বিশিষ্ট ফোটোগ্রাফার অরিজিৎ ভট্টাচার্য # প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অসুস্থ, হাসপাতালের বেডে শুয়ে # মনে পড়ে ভালো লাগার দিন গুলো….  

0
146

মনে পড়ে ভালো লাগার দিন গুলো #

 

আজ আমার প্রিয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অসুস্থ ।

 

ওনার সান্নিধ্যে থাকা সুন্দর স্মৃতি গুলো মনের কোণে উঁকি মারছে।

 

ঈশ্বরের কাছে ওনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং কিছু সুন্দর স্মৃতি আপনাদের সাথে শেয়ার করি…..।

প্রথম পর্যায়ে ছ’মাসের মুখ্যমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সামলাতে না সামলাতে ২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভার নির্বাচন এসে গেল …।

 

এবারও যাদবপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হলেন  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ।

 

নির্বাচন প্রচারের সময় সমর্থকদের উদ্দিপনা দেখেই বুঝতে পারা যাচ্ছিল এবার আরো অনেক বেশি ভোটে জয়ী তিনিই হবেন।

 

ইলেকশনের দিন আমাদের ডিউটি থাকতো বুথে বুথে ঘুরে ছবি তোলার ।

 

আমার ডিউটি থাকতো মুখ্যমন্ত্রী ভোট দিচ্ছেন সেই ছবিটি তোলা ।

 

আগের দিন জেনে নিতাম মুখ্যমন্ত্রী কখন যাবেন ভোট দিতে।

 

ভোটের দিন ডিউটিতে যাবার আগে আমি আমার ভোটটি দিয়ে সেখান থেকেই ছবি তোলার কাজটি শুরু করতাম।

 

আমি নিজে তখন যাদবপুর কেন্দ্রের ভোটার ছিলাম। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সকাল সকাল সপরিবারে ভোটদানের জন্যে চলে আসতেন পাঠভবন প্রাইমারি স্কুলে ।

 

মুখ্যমন্ত্রী  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দক্ষিণ কলকাতার ছোট্ট ফ্ল্যাটের কাছেই সেই স্কুলটি।

সেবার অর্থাৎ ২০০১ সালে যে বুথে মুখ্যমন্ত্রী ভোট দেবেন সে বুথে আগেই পৌঁছে গিয়েছিলাম এবং বেশ ভালো ছবি তুলতে পেরেছিলাম।

 

পরবর্তী কালে ইলেকশন কমিশন ভেতরে ঢুকে ছবি তোলার অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করে দিয়েছিল।

লিখতে গিয়ে মনে পড়ে গেল , যাদবপুর কেন্দ্রের অধিনে অরুণাচল ক্লাবের বড় মাঠটির কথা ।

 

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যতবার এ মাঠে বক্তব্য রাখতে আসতেন বেশিরভাগ সময় ওনার বক্তব্য শোনার জন্যে চলে যেতাম , ডিউটিতে নয় শ্রোতা হিসেবে।

কারণ এলাকাটি ছিল আমার শ্বশুর বাড়ির পাড়া ।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বক্তব্যে থাকতো পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের কথা, বলতেন কী করতে পেরেছেন এবং কী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

তাঁর চেষ্টায় তৈরি হয়েছিল অনেক বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ , চালু হয়েছিল প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ, সরকারি হাসপাতালকে কলেজে উন্নীত করে সুযোগ করে দিয়েছিলেন অনেক ছেলে মেয়েকে ডাক্তারি পড়ার।

 

আজ আর পশ্চিমবঙ্গের ছেলে মেয়ে দের অন্য রাজ্যে যেতে হয়না ইন্জিনিয়ারিং পড়তে।

 

শিলান্যাসে নয় উদ্বোধনে বেশি গুরুত্ব দিতেন।

 

উদ্বোধনের কথা বলতে গিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের গল্প মনে পড়ে গেল..

শ্যামলেন্দু মিত্র তখন ওইকাগজের সাংবাদিক, মহাকরণের খবর জনগণের কাছে তুলে ধরতেন।

১৪ এপ্রিল ২০০২ সালে গড়িয়াহাট উড়াল সেতুর উদ্বোধন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই হয়েছিল।

 

সেই সেতু উদ্বোধনে সবার সঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার তৎকালীন মাননীয়া সাংসদকেও সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো এবং তিনি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

তখন মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর চেম্বারের সামনের বারান্দায় একটি ফটো গ্যালারী ছিল।  সেখানে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানের ছবি ডিসপ্লে করা নিয়ম ছিল ।

 

নিয়ম অনুযায়ী কয়েক দিনের মধ্যেই ফটো গ্যালারীতে ওই  অনুষ্ঠানের ছবি ডিসপ্লে করা হয়।

 

সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্রের চৌখস চোখ এড়ালো না।

 

সেই ছবিটি যে ছবিতে সব অতিথিদের সাথে এক ফ্রেমে তুলেছিলাম দক্ষিণ কলকাতার মাননীয়া সাংসদেরও ..

 

পরদিন আনন্দ বাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হলো “মহাকরণে মমতা”।

 

খুব সুন্দর স্টোরি করেছিলেন .. সেদিন অনেকেই সেই ছবিটি দেখে গিয়েছিলেন।

 

অবাক হয়ে ছিলাম ওনার সাংবাদিকতার দক্ষতা দেখে।

যে কথা বলছিলাম , ২০০১ সালের বিধান সভার ফল ঘোষণা হলো  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হলেন।

অতি ভদ্রলোক , প্রচার বিমুখ, কবি , সাহিত্যিক , নাট্যকার, শিল্প মনস্ক , এবং সবার কাছের মানুষ পশ্চিম বঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।

 

দুপুরে লাঞ্চ করতে প্রতিদিন উনি বাড়ি যেতেন নির্দিষ্ট সময়ে , যাবার সময় মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর চেম্বারের সামনের করিডোরে সাংবাদিক দের সঙ্গে কিছু না কিছু বিষয়ে কথা বলা ছিল ওনার রুটিন ওয়ার্ক।

 

অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ঘেরাটোপে চলা ছিল ওনার অপছন্দের তালিকায়।

 

তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর চেম্বারে প্রবেশ করার অনুমতি পেলে , বিশ্ব বিখ্যাত ফিল্ম অভিনেতা অভিনেত্রী বা বিশিষ্ট জনেরা যেমন সমাদর পেতেন তেমনি সৌজন্য পেতেন অতি সাধারণ নাগরিক ।

২০০৬ সালের বিধান সভা ভোটেও জয়ী হলেন শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ।

 

সেবার দুপুরে আলিপুরের ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিধায়কের সংশাপত্র গ্রহণ করতে যাবেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ।

 

আমার ডিউটি ছিল সেই ছবি তোলার । ফটোগ্রাফাররা সবাই বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলাম ।

 

মুখ্যমন্ত্রীর নজর পড়তেই সবাইকে বললেন ..”দেখবেন কেউ পড়ে গিয়ে ব্যথা যেন না পান” ।

 

আমাদের পাশেই বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এক সময়ের সাংবাদিক এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার তৎকালীন জেলাশাসক , মুখ্যমন্ত্রী ওনাকেও সেই সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেছিলেন।

আজ সাথে দিলাম ২০০১ সালে শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ভোট দেবার আগে নিজের নাম স্বাক্ষর করছেন পাশে ওনার একমাত্র কন্যা দাঁড়িয়ে এবং ২০০৬ সালে আলিপুরে সংশাপত্র গ্রহণ করছেন পাশে কন্যা..

সেই ছবি দুটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here