বাংলা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, বিহার নির্বাচনে সাড়া ফেলা সিপিআইএমএল পার্টির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বিশেষ সাক্ষাৎকার # রাজ্য, জাতীয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সব কিছু নিয়ে # ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক রূপায়ণ ভট্টাচার্য

0
64

বাংলা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, বিহার নির্বাচনে সাড়া ফেলা সিপিআইএমএল পার্টির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বিশেষ সাক্ষাৎকার। রাজ্য, জাতীয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সব কিছু নিয়ে।

রূপায়ণ ভট্টাচার্য

একতিরিশ বছর পরেও ওই মানুষগুলোর চোখমুখ মনের মধ্যে গেঁথে রয়েছে তাঁর।

বিহারের নির্বাচনে এত ঘোরাঘুরির পর কোন ছবিটা তিনি আজীবন ভুলবেন না?

প্রশ্ন করলে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আরা জেলার দানওয়ার-বিহতা গ্রামের দলিত মানুষগুলোর কথা তুললেন। অনেক পুরোনো স্মৃতি, তবুও।

সে বার দেশের প্রথম ‘নকশাল’ সাংসদ হিসেবে লোকসভায় গিয়েছিলেন রামেশ্বর প্রসাদ।

ভোটের রাতে দলিতদের সেই গ্রামে উচ্চবর্ণের মানুষদের গণহত্যার কথা এখনও মনে রয়েছে অনেকের।

‘জয়ের ফল ঘোষণা হতে হতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল।

পরদিন সকালেই কমরেড বিনোদ মিশ্রের সঙ্গে পাটনা থেকে আরা ছুটে গিয়েছিলাম।

কোনও বিজয় মিছিল ছিল না। কিন্তু গ্রামে গ্রামে আলপথ ধরে স্বতঃস্ফূর্ত বিজয় উৎসবে গরীব মানুষের ঢল নেমেছিল।

আমরা অনেক কষ্ট করে ওই গ্রামে পৌঁছনোর পর ওখানকার মানুষ মারাত্মক ভরসা পেয়েছিল।

একদম প্রান্তিক মানুষের চোখেমুখে সেই জয়ের তৃপ্তি ও আত্মবিশ্বাসের ছবি ছিল। সেই মুখগুলো এখনও মনে রয়েছে।’

লম্বা, দাড়িওয়ালা, হায়ার সেকেন্ডারিতে প্রথম দীপঙ্কর তখন সবে সক্রিয় হয়েছেন জাতীয় রাজনীতিতে।

রামেশ্বর স্লোগান তুলেছিলেন, ‘হর মজদুর কো রোজিরোটি, হর দলিত কো মান, হর কিষাণ কো খেত পানি, হর যুবক কো কাম।’

ভোট নিয়ে গুলিগোলার ঘটনা অনেকদিন অতীত বিহারে। কিন্তু সেই স্লোগান এখনও গুরুত্ব হারায়নি।

এ বার ১২টি আসন (বাম জোট ১৯) জেতায় সেখানে ভোটের পর যাঁর কথা বামপন্থীদের মুখে মুখে ঘুরছে, সেই দীপঙ্কর আপাতত ক’দিনের জন্য কলকাতায়।

তাঁদের বিরুদ্ধে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’, ‘চিনা ফান্ডেড মাওবাদী’, ‘টেররিস্ট সিমপ্যাথিসাইজার্স’, অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি।

সে সব সামলে এত আসন পেলেন কী করে?

পাটুলিতে এক পুরোনো সতীর্থের বাড়িতে সাক্ষাৎকার দিতে বসে সিপিআইএমএল সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর শান্ত গলায় পাল্টা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে বিজেপি যে যে স্লোগান দিচ্ছে, সব ওদের জন্য প্রযোজ্য। ওরা টুকরে টুকরে গ্যাং বলছে। অথচ ওরাই মানুষকে টুকরো টুকরো করে বিভেদের রাজনীতি করছে। বিজেপি প্রচার চালায়, আমরা বিদেশিদের দ্বারা পরিচালিত হই, একেবারে বাজে কথা। বরং সে দিক দিয়ে দেখলে আরএসএস তৈরি হয়েছে হিটলার, নেপোলিয়ানের দর্শন থেকে। চিন নিয়ে এত কথা হচ্ছে। অথচ বিজেপি কিন্তু চিনের সব খারাপ দিকগুলো অনুসরণ করছে। দোষ দেওয়া হচ্ছে আমাদের।’

১৯৭৪ সালে সিপিআইএমএল তৈরির সময় মাও ঘনিষ্ঠ ও পরবর্তীকালে বিরোধী লিন বিয়াওকে নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর সঙ্ঘাত হয়েছিল। বিনোদ মিশ্র, মহাদেব মুখোপাধ্যায়দের আমলে। চিনা নেতাকে নিয়ে দ্বন্দ্বেই পার্টি ভেঙে যায় তখন।

