বাংলার সব মানুষের জন্য  বিনা প্রিমিয়ামে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি  ঘোষণা করেছেন তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি # ক্লাব ও পুজো কমিটিকে কোটি কোটি টাকা অনুদান দেওয়া কোনও কাজের কাজ নয়# সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর প্রকল্প দরকার # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
46

# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

।।।।।।।।। শ্যামলেন্দু মিত্র।।।।।।।।।।

বাংলার সব মানুষের জন্য  বিনা প্রিমিয়ামে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি  ঘোষণা করেছে তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি।

এটাই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সত্যিকারের কাজ।

ক্লাব ও পুজো কমিটিকে কোটি কোটি টাকা অনুদান দেওয়া কোনও কাজের কাজ নয়।

সাম্প্রতিক পুজোর সময় পুজো কমিটি পিছু ৫০,০০০ টাকা অর্থাৎ  সব মিলিয়ে ১৮৫ কোটি টাকা রাজ্য সরকার দান খয়রাতির কথা ঘোষণা করে।

তার আগে ক্লাবকে বিভিন্ন ক্ষেপে কয়েক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

করোনার মধ্যেও থানার মাধ্যমে ক্লাবকে টাকা দেওয়া হয়েছে।

এতে জনমানসে বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ে।

ইমাম ও পুরোহিত ভাতা নিয়েও মানুষ অসন্তুষ্ট।

সেই জায়গায় মানুষের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব যে সরকার নিচ্ছে,এটা নিসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

কোনটা সরকারের কাজ আর কোনটা সরকারের কাজ নয় এটা সরকারকেই ভাবতে হবে।

ক্ষমতা পেয়েছি বলে যা ইচ্ছে তাই করব, আর মানুষ তা মুখ বুজে মেনে নিচ্ছে তা নয়।

মানুষ ভোট দেয়। সেই ভোটে জিতে রাজনৈতিক দল ৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় যায়। সরকার গঠন করে।

আসলে সরকার হল মানুষের কাস্টোডিয়ান।

মানুষের ভালমন্দ দেখা সরকারের কাজ।

সরকারে এসে ক্ষমতা পেয়েছে বলে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে না। ক্ষমতার বলে যা ইচ্ছে তাই করলে মানুষ তা সমর্থন করে না।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়……………………

১) এবার থেকে রাজ্যের সব পরিবারকে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে৷

২) তবে অন্য কোনও সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় থাকলে এই সুবিধে পাওয়া যাবে না ৷

৩) আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এই ঘোষণা কার্যকর করা হবে৷

৪) ইতিমধ্যেই রাজ্যের সাড়ে সাত কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় আছেন৷

৫) রাজ্যের আরও আড়াই কোটি মানুষকে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷

৬) রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকেই স্বাস্থ্য সাথীর স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে৷

৭)  স্বাস্থ্য সাথীর স্মার্ট কার্ড দেখালে বেসরকারি হাসপাতালেও ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে৷

৮) প্রতি বছর পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যাবে এই প্রকল্পে৷

৯) স্মার্ট কার্ডে পরিবারের প্রত্যেকের নাম থাকবে৷

১০) ১ ডিসেম্বর থেকে দুয়ারে-দুয়ারে সরকারি প্রকল্প শুরু হলে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্ত করা যাবে৷

১১) ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০০ হাসপাতাল স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে নথিভুক্ত আছে৷

১২) সরকারি হাসপাতালে তো বিনা পয়সাতেই চিকিৎসা হয়।

১৩)  বেসরকারি হাসপাতালেও বিনা পয়সায় চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যাবে এই কার্ডে৷

১৪) রাজ্যের পাশাপাশি ভেলোরের হাসপাতালগুলি ও  এইমস-এর মতো হাসপাতালেও এই কার্ডের সুবিধে পাওয়া যাবে৷

১৫) পরিবারের প্রধান মহিলা সদস্যের নামে এই স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে৷

১৬) এর ফলে মহিলাদের ক্ষমতায়ণও হবে ৷

১৭)  এই পরিষেবা দিতে প্রতি বছর রাজ্যের ২০০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে৷

১৮) এই পরিষেবা আমাদের রাজ্যে সামাজিক সুরক্ষায় নতুন মুকুট যুক্ত করল৷

১৯) সরকার যখন ১ ডিসেম্বর থেকে ২  মাস ধরে দুয়ারে দুয়ারে ক্যাম্প করবে তখন একদিন গিয়ে নাম লিখিয়ে এলেই হবে৷

২০)  কার্ড তৈরি হয়ে গেলেই জানানো হবে।

২১) কার্ড নিয়ে আসতে বলা হবে৷

২২) সমাজের সবস্তরের মানুষই স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধে পাবে৷

২৩) ইতিমধ্যেই  রাজ্য সরকারের এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প গোটা বিশ্বেই নজির সৃষ্টি করেছে ৷

২৪)  আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ৬০%  টাকা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

২৫) বাকি ৪০% টাকা  রাজ্য সরকারকে দিতে বলা হচ্ছে !

# সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা অর্থাৎ  মেডিক্লেমের প্রিমিয়াম ২ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

# ৫ লাখ টাকার মেডিক্লেমের প্রিমিয়াম বেড়ে দাড়িয়েছে বছরে ৫০,০০০ টাকা।

# সেখানে রাজ্য সরকার পরিবার পিছু ৫ লাখ টাকার মেডিক্লেমের জন্য কোনও প্রিমিয়াম নিচ্ছে না।

# বিশ্বের বহু দেশে সব নাগরিকের জন্য সামাজিক সুরক্ষায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পেনশন চালু আছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here