মন্ত্রী হয়েও সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য তার চেম্বারে মমতা ব্যানার্জির ছবি রাখেননি # মমতা ব্যানার্জি আমার দলনেত্রী # কিন্তু তিনি আমার আদর্শ নন # যেসব মনীষী আমার আদর্শ তাদের ছবিই আমার ঘরে থাকে # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র # লালুপ্রসাদকে গ্রেফতার করা প্রাক্তন সিবিআই কর্তা উপেন বিশ্বাস মন্ত্রী হয়ে চেম্বারে রাখতেন তার আদর্শ অম্বেদকরের ছবি

0
101

# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম।ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

।।।।।।।।শ্যামলেন্দু মিত্র।।।।।।।।।

অনেকদিন আগের কথা।

সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য তৃণমূলের বিধায়ক হয়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন।

বিকাশভবনে ওনার চেম্বারে গিয়ে দেখি মমতা ব্যানার্জির ছবি নেই। তার বদলে ছবি রয়েছে বাংলার মনীষীদের।

এর কারণ জানতে চাইলে মাস্টারমশাইয়ের অকপট উত্তর, মমতা ব্যানার্জি আমার নেত্রী। কিন্তু তিনি আমার আদর্শ নন। আমার যারা আদর্শ তাদের ছবিই আমার ঘরে থাকে।

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবকে যিনি গ্রেফতার গ্রেফতারের করেছিলেন সিবিআইয়ের সেই প্রাক্তন কর্তা উপেন বিশ্বাস তৃণমূলের বিধায়ক হয়ে মন্ত্রী হন।

মহাকরণে তার ঘরেও ছিল না মমতা ব্যানার্জির ছবি। ছিল আম্বেদকরের বিরাট ছবি।

উপেনদারও অকপট উত্তর, আম্বেদকর আমার আদর্শ।

উপেনদা লালুপ্রসাদকে গ্রেফতারের মজার মজার গল্প আমাকে শুনিয়েছেন।

উপেনদা ভোটে হেরে যান। তৃণমূলের সঙ্গে আছেন,কিন্তু দূরে সরে গেছেন।

সিঙ্গুরের মাস্টারমশাইকে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী থেকে সরিয়ে কৃষিমন্ত্রী করা হয়। পরে সেখান থেকে সরিয়ে একটা ছোট দফতরের মন্ত্রী করা হয়। পরে আর মন্ত্রী করা হয়নি।

সিঙ্গুরের বেচারাম মান্না হরিপালের বিধায়ক হিসেবে একবার মন্ত্রী হন।

বেচারাম আর মাস্টারমশাইয়ের দ্বন্দ্ব সিঙ্গুরে সর্বজনবিদিত।

বেচারামের পাল্লা ভারি। তাই দলে কোনঠাসা মাস্টারমশাই।

মাস্টারমশাই এবার সরাসরি  বিদ্রোহ করেছেন।

এবার দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা স্থানীয় বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

তাঁর দাবি দল না মানলে অন্য দলে যোগ দিতে পারেন বলে প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন।

সিঙ্গুরে বেচারাম মান্নার গোষ্ঠীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথবাবুর গোষ্ঠীর লড়াই নতুন নয়।

সম্প্রতি  দলের  হুগলি জেলার সাংগঠনিক রদবদলে রবীন্দ্রনাথবাবুর মনোনীত ব্যক্তিতে ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে বেচারাম অনুগামীকে বসানো হয়।

তার পরই ক্ষোভ ছড়ায় রবীন্দ্রনাথ গোষ্ঠীর মধ্যে।

রবিবার সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই  প্রকাশ্যেই বলেন…..

১) যেখানে অন্যায় করেও পরিচালক হতে পারে।

২) আমরা যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই, তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হল।

৩) এইরকম ব্যবহার দলের কাছ থেকে পাবো বলে প্রস্তুত ছিলাম না।

৪) দল আমার প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখালেও এই শেষ মুহূর্তে দলে আমাকে সমস্ত কিছু থেকে বঞ্চিত রেখে অবহেলা করে সরিয়ে দেওয়া হল।

এর আগেও একাধিকবার অভিমান করে দলীয় সংগঠন থেকে নিজেরে সরিয়ে রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথবাবু।

পরে যদিও দলের তরফে মান ভাঙানো হয়।

তবে এবার একেবারে দলবদলের হুমকি দিয়েছেন……… আমার দাবি দলের তরফে বিবেচনা না করলে অন্য দলেও যেতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here