প্রসঙ্গ তুললে দীপঙ্করের সাফ কথা, ‘এই লিন বিয়াও প্রসঙ্গটা ইতিহাসের খুঁটিনাটির মধ্যে পড়ে, আজকের পাঠকের কাছে মনে হয় প্রাসঙ্গিক নয়। আসলে পশ্চিমবঙ্গের আন্দোলন ধাক্কা খাওয়ার পর বিহারের ভোজপুরে আন্দোলন দানা বাঁধে। এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে বিহার ও বাংলার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আন্দোলনের শক্তিকে সংহত করে পার্টি পুনর্গঠনের কাজটা শুরু হয় ১৯৭৪ সালের ২৮ জুলাই চারু মজুমদারের দ্বিতীয় শহীদ দিবসে। তখন কমরেড জহর (আসল নাম সুব্রত দত্ত) সাধারণ সম্পাদক হন। মাত্র তিনজনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সঙ্গে ছিলেন কমরেড বিনোদ মিশ্র। এর দেড় বছরের মধ্যে কমরেড জহর শহীদ হওয়ার পর সর্বভারতীয় স্তরে নতুন করে গ্রাম শহরে সামাজিক, রাজনৈতিক ও আদর্শগত ভাবে পার্টিকে ছড়িয়ে দেওয়ার কান্ডারী কমরেড বিনোদ মিশ্র।’

এখন কী ভাবে বর্তমান চিনকে দেখেন দীপঙ্কর?

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল এবং বরাহনগর আইএসআইয়ের প্রাক্তনী দীপঙ্কর বুঝিয়ে দিলেন, তাঁরা আপাতত আন্তর্জাতিকতাবাদের বদলে জাতীয়তাবাদেই বেশি নজর দিতে আগ্রহী। বর্তমান চিনকে আদৌ পছন্দ নয় বাইশ বছর ধরে পার্টির সাধারণ সম্পাদক থাকা দীপঙ্করের।

তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘চিনে যা হচ্ছে, তা আমাদের পছন্দ নয়। ওরা গণতন্ত্র মানছে না। মুসলিমদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। এটা একেবারে ভুল পথ।’

অতঃপর সংযোজন, ‘চিনের একটা ভালো দিক, তারা বিশ্বে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে ‘মেড ইন চায়না’ প্রোডাক্ট তৈরি করে। আর চিন এখনও পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে অস্ত্র কেনাবেচার প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে না। যে ভুল রাশিয়া করেছিল, সেই ভুল চিন এখনও পর্যন্ত করেনি।’

সারা বিশ্বে দক্ষিণপন্থী নেতাদের দাপট বাড়ছে, মানতে চাইলেন না। দেখালেন বলিভিয়ার মোরালেসের প্রত্যাবর্তনের ঘটনাকে। ইউরোপে সোশ্যালিস্টদের দাপটকে। এত বিভেদ তৈরি করেও ট্রাম্প এত ভোট পেলেন?

প্রশ্ন শুনে বললেন, ‘উনি তো এখানকার মতো বিভেদ তৈরি করেছেন। আর বাইডেনের জয়ের পিছনে বার্নি স্যান্ডার্সের মতো সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের বড় ভূমিকা রয়েছে।’

গুয়াহাটিতে জন্ম, আলিপুরদুয়ারে শৈশব। কয়েক যুগ দিল্লিবাসী দীপঙ্করের ঝরঝরে বাংলায় কোনও অবাঙালি টান নেই। শুধু এই জন্যই তাঁর চোখ এখন বাংলা ও অসমের নির্বাচনের দিকে নয়।

তাঁর বিশ্বাস, বাংলায় বিজেপির উত্থান ভয়ঙ্কর জায়গায় চলে যেতে পারে। সেটা আটকানো সবচেয়ে জরুরি এখন। তাঁর সাম্প্রতিক একটা কথা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চর্চা হচ্ছে।

তিনি বলেছিলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে বেশি আক্রমণ সবচেয়ে জরুরি। সিপিএম সহ রাজ্য বামফ্রন্টের নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁর বার্তা ছিল, ‘একটা গোটা রচনা তৃণমূল বিরোধিতা করে ফুটনোটে কিছু বিজেপি বিরোধিতা চলতে পারে না। বামেদের মূল নিশানা হওয়া উচিত বিজেপিকে হারানো।’

এখন বুঝছেন, ব্যাপারটা কঠিন। বামেদের ভোট চলে যেতে পারে রামে, এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

আপনার কি মনে হয়, সিপিএম নেতারা তৃণমূলের বদলে বিজেপিকে বেশি আক্রমণ করতে পারবেন?

