মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও বেশি আধুনিকীকরণ করা সময়ের দাবি # বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মোহাম্মদ সাদউদ্দিন

0
37

মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও বেশি আধুনিকীকরণ করা  যুগেরই দাবি/ মোহাম্মদ সাদউদ্দিন

মাদ্রাসা শিক্ষার ঐতিহ্যকে রেখেই তার কৃৎ-কৌশলগত বিকাশ ও আধুনিকীকরণ করাটা আজ কিন্তু সময়ের দাবি বা যুগের দাবি।

আমাদের মনে থাকতে পারে কলকাতা মাদ্রাসা কলেজ আজ আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছিল বলেই আজ সেখান থেকে বিভিন্ন বিষয়ে কিন্তু গবেষক উঠে আসছেন।

সেখানে ৩৭ ধরণের বৃত্তিমূলক শিক্ষাও পঠন- পাঠনে আনা হয়েছে।

২০১১ সালে আবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মাদ্রাসা শব্দটি চালু করার জন্যে কিছু মুসলিম সংগঠন উঠেপড়ে লাগলেও মুসলিম সমাজের শিক্ষিত অংশ ও আলিয়ার ছাত্র ছাত্রীরা পাল্টা রাস্তায় নামে।

তাদের যুক্তি ছিল, ইসলাম আধুনিক শিক্ষার জন্য কখনোই বাধা নয়।

পশ্চিমবঙ্গে কিদোয়াই কমিশনের সুপারিশকে মেনে মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা পালন করেন বাম জমানার সংখ্যালঘু মন্ত্রী আব্দুস সাত্তার ।

পবিত্র কোরআন শরীফের বক্তব্য, একজন বিশ্বাসী কখনোই লাভজনক জ্ঞানে সন্তুষ্ট হন না। আমৃত্যু জ্ঞান আহরণ  করতে থাকেন এবং জান্নাতবাসী হন।

ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী ইলম বা জ্ঞান কেবলমাত্র জ্ঞান আহরণে সীমাবদ্ধ নয়। এর আর্থ সমাজিক ও নৈতিক দিক রয়েছে।

জ্ঞান কেবলমাত্র তথ্য নয়। বিশ্বাসীদের আরদ্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সমাজের উন্নয়নের জন্য দায়বদ্ধ হতে হবে।

মাদ্রাসা এমন একটি জায়গা যেখানে দরিদ্র মুসলিম শিশুদের সিংহভাগ ইসলামী শিক্ষা ও কোরান পাঠ করতে আসে।

মাদ্রাসা এই দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেয় এবং স্বচ্ছল মুসলমানদের দানের উপর নির্ভরশীল ।

এই ধরণের শিশুদের মা- বাবা অত্যন্ত দরিদ্র ও অশিক্ষিত।

কিন্তু ধর্ম ভীরু হয়।

শিক্ষাক্রমের মান নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না।

কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো শোনালেও এই মাদ্রাসাগুলির শিক্ষক বা আলেমরা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার পণ্য ।

স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষা মন্ত্রী মৌলানি আবুল কালাম আজাদ মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণের পক্ষপাতী ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সময়ে পৃথক মাদ্রাসা শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয়।

তাকে আরও সক্রিয় করা হয় পরবর্তীতে ।

বাম জমানায় মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ করার জন্য গঠিত হল কিদোয়াই কমিশন।

আজ কিদোয়াই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের অধীনে মাদ্রাসা গুলি চলছে মাধ্যমিক স্কুলের মতোই।

আজ এইসব সরকারি মাদ্রাসাতে ২১%- এর উপর অমুসলিম ছাত্র ।

সমস্যা আছে কিন্তু বেসরকারি খারিজা মাদ্রাসা নিয়ে ।

এদের অনেকেই মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সিলেবাস অনুসরণ করে ।

তার পরিমাণটা কম।

কেবল পবিত্র কোরআন কন্ঠস্থ করলেও তারা নিজ মাতৃভাষায় বুঝতে সক্ষম হন না।

ইসলাম কিন্তু এই ধরণের শিক্ষাকে মোটেই সায় দেয় না।

খারিজি মাদ্রাসাগুলিকে কোথাও কোথাও শিশু শিক্ষা কেন্দ্র বা মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র করছে।

এ ব্যাপারে সুসংহত চিন্তা ভাবনা দরকার।

তাই খারিজি মাদ্রাসাগুলিরও সংস্কার দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here