বিজেপিতে প্রার্থীর আশ্বাস না পেয়েই দলবদল # বিবাহবিচ্ছেদের নোটিস পাঠানোর ঘোষণা করেও স্ত্রী সুজাতার উদ্দেশে বিজেপি সাংসদ-স্বামী সৌমিত্র খাঁ # সুজাতা, খুব ভুল করলে # আর তুমি পদবিতে খাঁ লিখো না # শুধু মণ্ডল লিখো # তৃণমূলে যোগ দিয়ে সুজাতার বক্তব্য # এত দিন পর  আমি প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
91

# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

।।।।।।।।।।৷  শ্যামলেন্দু মিত্র  ।।।।।।।।।।।

 

বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর কাছে বিধানসভার প্রার্থী হতে চেয়ে আবদার করেছিলেন তার স্ত্রী  সুজাতা মণ্ডল খাঁ।

কিন্তু স্ত্রীকে স্বামী জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিজেপিতে পরিবারতন্ত্র চলে না। তুমি আমার স্ত্রী, এই পর্যন্ত।

৩/৪ মাস ধরে এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

বিধানসভার প্রার্থী হওয়ার আশ্বাস পেয়ে বিজেপি সাংসদের স্ত্রী তৃণমূলে যোগ দিলেন।

এতে রাজনৈতিকভাবে অন্যায়ের কিছু নেই।

গণতান্ত্রিক দেশে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা ও  অধিকার আছে সবারই।

বিশেষ করে সুজাতার ক্ষেত্রে এই দাবি যুক্তিযুক্ত।

গত লোকসভা ভোটের সময় তার স্বামী যখন নিজের  নির্বাচন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি তখন স্ত্রীই কার্যত প্রার্থীর মুখ হয়ে প্রচার করেন।

এবং সাফল্য পান। প্রচারের আলোয় আসেন।

স্বাভাবিকভাবেই তার মধ্যে রাজনৈতিক সত্ত্বার উদয় হয়।

আমার জন্যই স্বামী বিপুল ভোটে জিতে আজ বিজেপি সাংসদ ।

তাহলে আমি কেন আগামী ভোটে প্রার্থী হতে পারব না।

সেই দাবি তিনি জানাতেই পারেন সাংসদ স্বামীকে।

স্বামীর আবার বিজেপিতে পদোন্নতি হয়েছে।

বঙ্গবিজেপির যুব সভাপতি। অনেক বড় পদ।

তাহলে তো স্বামীই আমাকে বিজেপি প্রার্থী করে দিতেই পারেন।

কিন্তু স্বামী তার আবদার যে  রাখতে পারবেন না,তা ৩/৪ মাস আগেই জানিয়ে দেন। সেই থেকেই চিড়। তা  ফাটল।

তার বহিঃপ্রকাশ সোমবার   তৃণমূলে যোগদান।

স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ কি  রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি  তথা স্বামী সৌমিত্রের সঙ্গে আলোচনা করে তৃণমূলে যোগ দিলেন  কি না,   সেই প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যান।

বরং সুজাতা বলেন, কে বলতে পারে আগামী দিনে সৌমিত্রই তৃণমূলে যোগ দেবে না!

এত দিন পর  আমি প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি।

স্ত্রী সুজাতার তৃণমূলে যোগদানের পরেই সৌমিত্র তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিস পাঠাচ্ছেন বলে জানান।

তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে সুজাতা বললেন……………..

১) একটা চ্যালেঞ্জ নিলাম।

২)  বিজেপি-র হয়ে প্রচুর লড়াই করেছি।

৩) কোনও নিরাপত্তা ছাড়া নিজের প্রাণ বাজি রেখে লড়াই করেছি।

৪) কিন্তু বিজেপি তার জন্য  আমাকে কোনও সম্মান দেয়নি।

৫) এত দিন যে দলটার বিরুদ্ধে লড়াই করতাম, সেই দল ছেড়ে এখন অনেকেই বিজেপিতে আসছেন।

৬) যে সব দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা এত দিন তৃণমূলে ছিলেন, তাঁরাই বিজেপিতে গিয়ে এখন শুদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন।

৭) বিজেপি এখন তৃণমূলের বি-টিমে পরিণত।

৮) তা হলে আমি বি-টিমে কেন থাকব!

৯) এ-টিমেই চলে এলাম।

১০) যেভাবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পথ দেখাবেন, সে ভাবেই এগিয়ে যাব।

১১) আমি কাপুরুষতা পছন্দ করি না।

১২) নিজেকে ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাইয়ের সৈনিক মনে করি।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে সৌমিত্রকে বিষ্ণুপুর কেন্দ্র থেকে জেতানোর পিছনে বড় ভূমিকা ছিল সুজাতার।

আদালতের নির্দেশে সৌমিত্র সে সময় ভোটপ্রচারে যেতে পারেননি।

গোটা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচার সামলে ছিলেন সুজাতা।

এর আগেরবার যখন অমিত শাহ সাংগঠনিক বৈঠকে কলকাতা আসেন, তখন সুজাতা সেই বৈঠকের ফেসবুক লাইভ করেন।

এতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর উপর চটে যান।

প্রকাশ্যেই তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয়। ।

এর পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে সুজাতার।

স্ত্রী সুজাতা  বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন খবর পেয়ে ঘণ্টাখানেক নীরবেই ছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা দলের রাজ্য যুব সভাপতি সৌমিত্র খাঁ।

প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জবাব দেওয়ার।

কিন্তু উত্তর দিতে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে  কেঁদে ফেললেন বিজেপি সাংসদ।

বিবাহবিচ্ছেদের নোটিস পাঠানোর ঘোষণা করেও সুজাতার উদ্দেশে প্রশ্ন করলেন…………..

১) আমি কি খুব পাপী?

২) সুজাতা, খুব ভুল করলে।

৩) আর তুমি পদবিতে খাঁ লিখো না।

৪) শুধু মণ্ডল লিখো।

৫) রাজনীতির তুমি কিছুই বোঝো না।

৬) সৌমিত্র না হলে তোমায় কেউ চিনত না।

৭)  সুজাতার  একার জন্য  নয়,  দলীয় ভাবে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্যই আমার জয় হয়েছিল বিষ্ণুপুরে।

৮) তাতে কারও একক কৃতিত্ব ছিল না।

৯) নির্বাচনের সময় আমি গৃহবন্দি ছিলাম।

১০) তুমি পাশে ছিল।

১১) সেটা আমি ভুলব না।

১২) রাজনীতির জন্য এত ভালবাসা মিথ্যা হয়ে গেল!

১৪) সুজাতা,আমি তোমায় মুক্তি দিলাম।

১৫) সম্পূর্ণ ভাবে মুক্তি দিচ্ছি।

১৬) আর পিছুটান রইল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here