সর্বাধিক ৫০,০০০ ভোটে জেতা বিহারের  ৪ বারের বাম বিধায়ক মেহবুব আলম # চাষাবাদ করেই সংসার চলে # ইট আর বেড়ার দরমা দেওয়া কাঁচা বাড়ি # হেঁটে অথবা বাস ট্রেন অটোতেই যাতায়াত

0
63

নিজস্ব সংবাদদাতা # বিহারের  ৪ বারের বাম বিধায়ক মেহবুব আলম৷

একটা পাকা বাড়ি পর্যন্ত করতে পারেননি।

বিহারে এবার সবথেকে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন তিনি৷

কাটিহারের বলরামপুর কেন্দ্র থেকে ৫০,০০০-এর বেশি ভোটে জিতেছেন মেহবুব আলম৷

নিজের এলাকায়  জনপ্রিয় এই বিধায়ক এই নিয়ে টানা চার বার জিতলেন ৷

যদিও বিহার নির্বাচনে চার বারের বিজয়ী এই বাম বিধায়ক অন্যদের থেকে একটু বেশিই ব্যাতিক্রমী।

৪৪ বছর বয়সী এই পোড় খাওয়া বিধায়কের বাড়ি বিহারের বলরামপুরের শিবাপুর গ্রামে।

বিধায়কের বাড়ি যেতে হলে পাকা রাস্তা পেরিয়ে মাটির রাস্তার পথ ধরতে হবে।

এই গ্রামেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা আলমের।

বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও তাঁর ৪ এবং ৯ বছরের দুটি সন্তানও রয়েছেন।

চাষাবাদ করেই সংসার চলে।

এমনকি এমএলএ হয়েও সন্তানদের সরকারি স্কুলেই পড়ান।

৪বারের বিধায়ক হয়েও জমিজমা সম্পত্তি গাড়িতো দূরে থাক নিজেদের ভালো থাকার জন্য একটা পাকা বাড়িও পর্যন্ত গড়েননি এই বিধায়ক।

নিজের ইট আর বেড়ার দরমা দেওয়া কাঁচা বাড়ি থেকেই ভোটে লড়ে আসছেন তিনি।

হেঁটে অথবা বাস ট্রেন, অটোতেই যাতায়াত করেন মেহবুব আলম৷

বিহার বিধানসভায় এবার যে বিধায়করা নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ৮১ শতাংশই কোটিপতি।

তার মধ্যে মেহবুব আলম সত্যিই ব্যতিক্রম৷

নির্বাচনী হলফনামায় মেহবুব আলম তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাত্র ৩০,০০০ টাকা রয়েছে। এছাড়াও তাঁর বাড়ি এবং চাষের জমি দিয়ে মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯ লক্ষ টাকা।

বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও কোনও গাড়ি ব্যবহার করেন না তিনি।

শুধু তাই নয়, সিপিআইয়ের এই বিধায়ক  জানিয়েছেন, তিনি খুবই সাধারণভাবে জীবন যাপন করার চেষ্টা করেন। এটি কমিউনিজম নয়, এটা আদর্শবাদ। তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে এমন লোকজন আছেন যাদের দুবেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ায় কঠিন। সেখানে তিনি মনে করেন না যে বিধায়ক হিসেবে বিলাসিতায় জীবন কাটানোর দরকার আছে। তাঁর এই জয়ের জন্য প্রচারে কমরেডরা অনেক সহায়তা করেছেন। সমস্ত বাম ক্যাডারের মতো, তিনি বেতন হিসাবে যা অর্জন করেন। এবং এমএলএ-র কাছ থেকে প্রায় ৮০,০০০ টাকার অধিক আদায় করেন তার বেশিরভাগই দলের ফান্ডে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here