বিহার কিন্তু দেখিয়ে দিলো কোনও মায়ের কোল খালি না করেও নির্বাচন করা যায় # জয় বিহার # জয় বিহার প্রশাসন # আমরা কি আগামী ভোট থেকে বলতে পারবো # জয় বাংলা # জয় বাংলা প্রশাসন # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
103
# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #
।।।।।।।।।। শ্যামলেন্দু মিত্র।।।।।।।।।।।

বিহার কিন্তু দেখিয়ে দিলো কোনও মায়ের কোল খালি না করেও নির্বাচন করা যায়।

আর বাংলায় ভোট এলেই বুক দুরু দুরু।
এই বুঝি কার প্রাণ গেলো।
ভারতের কোনও রাজ্যের ভোটেই হানাহানি মারপিট খুনোখুনি হয় না।
আমি একবার মহারাষ্ট্রের ভোটের সময় ১৫ দিন মুম্বই শহরে ছিলাম।
মুম্বইয়ের টিভি দেখতাম। ওখানকার হিন্দি-ইংরেজি কাগজ পড়তাম।
একটা নির্বাচনী সংঘর্ষের খবর থাকতো না সংবাদ মাধ্যমে।
মহারাষ্ট্রের নির্বাচন অফিসে কোনও অভিযোগ করতো না কোনও রাজনৈতিক দল।
এটাই দস্তুর।
কিন্তু বাংলায় আমরা কী দেখি।
ভোট মানেই একটা আকছাআকছি।
ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা  হবেই। এবং তা হওয়া উচিৎ  বন্ধুত্বপূর্ণ।
বাংলায় রাজনীতি মানেই শত্রুতা।  কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না।
সারা বছর পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে যদি কাজ হয় তাহলে আর ভয় কিসের!
আপসে মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবে।
বিগত পঞ্চায়েত ভোটের ছবি এখনও মানুষের মনের মনিকোঠায় জ্বলজ্বল করছে। কত মায়ের কোল খালি।
লোকসভা ভোটও স্বাভাবিক নিয়মে হতে পারেনি। বাধা পড়েছে অবাধ ভোটে।
অথচ পাশের রাজ্য বিহারে কীভাবে শান্তিপূর্ণ ভোট হল তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল।
বিহারের ভোটে  প্রথম থেকেই এবার ছিল টানটান উত্তেজনা।
নীতিশকুমার যে এবারে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে, তার ইঙ্গিত ছিল।
কিন্তু বেশির ভাগ এক্সিট পোল যেভাবে এনডিএকে হারিয়ে লালুপুত্রকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়ে দেয়, তা মেলেনি।
একমাত্র ভাস্করের এক্সিট পোল মিলিয়ে দিয়েছে। ওরা বলে, এনডিএ
ক্ষমতা ধরে রাখবে ১২৭ সিট পেয়ে। বিহারে এনডিএ পেয়েছে ১২৫ সিট।
বিহারের ভোটে নিজের নাক কেটে অন্যের ক্ষতি করেছে চিরাগ পাশোয়ান। মাত্র ১ টি সিট পেয়ে নীতিশের দলের অনেক সিট কেটে  তেজস্বীর বাক্স ভরে দিয়েছে।
আবার মিম ৫ টি সিট পেয়ে মহাজোটের কিছু সিটে ক্ষতি করেছে।
বিহারে নীতিশের সেভাবে বদনাম নেই। পরিছন্ন ভাবমূর্তি।
 কিন্তু মদ বন্ধ করে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাতে চটে যায় গ্রামাঞ্চলের মদের ভাটি চালকরা ও মদ ভক্ষকরা। তারা লালুপুত্রকে সমর্থন করেছে। তবে গ্রামাঞ্চলের মহিলারা নীতিশকে সমর্থন করেছে।
নীতিশকে এবার বিহারক্ষেত্রের যুদ্ধে বাচিয়ে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি।
অমিত শা এবার বিহারে যাননি। তার হয়তো মনে হয়, বিহারে এনডিএ ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না।
কিন্তু নরেন্দ্র মোদি বাজি রেখে নীতিশের পাশে দাড়ান। তাতেও নীতিশের দল অনেক সিটে হেরেছে।
মোদি ক্যারিশমায় বিজেপি সিট বাড়িয়ে এনডিএকে ভরাডুবি থেকে রক্ষা করেছে।
বিহারে মহাজোট ভাল ফল করলেও কংগ্রেস সেই পিছিয়েই। বরং মহাজোটে থেকে বামেরা সিট পেয়েছে।
ভোটে হারজিত থাকেই। তা মেনে নিতেই হবে।
কিন্তু বিহার দেখিয়ে দিল রক্তপাতশূন্য ভোট।
জয় বিহার। জয় বিহার প্রশাসন।
আমরা কি আগামী ভোট থেকে  বলতে পারবো, জয় বাংলা। জয় বাংলা প্রশাসন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here