বেঙ্গল ওয়াচ # সাহিত্যের পাতা # দশম সংখ্যা # ৮ নভেম্বর # কবিতা # সুতপা ব‍্যানার্জি রায় # সবিতা কুইরী # ভাস্কর মাঝি # কাঞ্চন রায় # কানুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়

0
38
।।।কবিতা।।।।।।।।।।।।।।।।।
এলোমেলো।।।।।
।।।।।।।।।সুতপা ব‍্যানার্জি রায়।।।।।।।।।।।।।
সমুদ্রের উতলা ঢেউয়ের মিলিয়ে যাওয়া ফেনা,
রেখে যায় কিসের অস্তিত্ব, পুরনোকে ফিরে পাওয়া,
না নতুনের সংকেত, আছড়ে পড়া সময়ের অপেক্ষা,
জোয়ারের উদ্দামতায়, নৌকোর পালে কিসের প্রতিধ্বনি
ঝড়ের পূর্বাভাস? না নেহাতই সাদামাটা ভোরের প্রতীক্ষা,
রক্তিম আকাশে ধরা দেয়, লুকিয়ে থাকা কাব‍্য কথারা,
অনাদিকালের কলকল মিশে যায় নোনা জলের আস্বাদে,
নুলিয়াদের অস্থায়ী ছাউনি আর জেলেদের অনিশ্চিত
জীবনের ভাবনার মতো নিরলস অস্তিত্বের সংকট,
জানান দেয় নিক্তিতে মাপা জীবনের মাপ দড়িটা
ঠিক কোথায়, পা মিলিয়ে চলতে না পারলেই নীচেতে
অতলান্ত খাদের হাতছানি, শোকের উথালপাতাল,
ভাবনারা ঢেউয়ের পিঠে যায় আর ফিরে আসে,
তপ্ত বালুরাশি জানে না সমুদ্রের  অনুশোচনার স্বর,
কান পাতলে শোনা যেত গর্জনের বেশির ভাগটাই,
দেওয়ালের ধাক্কায় ফিরে ফিরে আসা ফাঁকা ধ্বনিরূপ,
কুড়োনো ঝিনুকের বুকে সাজানো সুখের মুক্তোরা
হারিয়ে যায়, পদদলিত সিলিকায় লুকিয়ে থাকে
শুধু বাঁচার আকুতি, কাব‍্যহীন মৃত্যুর প্রতীক্ষায়,
অক্টোপাসের না চাওয়া বন্ধনে খেলা করে
পরাধীনতার অসুখ, ডানা মেলতে না পেরে
যায় নিষিদ্ধের খোঁজে, অবধারিত মৃত্যু জেনেও;
চকিত অন‍্যমনস্কতায় ঢেউয়ের অজানা ধাক্কায়,
ভেঙে যেতে পারে বালির প্রাসাদ, বাধাহীন প্রলাপে।
———-
মুখোশ মানুষ।।।।।।।।
।।।।।।।।।।সবিতা কুইরী।।।।।।।।।।
সেদিন ভোরে স্বপ্ন দেখি
যাচ্ছে মানুষ ভিন্ন গ্রহে
এই পৃথিবী সংক্রমিত
মরার ভয়ে প্রাণের মোহে।
যাচ্ছে মানুষ হাজার হাজার
জন্মভূমি মাকে ফেলে
গরিব যাঁরা যাচ্ছে হেঁটে
ধনীরা সব পাখনা মেলে।
দাঁড়িয়ে সেথা ফটকপারে
প্রহরী দুই মস্তপারা
সুস্থ সবল মানুষগুলো
বেছে বেছে তুলছে তারা।
রুগ্ন যাঁরা সংক্রমিত
আসছে ফিরে অশ্রুজলে
ধরিত্রী মা হাত বাড়িয়ে
আদর করে নিচ্ছে কোলে।
স্বপ্নে আমি দেখেছিলাম
কেঁদেছিল বসুন্ধরা
স্বার্থপর এই মানুষগুলো
সত্যিকারের মুখোশ পরা।
ফুঁপিয়ে কেঁদে বলছি যেন
থাকব তোমার চরণ তলে
সুস্থ হই বা সংক্রমিত
