ফুটবলার জীবনের শুরুতেই মারাদোনার একটা বিশ্রী অভিজ্ঞতা হয়ে ছিল # ফেসবুকে লিখেছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক রূপক  সাহা  

0
117

ফেসবুকে লিখেছেন  বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক রূপক  সাহা #

ফুটবলার জীবনের শুরুতেই মারাদোনার একটা বিশ্রী অভিজ্ঞতা হয়ে ছিল।

তখন তাঁর বয়স তেরো চৌদ্দ।

দেশের হয়ে উরুগুয়েতে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে গেছেন।

কর্তারা প্লেয়ারদের হোটেলে না রেখে একেক জনকে একেক পরিবারের সঙ্গে রেখে ছিলেন সেখানে।

সব প্লেয়ার ভালো ভালো পরিবারের সঙ্গে ছিলেন।

কিন্তু মারাদোনা বস্তির ছেলে।

তাই ঠাই পান কালো চামড়ার. এক বেকার যুবকের ঘরে।

মারাদোনা খুব দুঃখ পেয়ে ছিলেন এই অবহেলায়।

বাড়ি ফিরে মাকে জিজ্ঞেস করে ছিলেন, “ওরা আমার সঙ্গে এই রকম ব্যবহার করল কেন মা? ”

তোতা বলেন, “মন খারাপ করিস না । ভাল খেলে তুই উত্তর দিয়ে এসেছিস।”

মারাদোনার সারা জীবন জুড়ে ছিলেন তাঁর মা তোতা। পরিবারের প্রতি তাঁর অদ্ভূত টান।

বিরাশির বিশ্বকাপের আগে জার্মানির সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ রিভারপ্লেট এর মাঠে।

লোথার মাথুজ খেলতেই দিলেন না তাঁকে। গ্যালারি থেকে বিদ্রুপ ভেসে আসতে লাগল।

সেই সঙ্গে মা বাপ তুলে গালিগালাজ। মারাদোনা সহ্য করতে না পেরে এক দর্শককে মেরে বসলেন।

ব্যাস পরদিন তাঁর তুমুল সমালোচনা হল। রেগে মারাদোনা চলে গেলেন তাঁর পৈতৃক ভিটেতে|

Buenos Aires থেকে অনেক দূরে eskino বলে এক জায়গায়। সেবার বিশ্ব কাপ টিমের কোচ লুই সিজার মেনোতি।

বারবার তিনি লোক পাঠানো সত্ত্বেও মারাদোনা বসে রইলেন সেখানে। বলে পাঠালেন, তিনি মাছ ধরায় ব্যস্ত।

পাল্টা প্রশ্ন করলেন তিনি, “একটা ম্যাচ বাজে খেললেই কেন লোকে গালি দেবে মা তুলে? আমার মা হলেন পৃথিবীর সেরা মা। ওঁর জন্য আমি সব কিছু ত্যাগ করতে পারি।”

মারাদোনার জীবন কাহিনী সম্পূর্ণ হবে না মেনোতির কথা না বললে।

আর্জেন্টিনা Racing আর boca juniors দুটো ক্লাবে তিনি খেলেছেন।

পরে কিছুদিন সাংবাদিকতা করে menotti কোচিং শুরু করেন।

ওখানে বড় ক্লাব গুলি আগে কড়া man marking আর kick and run style ফুটবল খেলত।

মেনোতি ছিলেন সৃষ্টি শীল ফুটবলের প্রবক্তা, যা দেখতে ভালো লাগে।

তাঁর টিম huracan এই স্টাইলে খেলেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জাতীয় দলের কোচ করার দাবি ওঠে। 1978 সালে সেবার দেশের মাটিতে বিশ্ব কাপ।

চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে। জনতার দাবিতে মেনোতি কোচও হয়ে গেলেন। এবার দাবি উঠল, মারাদোনাকে দলে নিতে হবে। মাত্র সতেরো বছর বয়স, অত কম বয়সী একজনকে কি দলে নেওয়া উচিত?

প্রচণ্ড বিতর্ক শুরু হল সারা দেশে। একদল বললেন, নেওয়া উচিত। অন্য দল তা চাইলেন না। এদের কথা শুনেই মেনোতি চূড়ান্ত দলে রাখলেন না মারাদোনাকে।

পরে এ নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছিল। কেউ কেউ বলেছিলেন, মেনোতি আগেই বুঝতে পেরে গেছিলেন, সামরিক শাসকরা ছলে বলে টিমকে চ্যাম্পিয়ন করাবেন।

জয়ের কৃতিত্ব তিনি একাই নিতে চান। মারাদোনা দলে থাকলে সেটা সম্ভব হতো না। তাই তিনি মারাদোনাকে দেন।

আবার কেউ কেউ এটাও বলেন, যে টিমে উনি খেলতেন, সেই আর্জেন্টিনোস জুনিয়রস চায়নি, উনি বিশ্ব কাপে খেলুন। দারুণ খেললে উনি অনেক অর্থ চেয়ে বসতেন। যা দেওয়ার ক্ষমতা ক্লাবের ছিল না।

এত রাজনীতি বোঝার বয়স তখন মারাদোনার হয়নি। বস্তির ঘরে শুয়ে তিনি বোচিনির মতো ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। দলে সুযোগ না পেয়ে তিনি কেঁদে ঘর ভাসিয়ে দিলেন।

সেবার গায়ের জোরে চ্যাম্পিয়ন হল আর্জেন্টিনা। পেরুর সঙ্গে got up match খেলেছিল , মেনোতি dope করাতেন।

পরে জানা গেছিল, অন্যের  মুত্র নমুনা পাঠানো হত dope সেন্টার গুলোতে।

ফলে কোনও প্লেয়ার ধরা পড়েননি।

এর চার বছর পর মারাদোনা শোধ তোলেন সুদে আসলে।

ইতালি বিশ্ব কাপে কোচ মেনোতি কে ডুবিয়ে দিয়ে। তখন তিনি পুরোপুরি বিদ্রোহী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here