আছে ষোলোয়ানা।

আমার এই পেজে ‘বদলে বিহার’ শিরোনামে লিখেছিলাম নীতিশকে দেখে কষ্ট হচ্ছে। লালু পুত্র তেজস্বী, বিজেপির মদত পুষ্ট রামবিলাস পুত্র চিরাগ পাসওয়ান, কট্টর হিন্দুবাদী নেতা দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ, অস্বিনী চৌবে-সহ বিহার-বিজেপি ইউনিটের বড় অংশ, সবাই মিলে টার্গেট করেছিলেন নীতিশকে। যাতে চক্রবুহে আবদ্ধ নীতিশ পালাবার পথ খুঁজে না পান। ঠিক তাই হয়েছে। নীতিশ এর দল জেডি ইউ লড়েছিল 118 টি আসনে। হেরেছে 75 টিতে। স্ট্রাইক রেট 35%। ভোট পেয়েছে 15.4%। তারমধ্যে প্রায় দুই ডজন আসনে একা চিরাগ হারিয়ে দিয়েছেন। নীতিশ যাঁকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রচারে এসে চিরাগের বাবা প্রয়াত রামবিলাসকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন। তারও তো একটা প্রভাব আছে। নাকি ? বাবার মৃত্যুর পরে একা লড়ে মাত্র একটি আসন জিতলেও চিরাগ 6% ভোট পেয়েছেন। এই বাজারে যা কম না।

প্রতিটি সভায় লালু-রাবাড়ির 15 বছরের কুশাসন আর জঙ্গল রাজের কথা জনতাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন নীতিশ। কিন্তু ভোটের বাজারে হঠাৎ করে দিল্লি থেকে এসে, মহাজোট গড়ে লালু-রাবাড়ির পুত্র তেজস্বী আরজেডিকে শুধু বিহারের প্রথম দলে পরিণত করেননি, নীতিশকে ধাক্কা দিয়ে 75 টি আসনে জয়ী হয়েছেন।স্ট্রাইক রেট 52%। ভোট 23.2%। অথচ 2019 সালের লোকসভা ভোটে এই দল গোহারা হেরেছিল। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিজেপির ভোট 19.4%। আসন 73 টি। নীতিশের থেকে কম আসনে লড়ে স্ট্রাইক রেট 67%। মাত্র 19 টি আসনে লড়ে সিপিআই এম এল (লিবারেশন) 12 টি জিতেছে। ভোট 3.2%। এমনকি 70 টিতে লড়ে 19 টি আসন জেতা কংগ্রেসও 9.5% ভোট পেয়েছে।

তাহলে কি দেখা গেল? বিহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করলেও( এ বার গোটা ভোট পর্বে বড় কোনও ঘটনা বা প্রাণহানির খবর নেই) কর্মসংস্থান, ও উন্নয়নের প্রশ্নে বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণে ব্যক্তি নীতিশ ও তাঁর দলকে মানুষ পরিত্যাগ করেছে। আসাউদ্দিন ওয়েসির দল মিম যদি সীমাঞ্চল, অর্থাৎ মাধেপুরা, পূর্ণিয়া , কটিহার, কিশানগঞ্জে (যেখানে বহু আসনেই মুসলিম 33% এবং যাদব প্রায় 20%) কট্টর মুসলিম মতবাদ প্রচার করে পাঁচটি আসন না জিততো বা 12 টি আসনে আরজেডি-কংগ্রেসকে না হারাতো, এনডিএ 105 এর নিচেই থাকতো।

আরও একটি ঘটনা ঘটেছে। এবং আমি পটনায় একাধিক সূত্রে খবর নিয়ে জেনেছি, যা সত্যি। প্রায় 10-12 টি আসনে ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে। যেগুলির ব্যবধান কম ছিল। মুখ্যমন্ত্রী নিবাস থেকে রীতিমতো রিটার্নিং অফিসারদের হুমকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে, মাঝপথে গণনা বন্ধ করে, কিছু ইভিএম না গুণে বা পোস্টাল ব্যালট এর ভোট যোগ না করে, বা পরে গোনা হবে বলে ফেলে রেখে, শেষ পর্যন্ত এনডিএ প্রার্থীদের হাতে বিজয়ীর সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে মামলা অনিবার্য।

এটা অবশ্য যে যখন প্রশাসনে থাকে করে। লালুপ্রসাদের সময় তিনি অনেক বেশি করতেন। এই বাংলাতেও বাম আমলে হতো। সুভাষ চক্রবর্তী গণনায় পিছিয়ে গেলে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়ে গণনা কেন্দ্রে আলো নিভে যেত। সবং এ মানস ভূঁইয়াকে ভোটে কারচুপি করে হারানো হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ে পরে তা প্রমাণ হয়েছিল। গত লোকসভা ভোটেই হুগলির একটি আসনে এই ভাবে তৃণমূল প্রার্থীকে জেতানো হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপি মামলা করেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যিনি বিহারকে সত্যি বদলে দিয়েছেন, তাঁকে কেন এই ভাবে কারচুপির আশ্রয় নিতে হবে? নীতিশ নিজে জানেন, তিনি কী করেছেন। জানেন তাঁর ডেপুটি সুশীল মোদি। এমনকি নন্দ কিশোর যাদব, গিরিরাজ সিংহদের মত বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীরাও জানেন। ফলে হাসছে বিজেপি শিবির। এ কাজ না করলে আজ নরেন্দ্র মোদি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে পারতেন না নীতিশকে। মুষড়ে পড়তে হতো পদ্ম শিবিরকে।

সব থেকে বড় কথা আজ পর্যন্ত জোটে নীতিশ ছিলেন বড় শরিক। বিজেপি ছোট শরিক। এ বার ঠিক তার উল্টো। নীতিশ এর আসন সংখ্যা 2005 সালের প্রথম ত্রিশঙ্কু বিধানসভা ভোটেও এর থেকে বেশি ছিল। 55 টি। সেই বছরই পরের ভোটে 88 আসন জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন নীতিশ। ডেপুটি মোদি। 2010 সালে বিজেপির সঙ্গে জোট করে 115, লালুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে 2015 সালে 100 আসনে লড়ে 71 আসনে জিতেছিলেন নীতিশ। হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী। পরে জোট ভেঙে বেরিয়ে এসে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলান। আবার ডেপুটি কলেজ জীবনে বন্ধু সুশীল মোদি।

সেই মোদি এখন দু’দিন ধরে মানভঞ্জনে লেগেছেন। পালা চলছে। গান হচ্ছে। রাধিকার মানভঞ্জন পালা। বেহালা আর সারেঙ্গি বাজছে। অন্যদিকে, পর্দার পিছন থেকে কারা যেন চিৎকার করে বলছে, নীতিশ কুমার তুমি হেরে গিয়েছো। তোমাকে সবাই মিলে হারিয়ে দিয়েছে। তুমিই না বিশ বছর আগে গাইসল ট্রেন দুর্ঘটনার দায় কাঁধে নিয়ে এক কথায় রেলমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ছিলে!

তা হলে এ বার অন্নে মার্গের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িটাও ছেড়ে দাও। অন্য কেউ মুখ্যমন্ত্রী হোক। সুশীল মোদি হোক। জয় হোক নীতিশের নীতি আর নৈতিকতার।

C@Prasun Acharya

Plz like and share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here