মুখ্যমন্ত্রীর দাবি মতো ৯৯.৯৯ % কাজ যদি তার প্রশাসন বছর ভর সত্যিই করতো তাহলে আর দুয়ারে দুয়ারে যেতে হতো না সরকারকে # আপসে ভোট আসতো শাসক দলের বাক্সে # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
57

# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

 
 
  ।।।।।।।।।  শ্যামলেন্দু মিত্র  ।।।।।।।।।
 
 
ভোটের মুখে কেন রাজ্য সরকারকে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যেতে হচ্ছে!    
 
এই মিলিয়ন ডলারের কোশ্চেনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে উত্তর।
 
রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বহুবার বলেছেন,  ৯৯.৯৯ % কাজ হয়ে গেছে।
 
এই দাবি সঠিক হলে  আর সরকারের মানুষের দুয়ারে  যাওয়ার প্রয়োজনই হত না।
 
দুয়ারে সরকার কর্মসূচি নিসন্দেহে  সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয়। 
 
কিন্তু এইসব কাজ তো সারা বছর ধরেই সরকারের করার কথা।
এটা রুটিন কাজ।
 
এখন ভোটের মুখে টনক নড়ল কেন!  
 
এর অর্থ হল, যে কাজ স্বাভাবিকভাবে করার কথা তা করা হয়নি। 
দুটো টার্ম অর্থাৎ  ১০ বছর সরকার চলার পর আর দুয়ারে যাওয়া মানেই সরকারের ব্যর্থতা।
 
শিবির করা হয় তখনই,যখন বকেয়া কাজ পড়ে থাকে।
 
এক্ষেত্রেও তাই। সেজন্যই সরকারকে মানুষের দুয়ারে যেতে হচ্ছে।
প্রতিটি কর্মসূচিই গুরুত্বপূর্ণ। এবং মানুষের সহায়ক।
 
এর মধ্যে স্বাস্থ্যসাথী  অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কর্মসূচি। এটা আগেই চালু।
 
স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে বেসরকারি হাসপাতাল কি সঠিকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে?  বেড নেই বলে রোগী ফেরত  দেওয়া হচ্ছে।
 
এর অন্তর্নিহিত কারণ  কী?  তা খুজলেই সরকার জানতে পারবেন। 
 
সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমায় কি ক্যাশলেসের সুযোগ মিলছে বেসরকারি হাসপাতালে?  এরও একই কারণ।
 
শুধু কার্ড বিলি করলেই হবে না। কার্ড যাতে সক্রিয় থাকে তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
 

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী  শুরু হয়ে গিয়েছে  তৃণমূল সরকারের নতুন কর্মসূচি দুয়ারে  সরকার।

একদিনে ৩ লাখ মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছে দুয়ারে সরকারে। এতেই পরিস্কার মানুষের কাছে সরকার আগে পরিষেবা দিতে পারেনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা অনুযায়ী, এবার সরকার আপনাদের দুয়ারে কড়া নাড়বে।

মঙ্গলবার  থেকেই সাজো সাজো রব।

 চলবে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত।

এই কর্মসূচি সফল করতে রাজ্যজুড়ে ২০,০০০ শিবির হচ্ছে।

কোনও নাগরিক যদি কোনও সরকারি পরিষেবা না-পেয়ে থাকেন তবে তাঁরা এই শিবিরেই আবেদন করতে পারবেন।

সোমবার নবান্ন থেকে এক ভার্চুয়াল বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্যসচিব প্রত্যেক জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

 রাজ্যের মানুষদের সমস্ত পরিষেবা ভালো করে প্রচার করা ও এর জন্য কী কী নথিপত্র দাখিল করতে হবে সেগুলি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 বঙ্গবিজেপি  সভাপতি দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভা থেকে দাবি করেন সরকার ১০০ শতাংশ কাজ করে ফেলেছে। যদি তাই হয় তবে সরকারকে কেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যেতে হচ্ছে?

বামেদের তরফেও একই কথা বলা হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য……..

১) আগামী ২ মাস সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই শিবির গড়ে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

২) একই ছাতার তলায় ১১টি সেরা প্রকল্পের পরিষেবা পাবেন সাধারণ মানুষরা।

৩) যারা  আগে পরিষেবা পাননি তাঁরা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।

৪) তেমনই অন্যান্যরা নিজেদের অভাব অভিযোগও জানাতে পারবেন।

৫) সরকারি পেনশন, বিধবা বা বার্ধক্যভাতার নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে।

৬)  চটজলদি নিষ্পত্তিতে উদ্যোগী হবেন প্রশাসনের অফিসাররা ।

৭)  কত সংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে, কত অভিযোগের নিষ্পত্তি হচ্ছে, তা দেখভালের জন্য তৈরি হয়েছে  আধুনিক পরিকাঠামো।

৮) মুখ্যসচিব বলেন, চালু হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম। খোলা হচ্ছে অনলাইন পোর্টালও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here