বাংলায়  ১০ বছরে চাষিদের আয় বেড়েছে ৩ গুন # চাষিরা তো বটেই, গ্রামের গরু-মোষ-ছাগলও হেসে লুটোপুটি # সিঙ্গুরের আন্দোলন যেমন রাজনৈতিক ছিল, তেমনি পাঞ্জাবের কৃষক আন্দোলনও রাজনৈতিক # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
59
# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #
।।।।।।।।।। শ্যামলেন্দু মিত্র।।।।।।।।।।।।
বাংলায়  গত ১০ বছরে চাষিদের আয় বেড়েছে ৩ গুন। এটাই সরকারের দাবি।
একথা শুনে চাষিরা তো বটেই গ্রামের গরু-মোষ-ছাগলও হাসছে।
সব কথার একটা সীমা থাকা দরকার।
গ্রাম বাংলায়  খোলাবাজারে ধানের দাম ১২০০ টাকা কুইন্টল।
রাজ্য সরকারের সহায়ক মূল্য ১৮০০ টাকা কুইন্টল। তাও কুইন্টল প্রতি ৫/১০ কেজি ধুলো-ময়েশ্চার বাদ।
এইতো অবস্থা।
এক কুইন্টল ধানের উৎপাদন  খরচ ২০০০ টাকা কুইন্টল।
আর সরকার বলছে,,চাষিদের আয় ৩ গুন বেড়েছে।
আলু বীজের দাম ১০০ টাকা কেজি।
গত বছর চাষি আলু বিক্রি করেছিল ৮/১০ টাকা কেজিতে।
সেই আলু হিমঘরে  রেখে ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদরা লাভ পেল ১৫ টাকা কেজিতে।
২৭ টাকার আলু হিমঘর থেকে বেরনোর তা ৫ হাত ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে আসল ৪৫/৫০ টাকা কেজি। ২৭ টাকার আলুতে কাটমানি।
তাহলে লাভ কারা খেল?  চাষি না মধ্যস্বত্বভোগীরা?
পাঞ্জাবের চাষিদের আন্দোলন পুরোপুরি রাজনৈতিক।
কেন্দ্র সরকার যে কৃষি আইন বদল করেছে তা যথাযথ।
করপোরেট সেক্টর মোটা মূলধন নিয়ে ফসল কিনতে নামলেই চাষি ফসলের দাম পাবে।
না হলে চাষিকে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হবে। মুনাফা লুটবে ফড়ে ও মধ্যস্বত্বভোগীরা।
সিঙ্গুরে চাষিদের দিয়ে যে আন্দোলন করানো হয়,তা যে ভুল ছিল তা চাষিরা এখন বুঝতে পারছে।
 অভিনেতা-গায়ক দিলজিত্‍‌ দোসাঞ্জ পাঞ্জাবের বিক্ষোভকারী কৃষকদের শীতবস্ত্র কিনে দিতে এক কোটি টাকা দান করেছেন।
পঞ্জাবি গায়ক সিংগা নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারী কৃষকদের শীতের পোশাক, কম্বল কিনতে উড়তা পঞ্জাব অভিনেতা ১ কোটি টাকা দান করেছেন।
 শীতের মধ্যে রাজধানীর সীমানায় রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। তাঁদের কথা ভেবেই কোনও ঘোষণা ছাড়া গোপনে এই অর্থ দান করেন দিলজিত্‍‌।
সিংগা নিজের পোস্টে পঞ্জাবিতে লিখেছেন, ধন্যবাদ দাদা, তুমি কৃষকদের  গরম পোশাকের জন্য এক কোটি টাকা দান করেছ। আর কেউ সেটা জানে না। তুমি এটা পোস্টও করনি। আজকাল ১০ টাকা দান করেও মানুষ চুপ থাকে না।
শনিবার কৃষকদের বিক্ষোভে সামিল হন দিলজিত্‍‌। সিংঘু সীমান্তে দাঁড়িয়ে তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, কৃষকরা, আপনাদের কুর্নিশ। আপনারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এই ইতিহাস ভবিষ্যত্‍‌ প্রজন্মের কাছে গল্প করা হবে। কৃষকদের সমস্যাগুলি আর কেউ এড়িয়ে যেতে পারবেন না।
আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করতে চাই,সমস্যাগুলি থেকে মুখ ঘুরিয়ে রাখবেন না। কৃষকদের সমস্যা ছাড়া এখানে আর অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসে আছেন। কৃষকরা যা চাইছেন, সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here