দীপঙ্করের সহাস্য জবাব, ‘কালকেই গণশক্তিতে সীতারাম ইয়েচুরির বড় ইন্টারভিউ বেরিয়েছে। তার শিরোনাম কিন্তু খুব তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপিকে হারাতে গেলে তৃণমূলকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। ওরা আগে জোর দিচ্ছিল তৃণমূলকে হারানোর পর ওপর। এখন বিচ্ছিন্ন করার কথা বলেছে। মানে, বিজেপিকে হারানোর দিকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একটা ফারাক রয়েছে।’

এখানেই তুলে আনলেন আর একটা কথা। ‘বাংলায় শুনছি, একটা স্লোগান খুব শোনা যাচ্ছে। একুশে রাম, ছাব্বিশে বাম। আমার মনে হয়, এই স্লোগানে বামপন্থীদের উল্লাসের কারণ নেই। এটা বিজেপিরই তৈরি। ছাব্বিশ তো বহুদূর। ওরা যদি একুশে চলে আসে, রাজ্যের যে অবস্থা হবে, তাতে ছাব্বিশেও বামেদের আসা কঠিন হয়ে যাবে। এই যে বন্ধ ঘরে বসে এত কথা বলছি, বিজেপি এলে কিন্তু দরজা খুলে থানায় নিয়ে চলে যাবে।’

জানতে চাই, বিজেপিকে আটকাতে কি মমতার সঙ্গে জোট করতে পারেন?

শান্ত গলার দীপঙ্কর সামান্য উত্তেজনা এনে জবাব দেন, ‘মমতার সঙ্গে জোটের প্রশ্নই ওঠে না।’ বিহারে যেমন বিজেপির বিরুদ্ধে মহাগঠবন্ধন হয়েছিল, তা এখানে সম্ভব নয় তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায়। এখনও সিপিএমের সঙ্গে সিপিআইএমএলের জোট নিয়ে কথা হয়নি। আগে রাজ্য স্তরে কথা হবে। তারপর নয়াদিল্লিতে, জাতীয় স্তরে হবে। ঠিক করে ফেলেছেন, বাংলা নির্বাচনে প্রার্থী দেবেন। লকডাউনে হুগলিতে মাইক্রো ফিনান্সের সঙ্কট নিয়ে কাজ করেছেন আমাদের অজস্র মহিলা। আদিবাসীদের বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে। এ সব আন্দোলনের কয়েকজন নেতা নির্বাচনে লড়বেন। ‘বাংলায় আমাদের দুটো কাজ দরকার। একটা এজেন্ডা তৈরি করতে হবে। বিজেপির বিরুদ্ধে একমুখ হতে হবে। কেন্দ্রের দুর্নীতি যেন আড়ালে না থাকে। নোটবন্দি, লকডাউন, জিএসটির জন্য অর্থনীতি শেষ। মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করেছে ওরা।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্লাস পয়েন্ট ও মাইনাস পয়েন্ট কী?

বৈষ্ণবঘাটা থেকে গাড়ি যাচ্ছিল ক্রিক রো-তে পার্টি অফিসের দিকে।

রুবি হাসপাতালের মোড়ে প্রশ্নটা শুনে সিপিআইএমএল সাধারণ সম্পাদক শান্ত গলায় বলেন, ‘উনি যে গণতন্ত্রের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছেন, তা পূরণ করেননি। অনেক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে তাঁর দল।’

প্লাস পয়েন্ট?

দীপঙ্করের গলা ও রকমই স্থির। ‘নেত্রী হিসেবে তিনি যথেষ্ট উদ্যোগী, এ টুকু বলা যায়।’

পাঁচ বছর আগের বাংলার সঙ্গে এখনকার সঙ্গে ফারাক কী দেখছেন, প্রশ্নটা করে দেখা গেল, দীপঙ্কর সরাসরি বলেন, ‘বিজেপির অনেক সমর্থক বেড়েছে বাংলায়।’ সঙ্গে সংযোজন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার লোকের সংখ্যাও বেড়েছে।’

বিজেপি কি সোশ্যাল মিডিয়ার লড়াইয়ে আপনাদের হারিয়ে দিচ্ছে না?

দীপঙ্কর আগে টুইটারে বেশি সক্রিয় ছিলেন। এখন ফেসবুকে।

তাঁর পাল্টা মন্তব্য, ‘আমরাও এখন অনেক বেশি সক্রিয়। বিজেপির প্রচুর টাকা। তবু ওরা মোদীর বক্তব্যে লাইক করলে, আমাদের সমর্থকরা পাল্টা ডিসলাইক করে গিয়েছে। বিহারের নির্বাচনেও আমরা ছোট ছোট ভিডিয়ো ব্যবহার করেছি।’

করোনার জন্য কি সিএএ বিরোধী আন্দোলন ভাঙতে বিজেপির সুবিধেই হল?