মরব মাগো তোমার কোলে।
———-
অভীপ্সা।।।।।।।।।।।।
।।।।।।।।।ভাস্কর মাঝি।।।।।।।।।।।
ভালবাসার মরুভূমিতে জল হাতে এগিয়ে এলে তুমি।
তোমার হৃদয় খাঁজে বালিকণাগুলো আলপিনের মতো বিঁধেছিল নগর আকাশে।
বিন্দু বিন্দু জলকণা তৃষ্ণা মিটিয়েছে কালের গহ্বরে।
কানকো সরিয়ে শক্ত করে ধরতে চেয়েছি ফুলকাটাকে।
যাতে কোনও রক্তের ফোঁটা প্রজ্বলিত না হয় ধরায়।
বালিঝড় ভেবে তুমি লুকোচুরি খেলায় মত্ত।
ক্যাকটাসের ত্রিশুলে ক্ষতবিক্ষত হাড় ভাঙা কলিজা।
উলঙ্গ খাটের কাঠের আঁশে নোনাজল ঘুন পোকার তৃষ্ণা মেটায়।
প্রাণহীন ট্রেচার ঠায় দাঁড়িয়ে পঙ্গুর স্পর্শের।
ভিমরুলের চুম্বনে নেই জ্বালা, মৃত আগ্নেয়গিরি জীবন্ত শিলার পরশ পেতে উদগ্রীব।
কাঙ্খিত পালে দখিনা হওয়ায় তীরে ফিরুক তরী।
———-
মানসীর উপাখ‍্যান।।।।।।।
।।।।।।।।।কাঞ্চন রায়।।।।।।।।
তোমার নিষিদ্ধতা তোমায় করে তুলেছে
সহস্র নাবিকের গন্তব্য;
না হলে হয়তো তুমিও পড়ে থাকতে
ধুলো জমা কোনও বইয়ের র‍্যাকে।
তোমার দুষ্প্রাপ্যতা তোমায় করে তুলেছে আরও লোভনীয়;
না হলে তুমি, হয়তো বা দু’কলামের বিজ্ঞাপন।
তোমার চুপ করে থাকা ঠোঁট দুটো,
কলম ধরে লিখিয়েছে গোটা একটা উপন্যাস…
না হলে হয়তো কোনও ঠুনকো প্রেমিক—
আলতা মাখা চিঠিতেই ঠাঁই দিত বড়জোড়।
তোমার নিচু হয়ে থাকা চোখ দুটো
আকাশ ছুঁয়ে ফ‍‍্যালে মাঝে মাঝে,
আবার কখনও মেঘগুলোকেও টেনে নামায় পায়ের কাছে;
একটু কান্না হয়ে ঝরবে বলে!
না হলে অল্প জলের ডুবুরিরা— মরে যেত, হয়তো কিছুক্ষণ…
তোমার পৌরাণিক হৃদয়
রাত্রিকেও পরিয়ে দেয় গভীরতার মলাট;
না হলে সদ‍্য ফোঁটা স্থলপদ্ম আর চন্দ্রাহত ক’টা ঝিঁঝিঁ পোকা,
এর বেশি কিইবা ছিল— ওই কৌমুদীর মাদকতায়…
———-
শ্যামবাজার।।।।।।।
।।।।।।।।।কানুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।।।।।।।।।
শ্যামবাজারের মোড়ের দূষণ
চোখ অবধি ঢেকে ফেলেছে নেতাজিকে।
গোলবাড়ি থেকে ভেসে আসা ভাজা রসুনের গন্ধ
একচিলতের জন্য উবের চালককে
সচকিত করে দেয়।
কোনও এক বিবর্ন কবি,
চোখে আধুনিক চশমা,
পুরনো সংস্কৃতি খুঁজতে খুঁজতে
হাজির হয় হরিদাস মোদকের সামনে।
সোনালি আলুরদম বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে ফোঁটা ফোঁটা রস,
সিপাহী কা ঘোড়া ডান পা তুলে উড়তে চায় কলকাতায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here