বাংলার ভোটের মুখে বিজেপি সাংসদ সুব্রামনিয়ান স্বামীর রবীন্দ্রনাথের জাতীয় সঙ্গীত বাতিল করার দাবিতে মোদিপক্ষরা যারপরনাই বিরক্ত ও বিব্রত # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
46
# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #
।।।।।।।।।।  শ্যামলেন্দু মিত্র ।।।।।।।।।
কিছু দিন আগে বাংলাদেশের এক গায়ক সেদেশের জাতীয় সঙ্গীত বদলের দাবি তোলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমার সোনার বাংলা কেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হবে?  এটা ছিল প্রশ্ন।
রবীন্দ্রনাথের বদলে বাংলাদেশের এক কবির গানকে জাতীয় সঙ্গীত করার দাবি তোলা হয়।
যাইহোক সেই দাবি পাত্তা পায়নি বাংলাদেশের  আপামর  মানুষের কাছে।
বাংলাদেশে এখন আবার নতুন উপদ্রব।
বঙ্গবন্ধু সেখ মুজিবের মুর্তি ভাঙো।
কুষ্ঠিয়াতে ভাঙাও হয়েছে।
মৌলবাদিদের বক্তব্য, ইসলামে মূর্তির স্থান নেই।
তাই জাতির জনক হলেও তার মূর্তিও দেশে থাকবে না।
শেষ পর্যন্ত ঢাকা হাইকোর্ট সেদেশের সরকারকে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ও মুরালের নিরাপত্তা জোরদার করতে বলেছে।
ভারতের মুসলমানরা  আবার বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম মানে না।
এবারে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত  বাতিলের দাবি তুলেছেন বিজেপি সাংসদ সুব্রামনিয়ান  স্বামী।
স্বামীকে বিজেপি সেভাবে পাত্তা দেয় না।
তিনি প্রথম থেকে বিজেপি ছিলেন না। তিনি জনতা পার্টি করতেন।
স্বামী আসলে ভারতের অর্থমন্ত্রী হতে চান।
কিন্তু বিজেপি তাকে বিশ্বাস করে না।
তিনি কখন যে কী করেন তা কেউ বুঝতে পারে না।
 বিজেপি সাংসদ হয়েও স্বামী বিজেপিকে অনেক সময় তুলোধুনো  করেন।  প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন প্রকাশ্যে।
তিনি  কথায় কথায় মামলা ঠোকেন।
এবারে তিনি রবীন্দ্রনাথের জাতীয় সঙ্গীত  বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
স্বামী এই ব্যাপারে আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন রবীন্দ্রনাথের জাতীয় সঙ্গীত বাতিল করতে হবে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে।
বাংলার বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সঙ্গী নেতা-মন্ত্রীরা গত ২ বছরে নানা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম বারবার টেনে এনেছেন।
 এ বারে সেই রবীন্দ্রনাথের লেখা দেশের জাতীয় সঙ্গীতেরই বদল চেয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন  বিজেপির সাংসদ  সুব্রমনিয়ান স্বামী।
নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে সেই দাবির কথা লিখেওছেন তিনি।
 নরেন্দ্র মোদি  ক্ষমতায় আসার পরে সঙ্ঘের শিক্ষা সেলের নেতা দীননাথ বাত্রা এনসিইআরটি’র পাঠ্যক্রম থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা বাদ দেওয়ার সুপারিশও করেন।
নরেন্দ্র মোদি অবশ্য বাংলার বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে গত ২ বছরে নানা সময় রবীন্দ্রনাথের নানা কবিতা আবৃত্তি করেছেন।
তাঁর দলের অন্য নেতারাও ইদানীং বাংলায় এলে রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করতে ছাড়েন না।
এই অবস্থায় সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর টুইট বিজেপিকে বিপদে ফেলেছে।
তাতে মোদিপক্ষ স্বামীর উপর যারপরনাই বিরক্ত ও বিব্রত।।।।।
দেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ নিয়ে সুব্রমনিয়ান স্বামীর  আপত্তি কেন?
বরিষ্ঠ এই বিজেপি সাংসদের দাবি………………..
১)  শুধু আমার দাবি নয়, দেশের যুব সমাজের বড় অংশের মনের কথা আমি বলছি।
 ২) আমার আপত্তি জাতীয় সঙ্গীতে ‘সিন্ধু’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে।
৩)  বর্তমান জাতীয় সঙ্গীতের কিছু কিছু শব্দ (সিন্ধু) অনাবশ্যক ধন্দ তৈরি করে।
৪) বিশেষ করে স্বাধীনতা-পরবর্তী পরিপ্রেক্ষিতে।
৫) রবীন্দ্রনাথের জন গণ মন শব্দের বদলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আইএনএ)-র গাওয়া ‘জন গণ মন’র আদলে লেখা অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় সঙ্গীত ‘কাওয়ামি তারানা’র প্রথম পংক্তি ‘শুভ সুখ চ্যান’ গানটি ব্যবহারের পক্ষে আমি সওয়াল করেছি।
 ১৯৪৩ সালে সুভাষচন্দ্র বসুর নির্দেশে আইএনএ-র দুই সদস্য মুমতাজ হোসেন এবং কর্নেল আবিদ হাসান সাফরানি গানটি লিখেছিলেন।
 সুর দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন রাম সিংহ ঠাকুর।
রবীন্দ্রনাথের ‘জন গণ মন’-র প্রথম পংক্তিটি জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়া হয়।  তাতে ৫২ সেকেন্ড সময় লাগে।
 আইএনএ-র ‘কাওয়ামি তারানা’র প্রথম পংক্তিটি গাইতে সময় লাগে ৫৫ সেকেন্ড।
জাতীয় সঙ্গীতের শব্দ বদল প্রসঙ্গে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করেছেন স্বামী।
তা হল, ১৯৪৯ সালে রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেন, জাতীয় সঙ্গীতের শব্দ পরিবর্তন বা সংশোধন করা যেতে পারে।
ভারতের জাতীয় সঙ্গীত থেক্র  সিন্ধু শব্দটি বাদ দিলে আরএসএসের অখণ্ড ভারতের তত্ত্বই যে প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়, সে কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকে।
বিজেপি সাংসদ হিসেবে স্বামী কি তা হলে সঙ্ঘের তত্ত্ব এবং স্বপ্নকেই আঘাত করলেন?
স্বামী  অবশ্য এই বিতর্কে  ঢুকতে চাননি।
তাঁর আশা, আগামী বছর ২৩ জানুয়ারির মধ্যে  জাতীয় সঙ্গীতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করবে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here