জবাব এল, ‘দিল্লির দাঙ্গায় বেছে বেছে তাঁদেরই জড়ানো হল, যাঁরা এই আন্দোলনে ছিলেন। জেএনইউতে আমাদের যাঁরা ছিলেন। তবে আন্দোলন আবার হবে।’

তাঁদের পার্টিকে বিহারে বলে ‘মালে’ পার্টি। মার্ক্সবাদী, লেনিনবাদী বলে। কিন্তু দেশের এক নম্বর তথাকথিত ‘নকশাল’ পার্টির প্রধান কথায় আপাতত ভারত ‘বাঁচানোর’ ভাবনা।

বলছিলেন, কী ভাবে বাংলা-বিহার সীমান্তের কাছে কাটিহারের বলরামপুরে তাঁদের প্রার্থী মেহবুব আলম রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। মেহবুবের মামার বাড়ি মালদহের চাঁচলে। তিনিই বিহার বিধানসভায় সিপিআইএমএলের নেতা হয়েছেন।

দীপঙ্করের ধারণা, বিজেপি ভোট কাটতে বাংলাতেও বিহারের পথ নেবে।

যুক্তি দিলেন, ‘বিজেপি বিহারে আলাদা স্ট্র্যাটেজি করেছিল। বিজেপি দলিত ও পিছিয়ে পড়া জাতির মানুষদের সম্মান দেবার কথা বলে ঠকায়। বিহারে মাল্লা জাতির আইডেন্টিটি নিয়ে গড়ে ওঠা পার্টি ভিআইপিকে বিজেপি নির্বাচনে জোটসঙ্গী বানাল। দেখা গেল সেই পার্টির অধিকাংশ প্রার্থীই বিজেপির নেতা। তাদের নামে যে চারজন এমএলএ জিতলেন, সবাই বিজেপির পরিচিত মুখ, দুজন উচ্চবর্ণের। উত্তরপ্রদেশেও বিজেপি নানা ছোট পার্টি করেছে ভোট জেতার জন্য।’

তাঁর গলায় স্পষ্ট আক্ষেপ, বিহারে কংগ্রেসকে অত আসন ছাড়ার জন্য। তাঁরা ১৯ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১২টা জিতেছেন। ৬৩ শতাংশ সাফল্যের হার। কংগ্রেস সেখানে ৭০টায় প্রার্থী দিয়ে ১৯টি জিতেছে। সাফল্যের হার ২৭ শতাংশ।

ভারতে নকশাল সংগঠনগুলোর মধ্যে এত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। অন্তত গোটা তেইশ পার্টির হিসেব পাওয়া যায়। আপনারা জোট তৈরি করেন না কেন?

এম স্ট্যাট করা, পরিসংখ্যানের মেধাবী ছাত্র দীপঙ্কর হাসেন, ‘অত পার্টি ভারতে নেই। এ সব উইকিপিডিয়ার হিসেব।’

নির্বাচন কমিশনের খাতায় তাদের পার্টির নাম সিপিআইএমএল-লিবারেশন। কিন্তু পার্টির মুখপত্র দেশব্রতীতে ‘লিবারেশন’ শব্দটার উল্লেখ হয় না।

কেন আপনাদের পার্টির নামে লিবারেশন জুড়তে হল?

জাতীয় সম্পাদক উত্তর দেন, ‘কমিশন থেকে আমাদের বলা হল, শুধু সিপিআইএমএল বলা যাবে না। অন্য পার্টি আপত্তি করতে পারে। অন্য কিছু যোগ করতে হবে। বুঝলাম না, সিপিএম-সিপিআইয়ে যদি আপত্তি না থাকে, তা হলে সিপিআইএমএলে আপত্তি কেন? আমাদের পার্টির ইংরেজি ম্যাগাজিনের নাম লিবারেশন। তাই ওটা জুড়ে দিতে হল।’

‘লিবারেশন’ মানে মুক্তি।

দীপঙ্করদের কাছে এখন মানেটা, বিজেপির হাত থেকে মুক্তি। বিহারে পেতে পেতেও যা অধরা থেকে গিয়েছে।

সাক্ষাৎকারের শেষ কথাটা যেন বুকের গভীর থেকে উঠে আসে গভীর নিজস্ব বিশ্বাস হয়ে, ‘বিজেপি নামক বিপর্যয় থেকে দেশকে বাঁচানো। স্বাধীনতা আন্দোলনের ও শহীদদের স্বপ্নের দেশ গড়ে তোলা। দেশ ও সমাজকে বদলানো। এই তিনটে কাজ কিন্তু জানবেন এখন একই সূত্রে বাঁধা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here