বিহার নির্বাচনের এক্সিট পোল ও ভারতীয় সাংবাদিকতা # শান্তনু সরস্বতী ফেসবুকে লিখেছেন # বিহার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আশা করবো, সাংবাদিকতা না করে বানপ্রস্থে যাওয়ার সুবন্দোবস্ত করবেন এই সাংবাদিকের দল

0
96

বিহার নির্বাচনের এক্সিট পোল ও ভারতীয় সাংবাদিকতা

শান্তনু সরস্বতী।।। ফেসবুকে লিখেছেন
——————————————————

আজকাল নিজেকে জনসমাজে প্রাক্তন সাংবাদিক বলতে কুন্ঠিত বোধ করি।

বিহার নির্বাচনের এক্সিট পোল নিয়ে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টার পর, আরও কুন্ঠাবোধ হয়।

ভারতীয় সাংবাদিকতায় সেফোলজির জনক বলতে পারেন এনডিটিভির প্রণয় রায়।

যতদূর জানি, এনডিটিভির প্রমূখ, সংখ্যাতত্ত্বের লোক, পরবর্তীতে সাংবাদিকতায় এসেছেন।

আর বর্তমানের সেফোলজিস্ট বা কোট টাই পরিহিত বৈদ্যুতিন মাধ্যমের সংবাদ পরিবেশকরা, এক কথায় শুধু নির্বোধ নন, অশিক্ষিত-ও বটে।

সংখ্যাতত্ত্বের জ্ঞান না থাকলেও, চ্যানেলের ঠান্ডা ঘরে বসে, মানুষের মনের কথা না বুঝে, জন কুড়ি মানুষের ওপর নির্ভর করে এজেন্সির রিপোর্টর ওপর ভিত্তি করেই বলতে থাকেন কোন দল কত আসন পাবে।

বিহার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আশা করবো, সাংবাদিকতা না করে বানপ্রস্থে যাওয়ার সুবন্দোবস্ত করবেন এই সাংবাদিকের দল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর, স্বপ্নদোষের কারণে বহু ফেসবুকার-সাংবাদিক পোস্ট করতে শুরু করলেন, বিহার নির্বাচনে এইবার মুখথুবড়ে পড়বে নীতীশ কুমারের সরকার।

হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বহু দূরের কোনও যোগাযোগ না থাকলেও, বাজার গরম করতে শুরু করেছিলেন এই নির্বোধের দল।

বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরা যেমন প্রশাসন ও পুলিশের ওপর রাগ হলেই বলে ওঠেন, “দলদাস”, ঠিক তেমনই এই নির্বোধের দল শোনাতে শুরু করলেন, ইভিএম হ্যাক সহ অ্যান্টি ইনকামবেন্সির গল্প।

কিন্তু, বিহার এবং বিহারিদের সম্পর্কে যাদের সম্যক জ্ঞান আছে, তাঁরা ভালোই জানেন, বাঙালিদের চেয়ে আইএএস-আইপিএস তৈরি করা ছাড়াও বিহার বহু যুগ ধরে বাংলার চেয়ে অনেক বিষয়ে এগিয়ে।

বিহারিদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছাপোষা, লুঙ্গি পরে মাছের বাজারে ঘোরা বাঙালিদের চেয়ে শতগুণ বেশি।

আর ঠিক এই কারণেই, নোট বন্দীর কোনও প্রভাব বিহার নির্বাচনে পড়ে না, ঠিক এই কারণেই মদ বিক্রি করে রাজস্ব বৃদ্ধি করতে হয় না নীতীশের সরকারকে।

সাংবাদিকতার ছাত্র-ছাত্রীদের আগে হিউম্যান সাইকোলজির কিছু পার্ট পড়ানো হত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এম এ ক্লাসে। মানুষের মন বোঝার কাজে সাহায্য করতো মনোস্তত্ত্বের জ্ঞান।

এখন তো সবাই সাংবাদিক। কারোর আর কোনও পড়াশোনার দরকার হয় না। সবাই সব জানে।

আর বাঙালি সাংবাদিকেরা তো সকলের চেয়ে সব বিষয় বেশি জানে।

তাই মার্কেট সার্ভে করা কোম্পানিগুলি করে খায়, আর বোকা হয় বাংলার আমজনতা।

কাল নন্দীগ্রামের সভায় শুভেন্দু অধিকারীর কয়েকটা কথা আমার খুব মনে ধরেছে।

মাটির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলা অধিকারী পরিবারের বড় ছেলে বলেছেন, লড়াইটা হয় রাজনৈতিক মঞ্চে, লড়াইয়ের মাঠে।

ঠান্ডা ঘরে বসে সেফোলজি করে শুধু নির্বোধরাই।

যে সব সাংবাদিকরা জীবনে কখনও আমজনতার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মন বোঝার চেষ্টা করেননি, নন্দীগ্রাম নিয়ে বই লিখে ফেলেছেন, তাঁদেরকে আমার অনুরোধ– পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান, মানুষের সঙ্গে কথা বলুন, ওদের মন কী চায়, জানার চেষ্টা করুন, কুড়িটা শহুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে এজেন্সির বানানো রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আর যাই করুন, সেফোলজি করবেন না।

সবাই নির্বোধ নন। ভাল থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here