রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার দাবি জানিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন # অপরাধীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের # তাই অপরাধীদের গ্রেফতার করায় তার বিরোধিতা করে ট্যুইট করছেন রাজ্যপাল

0
54

নিজস্ব সংবাদদাতা # রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করারও দাবি জানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কল্যাণ  বলেন………….

১) অপরাধীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের৷

২) তাই অপরাধীদের গ্রেফতার করায় তার বিরোধিতা করে ট্যুইট করছেন রাজ্যপাল৷

৩) পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করছেন৷

বৃহস্পতিবার রাজ্যপালকে নিশানা করে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷

কল্যাণের অভিযোগ, গোবিন্দ আগরওয়াল এবং সুদীপ্ত রায়চৌধুরী নামে  দুই অভিযুক্তের হয়ে সওয়াল করছেন রাজ্যপাল৷ বার বার মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন রাজ্যপাল ৷

কল্যাণ  বলেন,গোবিন্দ আগরওয়াল এবং নীরজ সিং নামে এক আইআরএস অফিসারের বিরুদ্ধে ইডি প্রথম মামলা দায়ের করে৷ পিএমএলএ অ্যাক্টে অভিযুক্তদের ৩.৮৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করে৷ এরপর ইডি-র থেকে তদন্তের কাগজপত্র সংগ্রহ করে আরও তদন্ত করে কলকাতা পুলিশ৷ ২১ নভেম্বর গোবিন্দ আগরওয়ালকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ৷ অন্যান্য আরও চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের নামও তদন্তে উঠে আসে৷

কল্যাণ আরও দাবি করেন, এই তদন্তেই সুদীপ্ত রায়চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিবিআই-এর কাছ থেকে তথ্য পায় কলকাতা পুলিশ৷ তাকেও গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ৷

এই সুদীপ্ত রায়চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইডি বিধাননগর পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেছিল বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ৷

কল্যাণ বলেন, ইডি তদন্তে উঠে আসে যে এই সুদীপ্ত রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে রোজভ্যালির এক কর্মীর থেকে ২ কোটি টাকা নিয়েছিলেন৷

এই ব্যক্তি মানুষ ও গরু পাচার এবং তোলাবাজির বড়সড় চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযোগ করেন কল্যাণ৷

তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পুলিশ ও বিধাননগর পুলিশ৷

এমন কি, এই সুদীপ্ত রায় চৌধুরী ইডি-র ভুয়ো তথ্য দেখিয়েও টাকা তুলত বলে অভিযোগ কল্যাণের৷

তাঁর অভিযোগ, গোবিন্দ আগরওয়াল এবং সুদীপ্ত রায় চৌধুরীর গ্রেফতারের বিরোধিতা করে ২২ এবং ২৫ নভেম্বর দু’টি ট্যুইট করেছেন৷

কল্যাণ বলেন, ইডি যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য কেন বাধা দিচ্ছেন রাজ্যপাল?রাজ্যপালের সঙ্গে বিজেপি-র এবং পশ্চিমবঙ্গের অনেক ক্রিমিনালের সরাসরি যোগাযোগ আছে৷ বার বার তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করছেন৷ রাজ্যপাল মূল অভিযুক্তদের সাহায্য করার চেষ্টা করছেন৷ তদন্তে বাধা দেওয়ার এবং প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন৷

তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আরও পর্দা ফাঁস করবেন তাঁরা৷

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনও ব্যক্তি যদি ফৌজদারি তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বা অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৬ এবং ১৮৯ ধারায় মামলা শুরু করা যায়৷

এই দুই ধারার উল্লেখ করে রাজ্যপালের বিরুদ্ধেই তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা শুরু করার জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন কল্যাণ৷

তাঁর দাবি, পুলিশ আধিকারিকদের যেভাবে হুমকি দিচ্ছেন রাজ্যপাল, তাও অপরাধের সামিল৷

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই ধারাতেও মামলা করার দাবি জানিয়েছেন কল্যাণ৷

তাঁর অভিযোগ, ট্যুইট করে কলকাতা এবং বিধাননগর পুলিশকে অকেজো করার চেষ্টা করছেন রাজ্যপাল৷ পুলিশকে হুমকিও দিচ্ছেন তিনি৷ যেটা তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here