ফেসবুকে লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সুজিত রায় # এলাকার মানুষের সমস্ত প্রয়োজন এবং দাবি-দাওয়াকে উপেক্ষা করে ও এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার পেটে লাথি মেরে বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতালে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার

0
53

ফেসবুকে লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সুজিত রায় #

এলাকার মানুষের সমস্ত প্রয়োজন এবং দাবী দাওয়াকে উপেক্ষা করে, এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার পেটে লাথি মেরে বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে কোভিড  হাসপাতালে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

কার উর্বর মস্তিস্কের ফসল এই সিদ্ধান্ত তা বলতে পারব না।

কিন্তু এত ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অত্যন্ত খোলামেলা এবং প্রায় নিয়ন্ত্রণবিহীন এই ছোট্ট হাসপাতালটিকে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে নির্বাচন করা হল কোন যুক্তিতে তার কোনও ব্যাখ্যা দেবার কেউ আছেন কিনা জানিনা।

হাসপাতালের পশ্চিমদিকে একেবারে গায়ে আমাদের অপরাজিতা আবাসনে ২০টি পরিবারের বসবাস।

এখানে রয়েছেন কোমর্বিডিটি সহ বহু বয়স্ক মহিলা ও পুরুষ।

রয়েছেন বেশ কিছু কমবয়সী ছেলেমেয়ে।

সঙ্গে দেওয়া ছবিগুলি দেখুন।

আমার ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে তোলা হাসপাতালের ছবি।

বুঝতেই পারছেন হাসপাতালের অবস্থান।

আশেপাশে অজস্র পুরনো আমলের বাড়ি।

এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা হল, গত মার্চ মাস থেকে এই এলাকায় কখনও কোনও সরকারী সংস্থাকে স্যানিটাইজার স্প্রে করতে দেখা যায়নি।

এমনকি ব্লিচিং পাউডারও ছড়াতে দেখা যায়নি।

আমাদের আশঙ্কা কোভিড হাসপাতাল হওয়ার পরেও এসব ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে  ঠেলে দেওয়া হচ্ছে  স্থানীয় বাসিন্দাদের।

হাসপাতালের পূর্বদিকে ঘন বসতি। প্রচুর বয়স্ক মানষ রয়েছেন এই এলাকায়। রয়েছে প্রচুর শিশুসন্তান। সেই সব বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ ফুট দুরত্বে তৈরি হয়েছে  কোভিড রোগীর মৃতদেহ রাখার ব্যবস্হা।

এই এলাকায় সরকারি হাসপাতাল ছিল একটিই। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভরসা।

কোভিড হাসপাতাল হলে সাধারণ মানুষের সব চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে।

হাসপাতালে জায়গাও কম।

হাসপাতাল সংলগ্ন দোকান বাজারহাট সব বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের রুজি রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে।

একাধিক প্রতিবাদপত্র পৌঁছেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

সমব্যাথী হলেও তাঁরা কিছু করতে পারছেন না।

স্থানীয় বিধায়ক তাপস রায় জানিয়েছেন, তিনি কিছুই জানেন না।

অর্থাৎ সরকার এখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকেও অস্বীকার করছেন।

তাহলে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রয়োজন কিসের?

পুলিসকে জানানো হয়েছে।

পুর প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা!

আমরা সরকার, বরানগর পুরসভা, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ , সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং সুস্থ চেতনাসম্পন্ন মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে দ্বিতীয়বার পর্যালোচনা করুন।

এতগুলি মানুষকে চরম বিপদের মধ্যে ঠেলে দেবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here