বাংলায় বিধানসভা ভোটের আগে ভোলাটাইল সিচুয়েশনের ইঙ্গিত # শুভেন্দু অধিকারির নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ # মিম বাংলার ৮ জেলায় প্রার্থী দিতে চায় # বিজেপি বিরোধী বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল মহাজোটের পক্ষে কার্যত সওয়াল করলেন বাম নেতা সিপিআইএমএল লিবারেশনের সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
81
# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #
।।।।।।।।।। শ্যামলেন্দু মিত্র।।।।।।।।।।।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে একটা ভোলাটাইল সিচুয়েশন হতে যাচ্ছে ।
এই অস্থির অবস্থার মধ্যেই ভোট হবে।
বিহার ভোট অনেকগুলো অস্থির অবস্থা দেখিয়ে দিয়েছে।
নরেন্দ্র মোদির ক্যারিস্মাতে এনডিএ কোনওক্রমে গোল বাচিয়ে ক্ষমতা দখলে রেখেছে।
নীতিশকে এই অবস্থাতেও বিজেপি পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছে।
রামবিলাস পুত্র চিরাগ পাশোয়ানের দল নীতিশের দল জেডিইউকে বহু সিটে কুপোকাত করে দিয়েছে।
সর্বভারতীয় মিম অনেক আসনে ভোট কেটে মহাজোটের ক্ষতি করে বিজেপিকে সাহায্য করেছে। এবং ৫ টি সিট জিতে নিয়েছে।
কংগ্রেস বিহারে সেভাবে কিছু করতে পারেনি।
লালুপ্রসাদের ছেলে তেজস্বী ভাল ফল করেছে।
পাশের রাজ্যের ভোটের ফলাফলের প্রভাব পড়বে বাংলায়।
এর মধ্যে বাংলার রাজনীতিতে আপাত অরাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারির নতুন  রাজনৈতিক সমীকরণ । ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে ততই শুভেন্দু অধিকারি বাংলার রাজনীতিতে নতুন মুখ হিসেবে উঠে দাঁড়াবে।
বাংলায় রাজ্য শাসক তৃণমূল বনাম কেন্দ্রীয় শাসক বিজেপির মধ্যে মূলত লড়াই হবে।
 ওয়াটারলুর দিকেই এগোচ্ছে।
ছোট ছোট দল বিহারের মতো বাংলাতেও এবারে দাগ ও ভাগ বসাতে চাইছে।
স্বল্প আসনে লড়ে বিহারে ১৬টি  সিট দখল করার পরে  বাম নেতা সিপিআইএমএল লিবারেশনের সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বাংলার বিধানসভা ভোটে  এরাজ্যের বাম নেতাদের নয়া  রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন।
দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বাংলার বাম নেতাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছেন, সবার আগে ঠিক করতে হবে বাংলায় প্রধান রাজনৈতিক শত্রু কে। বামেরা বাংলার মানুষের কাছে নিজেদের উদ্দেশ্য পরিস্ফুট করতে পারেনি। সেটাই মস্তবড় সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল না বিজেপি?  কে তাঁদের প্রধান শত্রু?   এই মুহূর্তে তা নিরূপণ করে মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। সেইমতো সাজাতে হবে প্রচার কৌশল।
দীপঙ্কর ভট্টাচার্য মতে, এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত তৃণমূলের আগে বিজেপির বিরোধিতা। বিজেপির হাত থেকে বাংলা তথা দেশকে রক্ষা করতে ধর্মনিরপেক্ষ জোট গড়তে হবে। আর বামপন্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। এই মুহূর্তে গণতন্ত্রের প্রধান শত্রুর নাম বিজেপি। বাংলা সহ গোটা দেশে ভয়ঙ্কর এই সাম্প্রদায়িক শক্তির মোকাবিলা করতে হবে।
সিপিআইএমএল লিবারেশেনর সম্পাদকের কথায়, বামপন্থীদের আবার মাটির কাছাকাছি ফিরে যেতে হবে। সংগঠনকে আরও পোক্ত করতে হবে । বামপন্থাকে শক্তিশালী না করতে পারলে বিজেপিকে ঠেকানো যাবে না। নতুন নতুন মুখ তুলে আনতে হবে। যেমনটা আমরা বিহারে করতে পেরেছি। সেটা বাংলাতেও করতে হবে।
