বেঙ্গল ওয়াচ # সাহিত্যের পাতা # পঞ্চদশ সংখ্যা # কবিতা # কৃৃৃৃষ্ণা গুহ রায় # সুপ্রভাত মেট্যা # কাঞ্চন রায় # মোহিতকুমার মণ্ডল # সিদ্ধার্থ সিংহ

0
74
কবিতা।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
নীল রঙের পাঞ্জাবিটা
কৃৃৃৃষ্ণা গুহ রায়।।।।।।।।।।
গেল বারের পুজোয় তোমাকে দেব বলে নীল রঙের বাটিকের যে পাঞ্জাবিটা কিনেছিলাম
সেটা এখনও আলমারির তাকে৷
তুমি বলেছিলে, রেখে দাও,
ঠিক গিয়ে নিয়ে আসব৷
অপেক্ষায় ছিলাম হয়তো আসবে৷
তুমি  আর পাঞ্জাবিটা নিতে আসোনি৷
তোমার বলা কথাগুলো যে শুধুই একটা অপেক্ষা,
সেটা আমি বিলক্ষণ জানি৷
আর জানি বলেই, ওগুলো আমার এখন নিয়মিত অভ্যাস৷
নিরন্তর অপেক্ষারও একটা অদৃৃশ্য ব্যাথা হয়,
তার পর সয়ে যাওয়া ব্যাথাগুলোর শরীর থেকে টাটকা লাল রংটা,
ক্রমশ বাসি হতে হতে ব্যাথা নিরোধক নীল রং হয়ে যায়,
ঠিক যেভাবে নতুন গন্ধ উবে যাওয়া আলমারির তাকে এখনও রাখা
গেল বারে তোমার জন্য কেনা নীল রঙের বাটিক পাঞ্জাবিটা কাটাকুটি খেলছে সময়ের সঙ্গে৷
———-
অসুখ বন।।।।।।।
সুপ্রভাত মেট্যা।।।।।।।।।।।
ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে কথা।
নীরবতার অনন্ত আড়ালে চলে যাচ্ছ…
তোমার দু’চোখ তখন অন্ধ, চলে যাওয়া আলোর সাম্রাজ্যে পুরোনো অতীত নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
স্মৃতি টপকে ঝরে পড়ছে জল
এখন বিকেল নয়, ঠিক এই সময়ে, বালিকা দেশের ফুল তবু ফুটে উঠছে হৃদয়ে গভীর।
হারিয়ে যাওয়ার একটা খুশির নেশা তৈরি হচ্ছে।
অসুখ বনে শ্রাবণ খেলে বেড়াচ্ছে মেয়ে!
———-
তোমার একগুচ্ছ চুলের নীচে…
কাঞ্চন রায়।।।।।।।।।।।
রাত্রির অনেকগুলি আবদার ফেলে রাখা আছে,
তোমার একগুচ্ছ চুলের নীচে।
মেঘেদের জন‍্য কিছু আকাশ বাঁধা পড়ে আছে
একটা নীল আঁচলের গিঁটে।
হয়তো স্পর্শটাও থেমে আছে,
হৃদয়ের ঠিক একটা পরত আগে।
ছায়াপথ জমতে জমতে গ্রহ-তারাপুঞ্জ,
ঠাঁই নিয়েছে দুটি ভ্রু-পল্লবের মাঝে।
হাজার বছর লুকিয়ে রাখা পাহাড়ি ঝর্না—
যেটা অবিরত ঝরছে শূন‍্যের গভীরে,
সন্ধ্যার একঝাঁক ফিরে আসা পাখি;
এখনও অস্থায়ী বুকের বাঁ পাশে।
আর ইতিবৃত্ত ভালবাসার তরঙ্গ, কিছুটা বিচ‍্যুত
তোমার জানালার ধার ঘেঁষে।
———-
হাড়ের সংসারে হাঁটাহাঁটি।।।।।
মোহিতকুমার মণ্ডল।।।।।।।
          দাঁড়িয়ে কেনো?
হাতে হাতে, পায়ে পায়ে এগিয়ে চলো
আর একটু এগোলেই অপেক্ষমান
           গনগনে আগুনের উৎসব!
পাতাঝরা প্রকৃতির প্লাবন পেরিয়ে
সময়ের মুখে আত্মতৃপ্তির চুমু খেতে খেতে
কখন জানি, অজান্তের আঙিনায়
           ঘুণে ধরা গোধূলির মতো
                  নড়বড়ে হয়ে গেছে খুটি!
তবু, কান পাতলে শুনতে পাই
           দাঁড়িয়ে কেনো? এগিয়ে চলো;
এলোমেলো অনাদরে পড়ে আছে
            চিরচেনা অস্তিত্বের ঘটিবাটি!
কেউ থেমে নেই
কারও জন্য থেমে ছিল না কিছুই!
মিছিমিছি আন্ধার ঘরে মনপোড়া এক
অদৃশ্য আগুনে পুড়ে মরি রাতদিন।
তপ্ত অনুভূতির সিঁথানে বরফ শীতল আলাপন
বিরামহীন ডেকে চলে, আয় আয়
           চলে আয়; মাটি শুধু মাটি
                 হাড়ের সংসারে হাঁটাহাঁটি!
———-
ভাতা।।।।।।।।
সিদ্ধার্থ সিংহ।।।।।
এমন শিল্পকর্ম শিখে কী লাভ হল!
অনেক কষ্টে শিখেছিলাম
কচি লাউয়ের গায়ে
ভেজানো পাতলা ফিনফিনে কাপড় লেপটে রেখে
কী ভাবে ব্লেড চালালে
কাপড় ফালা হয়ে যাবে
কিন্তু লাউয়ের গায়ে লাগবে না এতটুকুও আঁচড়…
যখন সব ঠিকঠাক ছিল, বাসে উঠলেই
যে সব কন্ডাকটর আমাদের চিনতেন
আমাদের দেখলেই যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলতেন, ভিতরে যান, ভিতরে যান, ভিতরে যান…
এখন তো যাত্রীই নেই
না ট্রেনে, না বাসে
ভিড়ভাট্টা নেই কোনও জনসমাগমেও
নেই ছোটখাটো মেলাও
এত নিপুন শিল্পকর্ম শিখে কী লাভ হল!
এত ভাতা আছে,
সরকার কি আমাদের জন্য কোনও ভাতা চালু করবে না!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here