বেঙ্গল ওয়াচ # সাহিত্যের পাতা # পঞ্চদশ সংখ্যা # সম্পাদকের কলমে # ওয়েবজিনের পাঠক বাড়ছে হু হু করে # সিদ্ধার্থ সিংহ

0
37
সম্পাদকের কলমে
ওয়েবজিনের পাঠক বাড়ছে হু হু করে
সিদ্ধার্থ সিংহ
বাজারে যখন ওয়েব ম্যাগাজিন আসেনি, তখন একচেটিয়া দাপিয়ে বেড়াতে বিভিন্ন মুদ্রিত পত্রিকা।
কেউ দাবি করত, আমাদের পাঠক সংখ্যা দু’লক্ষ।
কেউ দাবি করত, আমাদের পাঠক সংখ্যা দল লক্ষ। কেউ দাবি করত পঞ্চাশ লক্ষ।
এখানে উল্লেখযোগ্য হল, এঁরা সবাই কিন্তু বলছেন পাঠক সংখ্যা।
কেউ কিন্তু বলছেন না, তাঁরা কত কপি মুদ্রণ করেছেন।
গণ্ডগোলটা এখানেই। কেউ ধরে নিচ্ছেন তাঁদের একটি পত্রিকা গড়পড়তা দশ জন পড়েন।
কেউ ধরে নিচ্ছেন পনেরো জন পড়েন। আবার কেউ ধরে নিচ্ছেন কুড়ি জন পড়েন।
এবং তাঁদের মন গড়া সেই সব হিসেব নিয়েই তাঁরা যে যার মতো বলে বেড়াচ্ছেন, আমাদের পাঠক সংখ্যা এত লক্ষ… এত লক্ষ… এত লক্ষ…
পুরো ব্যাপারটাই ছিল ধোঁয়াশা।
পত্রিকার কর্তৃপক্ষ যে হিসেব দিতেন, হয় আমাদের সেই হিসেব বা তাঁদের বলা পাঠক সংখ্যাকে বিশ্বাস করতে হতো অথবা হা হা হা করে হেসে উড়িয়ে দিতে হতো।
কারণ যাঁরা একটু খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা জানেন, যিনি পয়সা দিয়ে একটি পত্রিকা কেনেন তিনিও পুরোটা পড়েন না।
আদৌ পড়েন কি? সেটাও সন্দেহ আছে। সেখানে একটি পত্রিকা দশ জন পড়েন, এই দাবি করাটা কি হাস্যকর নয়?
যাঁরা এইসব দাবি করেন বা করছেন, তাঁরাও কি নিজের বুকে হাত রেখে এই কথাগুলো বলতে পারবেন? না, পারবেন না।
সেখানে ওয়েব ম্যাগাজিনের হিসেবটা পুরোটাই স্বচ্ছ।
যত জন পড়ছেন, সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যাটা উপরে দেখা যাচ্ছে।
শুধু পড়া নয়, যদি কারও কোনও লেখা ভাল লেগে যায়, তিনি সেই লেখাটি অনায়াসে যে কোনও লোককে পাঠাতে পারেন, মানে শেয়ার করতে পারেন।
আর এই শেয়ার করাটাও কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে নথিভূক্ত হয়ে যায় নির্দিষ্ট জায়গায়। সেই সংখ্যাটা দেখাও যায়।
গোটা বিশ্ব জুড়ে যে ওয়েবজিনগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, যেমন— আমাদের ভারত থেকেই বেরোচ্ছে ছোটদের অত্যন্ত জনপ্রিয় ওয়েবজিন ‘জয়ঢাক’ কিংবা ‘আনন্দকানন’, কানাডার অটোয়া থেকে বেরোচ্ছে ‘আশ্রম’, ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেস থেকে বেরোচ্ছে ‘এল এ বাংলা টাইমস’ বাংলাদেশের ঢাকা থেকে বেরোচ্ছে ‘কাব্যশীলন’ কিংবা ‘স্টোরি অ্যান্ড আর্টিকেল, অথবা অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে প্রকাশিত ‘প্রভাত ফেরী’ পত্রিকার দিকে একবার নজর দিলেই বোঝা যাবে, তাদের পাঠকসংখ্যা কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে।
না, কোনও মুদ্রিত পত্রিকার পক্ষে সেখানে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
মাত্র ক’দিনের মধ্যেই শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি লেখা শুধুমাত্র শেয়ার হয়েছে অষ্টআশি হাজার।
সেলিনা হোসেনের একটি গল্প শেয়ার হয়েছে পঁচাশি হাজার।
সদ্য লিখতে আসা এই বাংলার এক তরুণ কবি রঞ্জনা রায়ের একটি প্রবন্ধ প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেয়ার হয়ে গেছে পাঁচশোরও বেশি।
এই অধমেরও একটি গদ্য প্রকাশের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শেয়ার হয়েছে ছত্রিশ হাজার।
এগুলো শুধু শেয়ার হয়েছে, তার মানে কত লোক এগুলো পড়েছেন একবার ভাবুন। না, মুদ্রিত পত্রিকার মতো এখানে কারসাজি করার কোনও উপায় নেই।
আসলে যেটা হয়েছে, কোনও মুদ্রিত পত্রিকা জোগাড় করতে হলে সেটা কিনতে হবে, পড়ার জন্য সঙ্গে রাখতে হবে এবং যত্ন করে পড়তে হবে যাতে ছিঁড়ে না যায়।
কিন্তু ওয়েবজিনের ক্ষেত্রে সে সবের কোনও বালাই নেই। কম্পিউটার বা ল্যাপটপ লাগবে না।
জামা-প্যান্টের মতোই যেটা এখন আমাদের সর্বক্ষণের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে, সেই মোবাইলটা থাকলেই হল। সঙ্গে নেট। ব্যস, আর কিচ্ছু লাগে না।
ট্রেনে-বাসে, যেখানে সেখানে পত্রিকাটা খুলে পড়তে শুরু করলেই হল।
আর যেহেতু এই সব ওয়েবজিনগুলোতে খুব ছোট্টো ছোট্টো লেখা প্রকাশিত হয়, তাই চট করে পড়েও নেওয়া যায়।
সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্যও করা যায় চটজলদি। সে
খারাপ, ভাল যাই হোক না কেন।
আর ওয়েবজিনের পাঠক সংখ্যা বাড়ছে দেখেই মুদ্রিত পত্রিকাগুলো কিন্তু মুদ্রণ সংখ্যার পাশাপাশি ওয়েব সংখ্যাও প্রকাশ করছে। এটা লক্ষ্য করার বিষয়।
তবে ওয়েবের এই পাঠক সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়বে, যদি মুদ্রিত পত্রিকার প্রথিতযশা লেখকেরা সমান নিষ্ঠা এবং ভালবাসা নিয়ে এই ওয়েবজিনগুলোর জন্যও কলম ধরেন।
তাঁরা যে ধরবেন তার প্রমাণ কিন্তু আমরা ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here