 তিনি বলেন, বাম নেতাদের একটা ভুল হচ্ছে বাংলায়। সেই ভুলটা হল, তৃণমূল আর বিজেপিকে তাঁরা একই গোত্রে ফেলেছে। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে কি দুই পার্টিকে এক গোত্রে ফেলা যায়? ফেলা যায় না। আগে বিজেপির মোকাবিলা করতে না পারলে বামপন্থাই বিনষ্ট হয়ে যাবে।
দীপঙ্করবাবু বক্তব্য, বাংলায় বিজেপি বিরোধী শক্তিদের এবার দেওয়াল লিখন পড়তে হবে সঠিক করে। আমি এখনও জোট করার কথা বলছি না। কিন্তু বাম নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই তৃণমূলকে বিজেপির সঙ্গে একাসনে রেখে আক্রমণের পরিবর্তনে বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
এদিকে,২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিশেষ সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। যা বঙ্গের মাটিতে পদ্মের প্রস্ফুটিত হওয়ার বড় ইঙ্গিত দিয়েছিল।
লোকসভা  ভোটের সময়েই বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার কথা বলেছিলেন সর্বভারতীয়  মিম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েসি।
বিহার নির্বাচনে সাফল্যের পরে সেই দাবি তিনি আরও জোরালো করেছেন,  আসছি বাংলায়
এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিম নেতা এবং দলের মুখপাত্র আসিম ওয়াকার বলেছেন, আমরা বিজেপিকে হারাতে চাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আমাদের সঙ্গে কথা বলে একসঙ্গে এগোতে চান, দরজা খোলা রয়েছে।
বিহারে অবিজেপি মহাজোট গড়েছিল কংগ্রেস এবং আরজেডি।
তেজস্বী যাদবের সেই জোটে অনেক রাজনৈতিক দল  সামিল হলেও জায়গা হয়নি মিমের।
 ফলাফলে দেখা গিয়েছে পরাস্ত হয়েছে মহাজোট।
মিম প্রার্থী দেওয়ার ফলে মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে বিহারে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত তেজস্বীরা। লাভবান বিজেপি।
আসিম ওয়াকার অবশ্য বিহারে ফের একবার এনডিএ সরকার গঠিত হওয়ার জন্য তেজস্বী যাদবকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন।
 মিম মুখপাত্র বলেছেন, আসাদুদ্দিন ওয়াইসি পাটনায় সাংবাদিক সম্মেলন করে তেজস্বীকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছিলেন। তেজস্বী যাদব মুখ্যমন্ত্রী হতে চাইলে আমরা বাধা দেব না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তিনি। আমরা সঙ্গে থেকে জোট গড়ে লড়তে পারি। কিন্তু তাঁকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কিন্তু তেজস্বী এতটাই অহঙ্কারী যে কথা বলতে আসেননি।
এই পরিস্থিতিতে বাংলার ৮ জেলায় মিম প্রার্থী দিতে চাইছে। যদি তাই হয়,তাহলে বিহারের মতো বাংলাতেও মিম ২/৫ টা সিট পেয়ে যেতে পারে। আর তাতে কাদের ক্ষতি ও কাদের লাভ হবে তা সহজেই অনুমেয়।
সিপিআইএমএল নেতা  বাংলায় বিজেপি বিরোধী  বাম-কং-তৃণমূল জোটের পক্ষেই কার্যত সওয়াল করেছেন।
এর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারির নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ বাংলাকে নতুন পথ দেখাতে পারে।
ফলে বাংলায় ভোটের আগে ভোলাটাইল সিচুয়েশন যে হতে যাচ্ছে তা নিশ্চিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here