মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সকলকে আদালতের রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, বাড়িতেই ছট পুজো করুন # বস্তুত বিশ বছর আগে তাই করা হত # ফেসবুকে লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রসূন আচার্য # বিহারি অধ্যুষিত পাড়ায় স্থায়ী বা অস্থায়ী জলাধার বা চৌবাচ্চা বানিয়ে সেখানেই ছট পুজো করা হোক

0
62

ছট পুজো হোক। কিন্তু পরিবেশ রক্ষা করে। ফি বছর আইন আদালতের চক্কর বন্ধ করে স্থায়ী সমাধান চাই

—প্রসূন আচার্য

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলার ১০ লাখের বেশি মানুষ ইদানিং ছট পুজো করেন।

যেহেতু পুজো হয় জলাশয় বা নদীকে কেন্দ্র করে, তাই এক ভয়ঙ্কর জল দূষণ হয়।

তেল, ঘি, পুজোর ফুল, উপকরণ পড়ে জলে।

শুধু কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের জেলা নয়, গত দুই বছর ধরে উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে মালদহ এবং শিলিগুড়িতে ধুমধাম করে ছট পুজো হচ্ছে।

এবং সেখানেও নদী ও জলাশয় দূষিত হচ্ছে।

সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে, পুজোর পরে নদী বা জলাশয়ের জলে অক্সিজেনের মাত্রা এতই কমে যাচ্ছে যে মাছ, কচ্ছপ, ব্যাঙ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে।

জল ঠিক হতে পনেরো দিন, এক মাস সময় লেগে যাচ্ছে। এ এক ভয়ঙ্কর অবস্থা!

বাংলায় বিহারি মানুষ-জন বসবাস করছেন ২০০ বছরের বেশি।

কিন্তু অতীতে এত ছট পুজোর ধুম ছিল না।

ফলে বিষয়টি নিয়ে তেমন করে ভাবার প্রয়োজন পড়েনি।

কিন্তু বিগত ১০/১৫ বছর ধরে এই পুজো ক্রমাগত বাড়ছে।

এখন এটাই হিন্দু বিহারি জনগণের প্রধান উৎসব।

ফলে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা আজ ছট পুজো করেন ধুমধাম করে।

আগে বেশির ভাগ পুজো হত গঙ্গার ঘাটে।

কিন্তু ইদানিং দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর বা পূর্ব কলকাতার সুভাষ সরোবরে ধুমধাম করে পুজো হচ্ছে।

আরও অনেক জলাশয়েই হচ্ছে।

গত বারের ছট পুজোর সেই ছবি এবং পুজোর পরে কী ভাবে মাছ ও কচ্ছপ মরে ভেসে উঠেছে, সেই ছবি দিয়েছি।

সৌজন্যে আমাদের বন্ধু, পরিবেশ কর্মী সৌমেন্দ্র নাথ ঘোষ।

গত বার আদালতের রায় অমান্য করেই পুজো হয়েছিল।

কিন্তু এই বার পরিবেশ কর্মীরা আরও সজাগ হয়েছেন।

তাই তাঁরা আগেই আদালতে গিয়েছেন। হাইকোর্ট ও পরিবেশ আদালতের রায় ছিল, জাতীয় সরোবরে ছট পুজো করা যাবে না।

যদি মমতা-সরকারের সদিচ্ছা থাকতো তা হলে এই রায় তাঁরা মেনে নিতেন। আগাম ব্যবস্থাও নিতেন।

কিন্তু ২০২১ এর বিহারি ভোটের কথা ভেবেই কলকাতা পুরসভার প্রধান ববি হাকিম সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। যদি এই বছরটা ছাড় পাওয়া যায় !

তাঁর সেই আশায় আজ ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জল ঢেলে দিয়ে পরিবেশ আদালতের আগের রায়ই বহাল রেখেছে।

এখন কী হয় সেটাই দেখার।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সকলকে আদালতের রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, বাড়িতেই ছট পুজো করুন। বস্তুত বিশ বছর আগে তাই করা হত।

কিন্তু আমার মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার।

ঠিক যে ভাবে, দুর্গা বা কালী পুজোর ভাসানের ক্ষেত্রে গঙ্গা দূষণ বন্ধে বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে, ছটের ক্ষেত্রেও তাই হোক।

কারণ রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের জন্য কোনও কড়া পদক্ষেপ নেবে না। নদী ও জলাশয় গুলি প্রতিবছর দূষিত হতেই থাকবে।

চরম ক্ষতি হবে বস্তুতন্ত্রের।

টিভিতে দেখলাম, জয়প্রকাশ মজুমদার সমালোচনা করেছেন ববি হাকিমকে।

বলছেন, “কে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। আজ তৃণমূল ভোটের জন্য এসব করেছে।”

কিন্তু সবাই জানেন, বিহারি ভোটের বড় অংশ এ বার বিজেপি পেয়েছে।

তাই আগামী দিনে তারা যদি কোন ভাবে ক্ষমতায় এসে যায়, এ নিয়ে কিচ্ছু করবে না।

ধর্মই ওঁদের ভোট পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার।

সিপিএম বা কংগ্রেসের এ ব্যাপারে আদৌ কোনও নির্দিষ্ট নীতি আছে বলে জানি না।

সময় বুঝে তারা অবস্থান নেবে।

তাই পরিবেশ আদালত বা অন্য কোনও এজেন্সি এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করুক।

বিহারি অধ্যুষিত পাড়ায় স্থায়ী বা অস্থায়ী জলাধার বা চৌবাচ্চা বানিয়ে সেখানেই ছট পুজো করা হোক।

এবং সেটাই যেন স্থায়ী রূপ পায়।

প্রতি বছর ছট পুজোর এক মাস আগে থেকে এই আইন আদালতের চক্কর আর নাটক বন্ধ হোক।

সরকার আদালতে যাওয়া মানেও আমাদের ট্যাক্সের টাকা বাজে খরচ।

তার থেকে কিছু স্থায়ী ব্যবস্থা হোক।

আর হ্যাঁ, এখন থেকেই সেই কাজ শুরু হোক।

C@Prasun Acharya

Plz like and share.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here