বেঙ্গল ওয়াচ # সাহিত্যের পাতা # চতুর্দশ সংখ্যা # কবিতা # দেবাশিস বন্দ্যোপাধ‌্যায় # বুলবুল কুন্ডু # অষ্টপদ মালিক # কমল সেন # শ্রীময়ী চক্রবর্তী

0
52
।।।।।।।।।কবিতা।।।।।।।
পিতার মন।।।।
দেবাশিস বন্দ্যোপাধ‌্যায়।।।।।।।।।।।
আমি সারাদিন খাটার পর
আমার শিশুকে
এনে দিতে পারি না দুধ,
খিদের বুদ্বুদ,
তার ছোট্ট পেটে
তোলে যে ঝড়।
পরিশ্রমের আগুনে শেষ
আমার প্রাণ মন,
পাইনে ধন।
দিশেহারা চোখ দুটো আজ,
শিশুর কান্না
বাড়িতে আজ হয়নি রান্না।
ভেবে ভেবে করবো কি
বড়রা আজকে উপোস দি
এ যেন আমার মাথায় বাজ।
খাবারের চিন্তা তোলপাড়
করে যে মন,
ঝাপসা চোখে দেখি না যারে
কেমন করে বাঁচাব তারে,
আমার রক্তে ফোটা ফুল
মোর মানিক ধন।
———-
মাঝপথে।।।।।।
বুলবুল কুন্ডু।।।।।।।।।।।।।।।
বেশ তো চলছিল আনমনা, অগোছালো, আবেগি জীবন।
বেশ তো চলছিল ধীর গতিতে চলা,
চলতে চলতে কথা বলা, পাখির গান শোনা।
নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে ভুলেছি কত না পাওয়া
ভোরের আলো দেখে কৃতজ্ঞ হয়েছি
চোখের জল ফেলেছি আবেগে শতবার।
পুজোর জল আনতে গিয়ে
কতবার নদীতে ওঠা-নামা দেখেছি
দেখেছি মাঝির নাও বাওয়া।
তখনও বেশ কিছু সময় ভুলে গিয়ে তাকিয়েছিলাম দূরে…
আচ্ছা, আজও কি কোনও মেয়ে তারে ডাকে?
‘ও মাঝি যাও কোথা, কেন এত তাড়া?’
নাকি মেয়ের মন গেছে মরে
সব হয়েছে শূন্য
মন মাঝির নদীতে ভাঁটা।
শীতের চাদরে মুড়ি দিয়ে, চায়ের ভাঁড়ে চুমুক
হালকা হাওয়ায় ভেসে যাওয়া, ভিজে শাড়ির আঁচল
সবই তো ছিল বড় সাধারণ, ভাল লাগার ধন।
জানি না কেন যে হঠাৎ করে গোছানোর শখ হল
নতুন করে হিসেব-নিকেশ এলোমেলো করে দিল
ছিন্ন হল সব তার।
ঘড়ির কাঁটা বেঁধে দিল মনের অবাধ ঘোরা-ফেরা
মাথায় তখন ছুটছে যেন রেসের মাঠের ঘোড়া
সময় যে বড় কম।
মন বলছে বাঁধতে হবে আবেগের চেনা সুর
করতে হবে অনেক কিছু, যেতে হবে বহু দূর। সকাল-বিকেল এক করে তাই ঘোড়দৌড়ের পালা।
ছুটতে ছুটতে দম বেড়েছে, দক্ষ হয়েছে আরও ভাবনাগুলো বেড়েছে তাই, রাত হয়েছে বড়
সময়কে পিছু ফেলে।
আবেগগুলো ওপরের তাকে কাচের জারে বন্দি। চাইলেও যে হাত পাবো না, এ বড়ই কঠিন ফন্দি।
সত্যিই কি বড় কঠিন ফন্দি?
ভালই হল আবেগ দিয়ে কারই বা কি হল?
আবেগ নিয়ে মানুষগুলো কষ্ট পেয়েই গেল।
শুধু কষ্টই পেয়ে গেল।
———-
খসে পড়ে মূল্যবোধ।।।।।।
অষ্টপদ মালিক।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
ঘরে ও বাহিরে
প্রতিনিয়ত ঘটে যায়
মন খারাপের মহোৎসব!
জীবন থেকে
একে একে খসে পড়ে
কতশত মূল্যবোধ
ঠিক বিবর্ণ পাতার মতো।
———-
শুধু একবার।।।।।।।।।।।
কমল সেন।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
শুধু একবার কথা বল, রাত্রি
বল, এত অন্ধকারে কেন ডুবে গেলে তুমি
কেন হলে এত কৃষ্ণবর্ণা?
আমার সমস্ত ব্যাকুলতার উত্তর তুমি সাজিয়ে দিলে
ভোরের রেকাবিতে;
তাই, সব হিসাবের খাতা গঙ্গার দিকে আমি
ছুড়ে দিয়েছি—
আর ধূনী জ্বেলেছি অন্ধকারের সমস্ত যোনিতে
———-
নির্ভয়ারা আজও।।।।।।।।।।।।।
শ্রীময়ী চক্রবর্তী।।।।।।
সশব্দে নিঃশব্দে ‘নির্ভয়া’
আজও তীব্র কশাঘাত করে চলে আমাদের মননে
তবুও ছবিটা কোথাও বদলায় না
নির্ভয়াদের সংখ্যা বেড়েই চলে ক্রমাগত
সমাজ যেন আজও কোথাও
বদ্ধ জলাশয় হয়েই রয়ে গেছে
সমাধান না হওয়া একরাশ প্রশ্নের সামনে
বারবার আমাদের দাঁড় করিয়ে দিয়ে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here